নারী-পুরুষ খেলোয়াড়দের বেতন ও ম্যাচ ফি বাড়াল বিসিবি

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ: 6 ঘন্টা আগে আপডেট: 38 মিনিট আগে
নারী-পুরুষ খেলোয়াড়দের বেতন ও ম্যাচ ফি বাড়াল বিসিবি

নারী-পুরুষ খেলোয়াড়দের বেতন ও ম্যাচ ফি বাড়াল বিসিবি

নারী-পুরুষ খেলোয়াড়দের বেতন ও ম্যাচ ফি বাড়াল বিসিবি

বাংলাদেশ ক্রিকেটের কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল নতুন নেতৃত্বের প্রথম বৈঠকেই। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ভেঙে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটি। প্রথম সভা শেষেই নারী ও পুরুষ উভয় বিভাগের খেলোয়াড়দের জন্য বেতন ও ম্যাচ ফি বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল।

নতুনভাবে গঠিত এই অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই একটি পরিচিতিমূলক বৈঠকে অংশ নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার সন্ধ্যায় মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম আনুষ্ঠানিক সভা। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানদের নাম ঘোষণার পাশাপাশি ক্রিকেটারদের আর্থিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনার বিষয়টি সামনে আনেন তামিম, যেখানে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ঘরোয়া পর্যায়ের খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক।

সভায় আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল নারী ক্রিকেটারদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য। বিষয়টি তুলে ধরে তামিম ইকবাল বলেন, "আজকে কয়েকটা জিনিস দেখে খুবই অবাক হয়েছি যে, আমাদের যে নারী ক্রিকেটাররা আছেন, তারা যখন ঘরোয়া ম্যাচ খেলেন আপনাদের কি ধারণা আছে তাদের ম্যাচ ফি কত? আমি জানি না যে, আপনারা জানেন কি না। এটা একসময় ১০০০ টাকা ছিল। তারপর এটাকে বাড়িয়ে ৫০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছিল, যেটা আমার কাছে মনে হয়, কোনোভাবেই ঠিক নয়। ওনারাও ২০ ওভারের ম্যাচ খেলেন, ওনারাও ৫০ ওভারের ম্যাচ খেলেন, ওনারাও দুই দিন বা তিন দিনের ম্যাচ খেলেন। আজকে আমরা যা অনুমোদন করেছি, সেটাকেও আমি বলব না যে খুব ভালো। কিন্তু এটা আগের চেয়ে অনেক ভালো। কারণ সবকিছু বৃদ্ধি করার একটা সীমাবদ্ধতা আছে।"

নারী ক্রিকেটারদের নতুন পারিশ্রমিক কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, "এখন থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটে নারীরা টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য ফি পাবেন ১০ হাজার টাকা করে, একদিনের ম্যাচের (ওয়ানডে) জন্য তারা ফি পাবেন ১৫ হাজার টাকা করে। আর দীর্ঘ সংস্করণের খেলা অর্থাৎ দুই, তিন বা চার দিনের ম্যাচের জন্য ওনারা ফি পাবেন ২০ হাজার টাকা করে, যেটা আগে হয়তো ৮০০০ টাকার মতো কিছু একটা ছিল। ওনাদের যে ঘরোয়া খেলোয়াড়দের চুক্তি আছে, সেখানে ৩০ থেকে ৩৫ জন নারী ক্রিকেটার চুক্তিবদ্ধ আছেন। তাদের মাসিক বেতন ছিল ৩০ হাজার টাকা। এটাকে এখন ৪০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এখানে একটা জটিলতা ছিল। কারণ কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নারীদের যে সর্বনিম্ন ক্যাটাগরি, সেখানে বেতন হলো ৬০ হাজার টাকা। তাই ঘরোয়া চুক্তির বেতন বাড়াতে চাইলেও জাতীয় চুক্তির সঙ্গে একটা ব্যবধান তো রাখতে হবে। এই কারণেই হয়তো আমরা যতটুকু সম্ভব হয়েছে, ততটুকু বৃদ্ধি করতে পেরেছি।"

একইসঙ্গে পুরুষ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারিশ্রমিক না বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরে তামিম বলেন, "পুরুষ ক্রিকেটারদের বিষয়ে আপনারা জানেন যে, গত তিন-চার বছর ধরে যদি ভুল না বলে থাকি ঘরোয়া পর্যায়ে কোনো বেতন বৃদ্ধি হয়নি। এতদিন পুরুষ ক্রিকেটারদের যে বেতন ছিল, তা হলো: ‘এ’ ক্যাটাগরি ৩৫ হাজার টাকা, ‘বি’ ক্যাটাগরি ৩০ হাজার টাকা এবং ‘সি’ ক্যাটাগরি ২৫ হাজার টাকা। আবারও বলছি, আমার কাছে মনে হয়, এটি অত্যন্ত কম পারিশ্রমিক। এত কষ্ট করে তারা সবাই ক্রিকেট খেলেন, ক্রিকেটের কারণেই আজকে আমাদের এই ক্রিকেট বোর্ড, এই সবকিছু ন্যূনতম সম্মান কিংবা তারা যে কষ্টটা করেন, তার বিনিময়ে ন্যূনতম পাওনাটা আমাদের নিশ্চিত করা উচিত।"

পরিবর্তিত কাঠামোয় পুরুষ ক্রিকেটারদের নতুন বেতন ও ম্যাচ ফি সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা দেন তিনি, "তাই আমরা আজকে যা অনুমোদন করেছি তা হলো এখন থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা পাবেন মাসে ৬৫ হাজার টাকা, ‘বি’ ক্যাটাগরির ৫০ হাজার টাকা এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির ৪০ হাজার টাকা করে। এটি তাদের মাসিক বেতন। আজকে এপ্রিল মাস প্রায় শেষ হতে চলল, এই বছরের চুক্তির বেতন এখন পর্যন্ত চার মাস হয়ে গেলেও তারা পাননি। সম্ভবত তাদের চুক্তি সই হয়নি বলে। আর আজকে যা অনুমোদন করা হয়েছে, তা কার্যকর হবে জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে। অর্থাৎ জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে যখনই তারা বেতন পাবেন, এই হিসাব অনুযায়ীই পাবেন। এর পাশাপাশি তাদের ম্যাচ ফি, যা আগে ৭০ হাজার টাকা ছিল, তা আজকের থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।"

নতুন এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা যেমন বাড়বে, তেমনি পেশাদার ক্রিকেটে আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার পরিবেশও তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।