জরাজীর্ণতার আড়ালে গৌরবগাথা, সংস্কারের অপেক্ষায় সিলেট জেলা স্টেডিয়াম
৯৭ প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আফজল
প্রকাশ: 15 ঘন্টা আগে আপডেট: 12 মিনিট আগে
জরাজীর্ণতার আড়ালে গৌরবগাথা, সংস্কারের অপেক্ষায় সিলেট জেলা স্টেডিয়াম
জরাজীর্ণতার আড়ালে গৌরবগাথা, সংস্কারের অপেক্ষায় সিলেট জেলা স্টেডিয়াম
সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনের প্রাণকেন্দ্র, এক সময়ের উচ্ছ্বাস আর গৌরবের প্রতীক সিলেট জেলা স্টেডিয়াম আজ যেন অবহেলা আর জরাজীর্ণতার ভারে ন্যুব্জ। অথচ এই মাঠই একদিন ছিল সিলেটের ক্রিকেটের তীর্থভূমি, যেখানে গড়ে উঠেছে দেশের ক্রিকেটের বহু উজ্জ্বল নক্ষত্র।
এই মাঠেই বেড়ে উঠেছেন রাজিন সালেহ, তাপস বৈশ্য এবং অলোক কাপালির মতো ক্রিকেটাররা, যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন গর্বের সঙ্গে। এখানেই নিজের ক্রিকেট জীবনের ভিত গড়ে তোলেন এনামুল হক জুনিয়র, যার স্পিন জাদুতেই বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পায়।
শুধু দেশীয় নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকাদের পদচারণায়ও মুখর ছিল এই মাঠ। শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক অর্জুন রানাতুঙ্গা এবং ভারতের রমন লাম্বা-র মতো খেলোয়াড়রা খেলেছেন এই বাইশগজে। দেশীয় তারকাদের মধ্যে আমিনুল ইসলাম বুলবুল, আকরাম খান এবং মিনহাজুল আবেদিন নান্নুদের নিয়মিত উপস্থিতি এই স্টেডিয়ামকে দিয়েছে আলাদা মর্যাদা।
ক্রিকেটের পাশাপাশি এটি একটি আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল ভেন্যু হিসেবেও পরিচিত। দেশীয় লিগ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ, এমনকি হকি, ব্যাডমিন্টনসহ নানা খেলাধুলার কেন্দ্রবিন্দু এই স্টেডিয়াম।
তবে ঐতিহ্যের এই ধারক আজ অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার শিকার। সম্প্রতি মাঠ পরিদর্শন করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “স্বৈরাচার সরকার যখন জোর করে ক্ষমতায় ছিল, তখন তারা উন্নয়নের নামে শুধু মেগা দুর্নীতি করেছে। এ কারণে আজ সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের এই জরাজীর্ণ অবস্থা দেখতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তিনি দ্রুত স্টেডিয়াম সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন এবং খেলাধুলার উপযোগী করে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন। কারণ, এই মাঠেই আগামী ৩০ এপ্রিল দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর উদ্বোধন হওয়ার কথা, যা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
সিলেট জেলা স্টেডিয়াম শুধু একটি খেলার মাঠ নয়, এটি ইতিহাস, আবেগ এবং সম্ভাবনার প্রতীক। তাই এর সংস্কার শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং তা হতে পারে সিলেটের ক্রীড়া ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
