ফিটনেস টেস্টে পিছিয়ে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা, অনিশ্চয়তায় হাসারাঙ্গা, পাথিরানা

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ: 1 ঘন্টা আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
ফিটনেস টেস্টে পিছিয়ে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা, অনিশ্চয়তায় হাসারাঙ্গা, পাথিরানা

ফিটনেস টেস্টে পিছিয়ে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা, অনিশ্চয়তায় হাসারাঙ্গা, পাথিরানা

ফিটনেস টেস্টে পিছিয়ে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা, অনিশ্চয়তায় হাসারাঙ্গা, পাথিরানা

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে (এসএলসি) ফিটনেস ইস্যু এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় চুক্তিভুক্ত ৪৫ জন ক্রিকেটারের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ২৪ জন ফিটনেস টেস্টে উত্তীর্ণ হয়েছেন। বাকি ২১ জনের মধ্যে ১৫ জন এখনো বাধ্যতামূলক এই পরীক্ষা দেননি, আর অন্তত ৬ জন একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

এসএলসি জানিয়েছে, যারা এখনো পরীক্ষা দেননি তাদের ক্ষেত্রে কারণ ভিন্ন কেউ ইনজুরিতে ভুগছেন, আবার কারও ক্ষেত্রে রয়েছে লজিস্টিক সমস্যা। তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও মথিশা পাথিরানার পরিস্থিতি, কারণ দুজনই আইপিএল ২০২৬ এ অংশ নেওয়ার কথা।

হাসারাঙ্গার অবস্থা তুলনামূলক বেশি অনিশ্চিত। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, তিনি দ্রুত মাঠে ফিরতে পারবেন এমন সম্ভাবনা কম। গত ফেব্রুয়ারিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিং ছিঁড়ে যাওয়ার পর থেকেই মাঠের বাইরে রয়েছেন এই লেগ স্পিনার। এখনো তিনি এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) এর জন্য আবেদনও করেননি, আর কবে ফিটনেস টেস্ট দেবেন সেটিও অনিশ্চিত।

অন্যদিকে, পাথিরানা কিছুটা ইতিবাচক অবস্থায় আছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে কাফ ইনজুরিতে পড়ার পর তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং নেটে বোলিং শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে তিনি আইপিএলের জন্য ভারতে যোগ দিতে পারবেন। তার ফিটনেস টেস্ট আগামী সপ্তাহে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, ফিটনেস সংস্কারে বড় পরিবর্তন এনেছে এসএলসি। শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার নয়, ঘরোয়া ন্যাশনাল সুপার লিগেও চালু হয়েছে নতুন নিয়ম। সেখানে তুলনামূলক সহজ পরীক্ষায় ২ কিলোমিটার দৌড় ও স্কিন-ফোল্ড টেস্ট পাস করলেই চলবে। তবে কেন্দ্রীয় চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারদের জন্য রয়েছে আরও কঠিন মানদণ্ড ২০ মিটার স্প্রিন্ট, ৫-০-৫ অ্যাজিলিটি টেস্ট, কাউন্টার মুভমেন্ট জাম্পসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় মোট ২৯ পয়েন্টের মধ্যে কমপক্ষে ১৭ পয়েন্ট পেতে হবে।

ঘরোয়া এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ৮৭ জন ক্রিকেটারের মধ্যে ২৩ জন ইতোমধ্যে ন্যূনতম ফিটনেস মানদণ্ডে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের আগামী ১৯ এপ্রিলের মধ্যে আবার পরীক্ষায় পাস করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তীর্ণ হতে না পারলে তারা ম্যাচ খেলতে পারলেও পাবেন না ম্যাচ ফি, এমনকি ভবিষ্যতে দলে জায়গা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে, কঠোর ফিটনেস নীতির কারণে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি দুই পর্যায়েই।