সিলেট থেকে শেষ দুই ম্যাচ জিতে আসা ফরচুন বরিশাল ঢাকায় এসে খেল ধাক্কা। টসে হারা চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স আগে ব্যাটিংয়ে নেমে সংগ্রহ করে ১৪৫। এরপর বোলিংয়েও তাদের বাজিমাত, ১২৯ রানের বেশি করতে পারেনি তামিমরা। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে আগের ম্যাচে বাজেভাবে হারা শুভাগত হোমের দল ঢাকায় দ্বিতীয় পর্বের শুরু করল ১৬ রানের রোমাঞ্চকর জয়ে। বল হাতে এদিন দুর্দান্ত ছিলেন চট্টগ্রামের পেসার শহিদুল ইসলাম, তার বোলিং ফিগার রীতিমতো চোখ ধাঁধানো, ৪-১-১৩-৩! আর তাতেই বরিশালকে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফিরল চ্যালেঞ্জার্সরা।
১৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুটা দেখে-শুনে করেও হঠাৎই যেন ফরচুন বরিশালের ছন্দপতন। শুরুর ৪ ওভারে ২৭ রান করা বরিশাল পাওয়ার প্লে শেষ করেছে ২৯ রানে। তবে দুই ওভারের মধ্যেই তারা হারিয়ে ফেলে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে। আল-আমিন হোসেন এক ওভারেই দখলে নেন জোড়া উইকেট। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে আল-আমিন হোসেনের করা চতুর্থ ডেলিভারিতে উইকেটকিপারের গ্লাভসে ক্যাচ হন ১৭ রানে থাকা আহমেদ শেহজাদ। ওভারের শেষ বলে বোল্ড হন সৌম্য সরকার। ইনসাইড এজে স্টাম্প ভাঙা সৌম্য প্যাভিলিয়নে ফেরত যান শূন্য হাতে।পরের ওভারে এসে বিলাল খান তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজের উইকেট। রানের চাহিদায় হাঁসফাঁস করতে থাকা মিরাজ মিড অফ অঞ্চলে দাঁড়িয়ে থাকা নাজিবউল্লাহ জাদরানের হাতে হয়েছেন সহজ। ৪ বল খেলা মিরাজ সৌম্য সরকারের মতোই পেলেন ডাকের স্বাদ। ২৮ থেকে ২৯ রানে যেতেই তিন উইকেট খুইয়ে ফেলা চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের শুরুর ধাক্কা সামলে নিয়ে ইনিংস মেরামতে মনোযোগ বাড়ান তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। ধাক্কা সামলে নিলেও রানের চাকায় গতি আনতে তারা ব্যর্থ।তামিমের সঙ্গে মুশফিকের ৩৫ বলের জুটিতে রান ওঠে ৩৯। সেই জুটি ভাঙে ১৩ বলে ৯ রান করা মুশফিকের বিদায়ে। দীর্ঘক্ষণ উইকেটে থাকলেও তামিম ইকবালের ইনিংসে ছিল না টি-টোয়েন্টির তাড়না। ফিফটির খুব কাছে গিয়েও পারলেন না তামিম। ৪৬ বলে চারটি চার ও দুই ছয়ে ৪৯ রান করে প্যাভিলিয়নে পথে হাটতে থাকেন বরিশালের অধিনায়ক। আগের ম্যাচে অপরাজিত ৪১ রানের ইনিংস খেলে দলকে জেতানো শোয়েব মালিক আজ ফিরলেন দ্রুতই। তার ব্যাট থেকে এদিন ১৪ রানের বেশি আসেনি। জয়ের জন্য বরিশালের সামনে দাঁড়ায় কঠিন সমীকরণ, ১৮ বলে করতে হবে ৪৩ রান। অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সাথে তখন ব্যাট করতে থাকেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। উড়তে থাকা আস্কিং রানরেট নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা করেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ১৮ বলে ৩০ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে কমিয়েছেন কেবল হারের ব্যবধান। শেষপর্যন্ত ১২৯ রানে থামে বরিশালের ইনিংস। ১৬ রানের রোমাঞ্চকর জয়ে ঢাকার দ্বিতীয় পর্ব রাঙাল শুভাগত হোমের দল।