সন্তুষ্ট নন জাহানারা, রাজ্জাকের মন্তব্যে ক্ষোভ
সন্তুষ্ট নন জাহানারা, রাজ্জাকের মন্তব্যে ক্ষোভ
সন্তুষ্ট নন জাহানারা, রাজ্জাকের মন্তব্যে ক্ষোভ
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের অস্বস্তি ও অভিযোগের প্রেক্ষাপটে অবশেষে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), তবে সেই সিদ্ধান্তেও পুরোপুরি স্বস্তি খুঁজে পাচ্ছেন না অভিজ্ঞ পেসার জাহানারা আলম।
দলের ভেতরের নানা অনিয়ম নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন জাহানারা, যেখানে নিগার সুলতানা জ্যোতির বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার, সিন্ডিকেট তৈরি এবং জুনিয়রদের সঙ্গে অসদাচরণের মতো বিষয় তুলে ধরেন তিনি, যদিও সেই অভিযোগগুলো পরবর্তীতে নাকচ করে দেয় বিসিবি।
তৎকালীন নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা না করে বরং জাহানারার অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন তোলেন, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই পেসার।
রাজ্জাকের ভূমিকা নিয়ে হতাশা জানিয়ে জাহানারা বলেন, ‘আমার সব থেকে খারাপ লেগেছে নারী উইংয়ের অভিভাবক তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ভাই কোনো কিছু যাচাই-বাছাই না করে উনি মন্তব্য করে বসলেন আমি নাকি বাইরের লোক এবং আমি যা বলেছি সব ভিত্তিহীন। রাজ্জাক ভাইয়ের জানা উচিত ছিল যে আমি দল থেকে বাদও পড়িনি এবং আমি অবসরও নেইনি। আমি এখনো বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড়। আমি মানসিক স্বাস্থ্য ইস্যুতে ছুটিতে আছি-নিজের প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে, নিজের প্রিয় ক্রিকেট বাংলাদেশ ক্রিকেট থেকে অনেক দূরে।’
পরবর্তীতে মঞ্জুরুল ইসলাম দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও রাজ্জাকের মন্তব্যে বিস্মিত হয়েছেন জাহানারা, যেখানে তিনি শাস্তির মাত্রা নিয়েও আপত্তি তোলেন বলে অভিযোগ করেন এই ক্রিকেটার।
এই প্রসঙ্গে জাহানারা আরও বলেন, ‘আমার আরও বেশি কষ্ট লেগেছে যখন কিনা মি. মঞ্জু দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, তাকে একটা শাস্তি দেওয়া হয়েছে তারপরও সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্জাক ভাই তখন তিনি ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন, তখনও তিনি একজন অভিভাবক নারী উইংয়েরতিনি আবারও মন্তব্য করেন যে তার ভাই মি. মঞ্জুর নাকি অনেক বড় শাস্তি দেওয়া হয়ে গেছে। মঞ্জু নাকি এত বড় শাস্তি ডিজার্ভ করে না।’
নারী ক্রিকেটে ভয়ের সংস্কৃতি এবং চুপ থাকার প্রবণতার কথাও তুলে ধরেছেন জাহানারা, যেখানে তিনি মনে করেন অনেকেই সামাজিক ও পেশাগত চাপের কারণে মুখ খুলতে পারেন না।
রাজ্জাকের আরেকটি মন্তব্যকে ঘিরেও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি (রাজ্জাক) আরও মন্তব্য করেন নারী ক্রিকেটাররা নাকি সমঝোতা করে ক্রিকেট খেলে বলে তিনি মনে করেন। আমার প্রশ্ন রাজ্জাক ভাই, আপনি একটা মায়ের সন্তান, আপনার স্ত্রী একজন নারী, আপনার অবশ্যই বোনরা আছে তারাও নারী। আপনার মেয়ে আছে কি না আমি জানি না।’
ব্যক্তিগত উদাহরণ টেনে এনে বিষয়টির গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে জাহানারা শেষ পর্যন্ত বলেন, ‘আজকে যদি আপনার বোন, আপনার স্ত্রী বা আপনার মেয়েরা ক্রিকেট খেলতো এবং তাদের সাথে একই ঘটনা ঘটতো তাহলে কী আপনি এই নোংরা মন্তব্য করতেন? আমার খুবই খারাপ লেগেছে, আমার মানতে কষ্ট হয় যে আপনি (রাজ্জাক) বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, আপনি একজন সাবেক ক্রিকেটার ছিলেন এবং আপনি একজন নারীর সন্তান।’
