অধিনায়কের সেঞ্চুরি আর মুশফিকের দাপটে চট্টগ্রামে বড় জয়

97 Repoter: 97admin

Publish: messages.not_available Update: 1 second ago
অধিনায়কের সেঞ্চুরি আর মুশফিকের দাপটে চট্টগ্রামে বড় জয়

অধিনায়কের সেঞ্চুরি আর মুশফিকের দাপটে চট্টগ্রামে বড় জয়

অধিনায়কের সেঞ্চুরি আর মুশফিকের দাপটে চট্টগ্রামে বড় জয়

২৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে লিটন দাসের গোল্ডেন ডাক, আরেক ওপেনার সৌম্য সরকারের ব্যাটে কেবল ৩। দুই ওপেনারের দ্রুত বিদায়ের পর দলকে জেতাতে কারো বিশেষ কিছু করতেই হত, সেটাই করলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ওয়ানডেতে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সেঞ্চুরি! শুধু সেঞ্চুরি করেই শান্ত থেমে যাননি, দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন। মাঝে তাকে সঙ্গ দিয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ খেলেছেন ৩৭ রানের ইনিংস। মুশফিকুর রহিম ১৬তম ওভারে উইকেটে এসে শান্তকে দেন যোগ্য সঙ্গ, আর কোনো বিপদ না ঘটিয়েই দলকে এনে দেন ৬ উইকেটের বড় জয়। শান্ত ১২২ ও মুশফিক ৭৩ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। ৩৩ বল বাকি থাকতেই জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

৩ মাসের বেশি সময় পর ওয়ানডে খেলতে নেমে বাংলাদেশ দল পেল জয়ের স্বাদ। সিলেটে শ্রীলঙ্কার কাছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের পর নিজেদের সবচেয়ে পছন্দের ফরম্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর দল এসেছিল চট্টগ্রামে। টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের হতাশা ঘুচাতে মরিয়া টাইগাররা জয়ে রাঙিয়ে শুরু করল ওয়ানডে সিরিজ। ১০৮ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন শান্ত, যাতে ছিল দৃষ্টিনন্দন ১১ চার ও ১ ছক্কা। নাজমুল হোসেন শান্ত সেঞ্চুরি ছুঁয়েই ড্রেসিংরুমের দিকে তাকিয়ে মাতলেন উদযাপনে। শান্ত পেয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের নিজের সেরা ইনিংসেরও দেখা। মুশফিক-শান্ত জুটির হার-না-মানা ১৬৫ রান আসে ১৭৫ বল থেকে। এর ফলে ৩২ বল বাকি থাকতেই বাংলাদেশ পায় ৬ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয়।  চট্টগ্রামের সবুজ পিচে টস জিতে শ্রীলঙ্কা বেছে নেয় আগে ব্যাটিং। দারুণ শুরু করেও নির্ধারিত ৫০ ওভারের আগেই শ্রীলঙ্কার ইনিংস থামে ২৫৫ রানে। বন্দরনগরীর বাতাস ও সবুজাভ উইকেট টাইগার পেসারদের দুহাত ভরিয়ে দিয়েছে। শুরুতে তানজিম সাকিব একাই নেন শ্রীলঙ্কার হারানো ৩ উইকেটের সবকয়টি, এরপর পার্টিতে যুক্ত হন তাসকিন ও শরিফুল। জয়ের জন্য ২৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চরম ব্যর্থ ওপেনার লিটন দাস। দিলশান মাদুশঙ্কার অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ইনসাইড এজ হয়ে লেগ স্টাম্প উপড়ে যায় লিটনের। গোল্ডেন ডাকের পর আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার ৯ বল খেলে করেছেন ৩। নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে মাদুশঙ্কা শর্ট বলে বিদায় করেন সৌম্যকে। পুল খেলার চেষ্টায় সৌম্যও হয়েছেন এজ, মিডউইকেটে থিকশানার হাতে হয়েছেন সহজ ক্যাচ। দুই ওভারে মাত্র ১ রান খরচায় মাদুশঙ্কার ঝুলিতে দুই ওপেনারের উইকেট। ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশ ইনিংসের পঞ্চম ওভারের শেষ ডেলিভারিতে ব্যাটারের ব্যাট থেকে পায় প্রথম বাউন্ডারি। কিন্তু পরের ওভারের প্রথম বলেই তাওহীদ হৃদয়ের স্টাম্প ভাঙেন প্রমোদ মাদুশান। ব্যাট-প্যাডের মাঝে যথেস্ট গ্যাপ রেখে হৃদয় হারান উইকেট, ফেরার আগে তার সংগ্রহে ৮ বলে ৩ রান। স্কোরবোর্ডে ২৩ রান ওঠতেই বাংলাদেশ খুইয়ে ফেলে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে। এরপর অবশ্য রিয়াদ-শান্ত মিলে একের পর এক বাউন্ডারিতে রান বাড়াতে থাকেন। মাদুশঙ্কার করা ইনিংসের ৯ম ওভারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাট থেকে আসে ৩ বাউন্ডারি। শুরুতে ৩ উইকেট হারালেও বাংলাদেশ পাওয়ার প্লেতে ৫৪ রান তুলেছে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর নাজমুল হোসেন শান্তর ৬৯ রানের জুটিতেই ম্যাচ জয়ের পথ খোঁজে পায় বাংলাদেশ। রিয়াদ অবশ্য কাছে থেকেও ফিফটি পর্যন্ত যেতে পারেননি। ৩৭ বলে ৩৭ রান করা রিয়াদের বিদায়ে ভাঙে এই জুটি। লাহিরু কুমারার বলে পুল খেলতে গিয়ে স্কয়ার লেগে মাদুশঙ্কার হাতে ক্যাচ হন অভিজ্ঞ রিয়াদ। দলীয় ৯২ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে এরপর আর বিপদে পড়তে হয়নি। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যাট হাতে টেনেছেন দলকে। মুশফিকুর রহিমও এদিন শুরু থেকেই ছিলেন দুর্দান্ত। ৫২ বলে পঞ্চাশ রান ছুঁয়েছেন শান্ত, যা ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তার নবম অর্ধশত রানের ইনিংস। মুশফিক-শান্ত জুটির পঞ্চাশ রান পূর্ণ হয় ৫২ বলে। দুজনেই হাত খুলে খেলার স্বাধীনতা নিয়ে দলকে নিয়ে যেতে থাকেন জয়ের বন্দরের দিকে। ৫৯ বলে প্রমোদ মাদুশানকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন মুশফিকুর রহিম। এই শটে তাদের জুটিরও পূর্ণ হয়ে গেছে শতরান।  ১০৮ বল মোকাবিলা করে ১১টি বাউন্ডারি ও ১ ছক্কার সাহায্যে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ওয়ানডে ক্রিকেটে এটা তার তৃতীয় সেঞ্চুরি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটি এখন শান্ত ও মুশফিকের। আগের সর্বোচ্চ ১১১ রান ছিল মুশফিক ও সাব্বির রহমানের। মুশফিক-শান্ত মিলেই বাংলাদেশের ৬ উইকেটের বড় জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। ৩৩ বল বাকি থাকতেই জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।