বাংলাদেশ ম্যাচ না জিতলেও জাকের জিতেছেন কোটি হৃদয়

97 Repoter: 97admin

Publish: messages.not_available Update: 1 second ago
বাংলাদেশ ম্যাচ না জিতলেও জাকের জিতেছেন কোটি হৃদয়

বাংলাদেশ ম্যাচ না জিতলেও জাকের জিতেছেন কোটি হৃদয়

বাংলাদেশ ম্যাচ না জিতলেও জাকের জিতেছেন কোটি হৃদয়

ক্রিকেট–ঈশ্বরকে একটা ধন্যবাদ দিতেই পারেন বাংলাদেশি দর্শকরা। আলিসের ছিটকে যাওয়ায় জাকের আলি অনিক ঢুকলেন দলে। একা হাতেই ধ্বংসস্তূপ বানিয়ে দেন পাথিরানা, শানাকা, বিনুরাকে। প্রায় অসম্ভব হয়ে যাওয়া ম্যাচে জাকেরের কল্যাণে বাংলাদেশ প্রায় চলে যায় জয়ের বন্দরে । অবিশ্বাস্য, অভূতপূর্ব, অভাবনীয়, অকল্পনীয়, অতুলনীয়, অতিমানবীয়— জাকের আলি অনিকের ২০০ স্ট্রাইক রেটে খেলা ৬৮ রানের ইনিংসটিকে আর কোন বিশেষণে বিশেষায়িত করা যায়?

জয়ের জন্য শেষ ৫ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৬৮ রান, জাকের আলি অনিকই তখন বাংলাদেশের ভরসা। ১৬ বলে ৩১ রানে থাকা জাকের ২৫ বলে পেয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম পঞ্চাশ। ১৭ তম ওভারে এসে মাথিশা পাথিরানা করেন ১১ বল, রান দিয়েছেন ১৯। ১৮তম ওভারে বিনুরা ফার্নান্দো এসে খরচ করেন ১০ রান। পরের ওভারে মাথিসা পাথিরানা জাকেরের তান্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে দেন ১৫। জয়ের জন্য শেষ ওভারে দরকার ১২ রানের। প্রথম বলে উইকেট হারান রিশাদ, তৃতীয় বলে বিদায় নেন জাকের। শরিফুল এসেই হাঁকান বাউন্ডারি। পরের বলে এক। শেষ বলে জিততে দরকার পাঁচ, স্ট্রাইকে তাসকিন। শেষপর্যন্ত ২০৩ রান করে ৩ রানে হারল বাংলাদেশ। 

২০৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বাংলাদেশের ইনিংস যেভাবে শুরু করার দরকার ছিল, হয়েছে তার পুরো বিপরীত। ডাক হয়ে প্যাভিলিয়নে যান ওপেনার লিটন দাস। সৌম্য, শান্ত, হৃদয় কেউ আলো ছড়াতে পারেননি। তবে অনবদ্য ব্যাটিংয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ স্মরণীয় করলেন প্রত্যাবর্তন। টস হেরে ইনিংসের শুরুতেই দ্রুত দুই উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। এরপর অবশ্য পালটা আক্রমণে লঙ্কানরা দারুণভাবে লড়াইয়ে ফিরে আসে কুশল মেন্ডিস আর সাদিরা সামারাবিক্রমার ব্যাটে। মিডল ওভার আর ডেথে চার-ছয়ের বন্যা বইয়ে দেন এই দুই ব্যাটার। জোড়া ফিফটির পর অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা শেষবেলায় খেললেন ক্যামিও ইনিংস। আর তাতেই ৩ উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কা স্কোরবোর্ডে পায় ২০৬ রানের। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসকে দিয়ে ইনিংসের শুরু করায় শ্রীলঙ্কা। শুরুর দুই বলে ডট খেলা লিটন দাস তিন নম্বর বলে ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটকিপারের গ্লাভসে হয়েছেন ক্যাচ। আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। ১১ বল খেলা সৌম্য ১২ রানের বেশি করতে পারেননি। তাওহীদ হৃদয় উইকেটে এসে প্রথম বলেই হাঁকান ছয়। গতকাল নেটে প্র্যাকটিসের সময় হৃদয়কে উদ্দেশ করে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলছিলেন, ‘বল ফালাইতে দিবি না হৃদয়। কোনো কথা হবে না, মাইর আর মাইর।’ হৃদয় যেন তা-ই করে দেখালেন আজকের ম্যাচে। তবে সিলেটে হৃদয় ঝড় বেশিক্ষণ স্থায়ী করতে দেননি অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। শর্ট লেন্থের বলে ক্রস ব্যাট চালিয়ে হৃদয় ক্যাচ হন উইকেটকিপারের কাছে, প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ৫ বলে করেছেন ৮। হৃদয়ের বিদায়ের পর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এসেও একই কাজ করলেন, ৬ হাঁকিয়ে রিয়াদ খুলেন রানের খাতা। ১৮ মাস পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা রিয়াদ প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করলেন প্রথম বলে ছক্কা পিটিয়ে। তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত তখন যোগ্য সঙ্গী হিসাবে পান ফর্মের তুঙ্গে থাকা রিয়াদকে। ইনিংসের ৯তম ওভারে বল হাতে অ্যাকশনে আসেন মাথিসা পাথিরানা। এসেই ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ককে। নাজমুল হোসেন শান্তর ধীরগতির ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। ম্যাথুসের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরা শান্ত ২২ বলে করেছেন ২০। এরপর জাকের আলি অনিককে নিয়ে দলকে টেনে নিয়ে যেতে থাকেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দাপুটে ব্যাটিংয়ে ২৭ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে নিজের ৭ম পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন রিয়াদ। ৪ ছক্কা ও ২ চারে ঝড়ো পঞ্চাশ আসে রিয়াদের ব্যাট থেকে।