বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না যাওয়ার নেপথ্য
বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না যাওয়ার নেপথ্য
বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না যাওয়ার নেপথ্য
ক্রিকেটের বৃহত্তম আসরে খেলতে না পারা যে কোনো খেলোয়াড়ের জন্য ব্যথার বিষয়, সেই অনুভূতিটা বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও সমর্থকের কাছেও প্রযোজ্য। তবে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দল মাঠে না নামার সিদ্ধান্তের পেছনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক প্রেক্ষাপট এখন ধীরে ধীরে প্রকাশিত হচ্ছে।
বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে দূরে রাখার নেপথ্য কারণ সরাসরি জানাতে গিয়ে আসিফ নজরুল বিবিসি বাংলাকে বলেন, “কেন সিদ্ধান্তটা নিলাম? প্রথমবার তো ফেসবুকে বলা হলো, সরকার সিদ্ধান্ত নেয়নি। তারপর প্রাথমিক যে রিপোর্টটা, এটা কিন্তু বিবিসি বাংলা অনুবাদ করে ছাপিয়েছিল। আইসিসির ইন্ডিপেন্ডেন্ট এসেসমেন্টে তিনটি কথা বলেছিল যেটা দেখে আমরা হতবাক হয়ে গেলাম। বলেছে তিনটি কারণে বাংলাদেশ দলের ঝুঁকি বাড়তে পারে।”
তিনি বিস্তারিত জানালেন, কী কারণে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও ঝুঁকি বিষয়ক আশঙ্কা ছিল, “এক হচ্ছে মুস্তাফিজ খেললে, দ্বিতীয়ত বাংলাদেশের দর্শকরা এদিক-সেদিক ঘুরাঘুরি করলে, তৃতীয়ত যেহেতু নির্বাচন আছে… এই তিনটি জিনিস দেখার পর মনে হয়েছে, ওরা কি আমাদের সাথে মশকরা করতেছে? তিনটা জিনিসই তো হবে। মুস্তাফিজ অবশ্যই খেলবে, বাংলাদেশের দর্শকরা অবশ্যই যেখানে-সেখানে ঘুরে ফেরাবে, ইলেকশন তো হবে। আমরা যখন তীব্র প্রতিবাদ জানালাম, তখন আরেকটা রিপোর্ট দিয়ে হালকাভাবে কথাটা এড়িয়ে গেল। তখন মনে হয়েছে তারা আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে সিরিয়াস না।”
আসিফ নজরুল আরও প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পক্ষের প্রতি অমর্যাদা বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত অবহেলা দেখেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল,
“ভারতীয় বোর্ড, কলকাতার দল না কিন্তু সরকার, তাদের পক্ষ থেকে একবারও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়নি যে ভাই তোমরা চিন্তা করো না আমরা দেখছি। অবশ্যই নিরাপত্তা নিয়ে আমরা চিন্তায় ছিলাম। সামনে নির্বাচন ছিল। ওখানে যদি একটা ভয়াবহ ঘটনা ঘটত এটার রেশ কীভাবে আসতো বাংলাদেশের ওপর।”
বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় ইতিহাসে এই সিদ্ধান্ত একটি সংবেদনশীল অধ্যায় হিসেবে ধরা হয়, যেখানে খেলার স্বপ্ন ও জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে সূক্ষ্ম সামঞ্জস্য রক্ষা করার প্রয়োজন অনুভূত হয়েছিল।
