২৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে লিটন দাসের গোল্ডেন ডাক, আরেক ওপেনার সৌম্য সরকারের ব্যাটে কেবল ৩। দুই ওপেনারের দ্রুত বিদায়ের পর দলকে জেতাতে কারো বিশেষ কিছু করতেই হত, সেটাই করলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ওয়ানডেতে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সেঞ্চুরি! শুধু সেঞ্চুরি করেই শান্ত থেমে যাননি, দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জয়ে সেঞ্চুরি করে বিশেষ মেরুন জ্যাকেট পেয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
ম্যাচের মোমেন্টাম ঘুরিয়ে দেয়া পারফর্মারকেই দেয়া হয় এই ‘মেরুন জ্যাকেট’। শান্ত এই ‘মেরুন জ্যাকেট’ পরে দলের সবাইকে চিয়ার আপ করে। নাম, ম্যাচ আর পারফরম্যান্স কালো মার্কার দিয়ে ছোট্ট করে লিখে দেওয়া হয় জ্যাকেটটিতে। শান্তকে গতরাতে ‘মেরুন জ্যাকেট’ পরিয়ে দেওয়ার সময় টাইগারদের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে পুরো ম্যাচেরই সারমর্ম করেছেন। পারফর্মারদের প্রশংসায় ভাসালেন একে একে। তিন পেসারের তাণ্ডবের পর ব্যাট হাতে শান্তকে সঙ্গ দিয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ খেলেছেন ৩৭ রানের ইনিংস। মুশফিকুর রহিম ১৬তম ওভারে উইকেটে এসে শান্তকে দেন যোগ্য সঙ্গ, আর কোনো বিপদ না ঘটিয়েই দলকে এনে দেন ৬ উইকেটের বড় জয়। শান্ত ১২২ ও মুশফিক ৭৩ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। ৩৩ বল বাকি থাকতেই জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। ১০৮ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন শান্ত, যাতে ছিল দৃষ্টিনন্দন ১১ চার ও ১ ছক্কা। নাজমুল হোসেন শান্ত সেঞ্চুরি ছুঁয়েই ড্রেসিংরুমের দিকে তাকিয়ে মাতলেন উদযাপনে। শান্ত পেয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের নিজের সেরা ইনিংসেরও দেখা। মুশফিক-শান্ত জুটির হার-না-মানা ১৬৫ রান আসে ১৭৫ বল থেকে। এর ফলে ৩২ বল বাকি থাকতেই বাংলাদেশ পায় ৬ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয়।মেরুন জ্যাকেট পরিয়ে দেওয়ার সময় কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে যা বললেন, 'আমরা অনেক সাহসিকতা দেখলাম ব্যাটিং ও বোলিংয়ে। আমরা পিছিয়ে ছিলাম। ব্যাটিংয়ে তারা ভালো শুরু পায়। আমাদের ব্যাটিংয়েও তারা দ্রুত ৩ উইকেট নিয়ে নেয়। কিন্তু যে ক্যারেক্টার আমরা দেখিয়েছি ফিরে আসার। শরীরী ভাষা ছিলো দুর্দান্ত।''আমি জানি কিছু দুর্দান্ত ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স আছে। আমি (তানজিম) সাকিবকে নিয়ে শুরু করি। ওরা বিনা উইকেটে ৭০ রান ছিলো। তুমি বল করতে এসে যেটা করা দরকার সেটাই করেছ মেরুন জ্যাকেট পাওয়ার মতন।''ব্যাটিংয়ে ২৩ রানে ৩ উইকেট পড়ে গিয়েছিলো। আমার মনে হয় রিয়াদের ইন্টেন্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ। সে শান্তর সঙ্গে ৬৯ রানের জুটি গড়েছে, রানে বলে করেছেন (৩৭ বলে ৩৭)। এই ইন্টেন্ট আমাদের খেলায় ফিরিয়েছে। ওয়েলডান রিয়াদ।''আমি মুশফিকের স্থিরতা হাইলাইট করতে চাই। তার ইনিংসে শান্তর থেকে চাপ কমে যায়। যেভাবে তুমি স্পিনারদের খেলেছ ওটা দুর্দান্ত ছিলো।''আমি একটা জিনিস বলতে ভুলে গিয়েছি। তুমি (রিয়াদ) যেভাবে হাসারাঙ্গাকে সামলেছ, ওদের সেরা বোলার। ওর দ্বিতীয় বলেই ছক্কা মেরেছ। এই ছক্কা দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছ যে আমাদের ইন্টেন্ট পরিষ্কার। ওয়েলডান। তাকে খেলায় প্রভাব ফেলতে দাওনি।''শেষে বলব অধিনায়কের কথা। তুমি যে যে নিবেদন, দৃঢ়তা দেখিয়েছে চাপের সময়ে। একদম ৪৮তম ওভার পর্যন্ত খেলে জিতিয়ে এসেছ। শুরু করে সেঞ্চুরি করেছ। কোন আতঙ্কে না ভুগে। তোমার ফিল্ড প্লেসিংও স্পট অন ছিলো। এখানে অনেক কিছুই ছিলো স্থিরতা, ক্ষুধা, অভিপ্রায়। তুমি সব নিয়ন্ত্রণ করেছ। এমন করলে আউটকাম আসবে। আমি মেরুন জ্যাকেট দুজনকে দিতে চাইতাম কিন্তু শান্ত তুমি এটা ডিজার্ভ কর।'