চট্টগ্রামের ব্যাটিং স্বর্গে নিজের ক্যারিশমাটিক শো দেখাতে ভুল করেননি তামিম ইকবাল। সুপার ফোরের দৌড়ে টিকে থাকতে ঢাকার বিপক্ষে ম্যাচটি বরিশালের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আর এই ম্যাচেই জ্বলে ওঠলেন অধিনায়ক তামিম, পেলেন এবারের বিপিএলে প্রথম পঞ্চাশের দেখা। দলকে টেনে নিয়ে যান দারুণভাবে, সর্বোচ্চ ৭১ রান করে তামিম এদিন হারান উইকেট। এরপর সৌম্য সরকারের ২৮ রান ছাড়া আর কেউ খেলতে পারেননি স্বাচ্ছন্দ্যে। শেষ বেলায় সাইফউদ্দিনের অনবদ্য ফিনিশিংয়ে বরিশাল পায় ১৮৬ রানের সংগ্রহ। শেষ ওভারে সাইফউদ্দিন শরিফুল ইসলামকে খরচ করান ২৩ রান।
নিজের বাড়ির মাঠ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে নেমেই তামিম ইকবাল খেললেন এবারের বিপিএলে তার সর্বোচ্চ ৭১ রানের ইনিংস। তামিমের এই ইনিংসের পর অবশ্য মিডল অর্ডারে কেউ খেলতে পারেননি বড় ইনিংস। তবে ইনিংসের শেষ ওভারে শরিফুল ইসলামের বিপক্ষে একাই ২৩ রান করেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তার ক্যামিওর কল্যাণেই ফরচুন বরিশাল ৬ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে পায় ১৮৬ রান। দুর্দান্ত ঢাকার বোলারদের মধ্যে এদিন সফল আলাউদ্দিন বাবু, শিকার করেন শুরুর তিন উইকেট। শেষদিকে অধিনায়ক তাসকিন আহমেদ দখলে নেন জোড়া উইকেট। চট্টগ্রাম পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত ঢাকার বিরুদ্ধে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন তামিম ইকবাল। আহমেদ শেহজাদকে নিয়ে নেমে যান ওপেনিংয়ে। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে তারা স্কোরবোর্ডে জমা করেন ৫৪ রান। এই জুটিতে বড় সংগ্রহের আভাস পেয়ে যায় ফরচুন বরিশাল। নিজের চিরচেনা মাঠে তামিম ইকবাল যেন তার ছন্দ খুঁজে পান। চার ছয়ের বন্যা বইয়ে দেন ঢাকার বোলারদের ওপর। ৩৪ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন তামিম, ফিফটি পূর্ণ করতেই তামিম হাঁকান ৩ ছয় ও ৫ চার। এরপর আরও ভয়ংকর রূপ নেন। তবে আলাউদ্দিন বাবুর হাতে ঢাকা পায় ব্রেকথ্রু। ৭৬ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙে ব্যক্তিগত ২৪ রানে আহমেদ শেহজাদের বিদায়ে। তামিম ইকবাল ঝড় তুললেও শেহজাদ এদিন ছিলেন ধীরগতির। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ২২ বলে ২৪ করেন শেহজাদ। তার এই ইনিংসে বাউন্ডারি ছিল ৪টি। শেহজাদের উইকেট তুলে নিতে পারলেও ঢাকার বোলাররা তামিমের কাছে পাত্তাই পায়নি এদিন চট্টগ্রামে।শেষ পর্যন্ত তামিম ইকবাল উইকেট হারান আলাউদ্দিন বাবুর বলেই। স্লোয়ার ডেলিভারিতে বিগ শট খেলতে গিয়ে লং অফে সাইফ হাসানের হাতে ক্যাচ হন ৭১ রানে থাকা তামিম। ৪৫ বলে চারটি ৬ ও ৭ চারে এই অনিন্দ্য সুন্দর ইনিংস সাজিয়ে যান তামিম। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও আলাউদ্দিন বাবুর শিকার। নিজের কোটার শেষ ওভারে এসে ৩য় শিকার দখলে নেন বাবু। আগের ম্যাচ গুলোতে দাপট দেখানো রিয়াদ ১০ বলে করেন ১৩।২৮ রানে থাকা সৌম্য সরকারকে ফিরিয়ে প্রথম উইকেটের দেখা পান শরিফুল ইসলাম। সৌম্যর ব্যাট থেকে ২৮ রান আসে, ২৩ বলে। দ্রুত ফিরে যান মুশফিকুর রহিমও। ৩ বল খেলা মুশফিক ১ রানের বেশি করতে পারেননি। তাসকিন আহমেদ আগের তিন ওভারে উইকেট না পেলেও ১৯তম ওভারে নিজের কোটা শেষ করতে এসে শিকার করেন জোড়া উইকেট। মুশফিকের উইকেট নিয়ে ডাকের স্বাদ দেন মেহেদী হাসান মিরাজকে। এরপর শোয়েব মালিক আর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ব্যাটে ইনিংস শেষ করে ফরচুন বরিশাল। সাইফউদ্দিন শেষ ওভারে শরিফুল ইসলামকে ২ ছয় ও চারে খরচ করান মোট ২৩ রান।