সাঙ্কা-লাঙ্কা'র ব্যাটে সিরিজ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ: messages.not_available আপডেট: 1 ঘন্টা আগে
সাঙ্কা-লাঙ্কা'র ব্যাটে সিরিজ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা

সাঙ্কা-লাঙ্কা'র ব্যাটে সিরিজ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা

সাঙ্কা-লাঙ্কা'র ব্যাটে সিরিজ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়ের জন্য অপেক্ষা বাড়ল বাংলাদেশের। বুধবার অধিনায়ক শান্ত সেঞ্চুরির হাঁকিয়ে খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস, সঙ্গে অভিজ্ঞ মুশফিকের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আসে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানের জয়। আজ দ্বিতীয় ম্যাচ ১৭ বল বাকি থাকতে ৩ উইকেটে জিতে দ্বীপ দেশটি বাঁচিয়ে রাখল সিরিজ জয়ের আশা। লঙ্কানদের এই রোমাঞ্চকর জয়ে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন নায়ক বনে গেছেন পাথুম নিসাঙ্কা। চারিথ আসালাঙ্কাকে অবশ্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত করেন তাসকিন। তবে শেষ বেলায় আশা জাগিয়েও ব্যর্থ টাইগার বোলাররা। অনবদ্য ফিনিশিংয়ে দলকে জয়ের বন্দরে প্রায় পৌঁছে দিয়ে আসেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, এর আগে বোলিংয়ে পান ৪ উইকেট। 

প্রথম ওয়ানডেতে পরাজয়ের পর সিরিজে টিকে থাকতে আজকের ম্যাচ জিততেই হত সফরকারীদের। কিন্তু শরিফুল-তাসকিনদের শুরুর তোপে লঙ্কানদের স্কোরবোর্ড যখন ৪৩/৩; চট্টগ্রামের গ্যালারিতে চাপা গুঞ্জন। আজ কি আমাদের দিন? সিরিজ জয়ের দিন? তবে মুহূর্তেই পালটে গেল দৃশ্যপট, অভিজ্ঞ লঙ্কান জুটি পাথুম নিসাঙ্কা-চারিথ আসালাঙ্কা ম্যাচ থেকেই ছিটকে দেয় বাংলাদেশকে। দেখেশুনে খেলার ব্রত বেছে নিলেন দুই ব্যাটসম্যান। ম্যাচ জিততে করণীয় বুঝে নিলেন। গ্যালারির উচ্ছ্বাসকে নীরব শশ্মানে পরিণত করে দেন নিসাঙ্কা আর আসালাঙ্কা। বরাবর ১০০ বলে নিসাঙ্কা ছুঁয়েছেন শতরান। বাংলাদেশ অধিনায়কের কপালে তখন চিন্তার ভাঁজ। অবশেষে ৩০.৩ ওভার পর বাংলাদেশ পেল স্বস্তির ব্রেকথ্রু, মেহেদী হাসান মিরাজের বলে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে লিটনের হাতে ধরা পড়েন শ্রীলঙ্কার অন্যতম ভরসা। ব্যক্তিগত ১১৪ রানে পাথুম নিসাঙ্কার বিদায়ের পর আসালাঙ্কাও উইকেট হারান দ্রুত। ৯ রানের আক্ষেপ নিয়ে চারিথ আসালাঙ্কা প্যাভিলিয়নে ফিরে গেছেন ৯১ করে। তাসকিন ও পুরো দলের আবেদনে আম্পায়ার এজের উইকেট না দিলেও রিভিউ চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। পরপর দুই ওভারে দুই সেট ব্যাটারকে ফিরিয়ে ম্যাচে দারুণভাবে ফিরে আসে স্বাগতিকরা। আসালাঙ্কাকে সেঞ্চুরি করতে না দেওয়া তাসকিন ছুঁয়েছেন ওয়ানডেতে ৮ম বাংলাদেশি হিসাবে ১০০ উইকেটের মাইলফলক। এরপর জানিথ লিয়ানাগেকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের পালে আরও একটু হাওয়া দেন পেসার তানজিম সাকিব। ১৬ বলে ৯ করা লিয়ানাগে রিভিউ নিয়েও উইকেট বাঁচাতে পারেননি। তখনও জয়ের জন্য ৫৩ বলে শ্রীলঙ্কার দরকার ৩৬, ক্রিজে দুই নতুন ব্যাটার হাসারাঙ্গা ও ওয়েল্লালাগে। হাসারাঙ্গা বল হাতে ৪ উইকেট শিকারের পর ফিনিশিংয়েও দারুণ ভূমিকা রাখেন। তবে ১৬ বলে ২৫ রানের ক্যামিও খেলে হাসারাঙ্গা যখন আউট হন, তার দল তখন জয় থেকে কেবল ২ রান দূরে। ওভার বাকি তখনও ৩। এমন সহজ সমীকরণ দুনিথ ওয়েল্লালাগের ব্যাটে সহজেই টপকে যায় শ্রীলঙ্কা। চট্টগ্রামে প্রথম ইনিংসে যখনই ২৮০ রানের বেশি করেছে বাংলাদেশ দল, এমন কোনো ওডিআই ম্যাচ হারেনি। আজ লঙ্কানদের কাছে ভেঙে গেল ঐতিহাসিক এই পরিসংখ্যান। চট্টগ্রামে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ টোটাল তাড়া করার রেকর্ডও অবশ্য ছিল বাংলাদেশেরই দখলে: ২০১৮ সালের অক্টোবরে জিম্বাবুয়ের করা ২৮৬ রান টাইগাররা টপকেছিল ৪৭ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখে।

বাংলাদেশের দেওয়া ২৮৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় লঙ্কানরা। পাওয়ার প্লেতে শ্রীলঙ্কার শিবিরে আঘাত হানেন শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরে যান লঙ্কান ওপেনার আভিস্কা ফার্নান্দো। এরপর ক্রিজে আসা কুশল মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন পাথুম নিসাঙ্কা।

আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৪১ রানের জুটি গড়েন এই দুই ব্যাটার। ভয়ঙ্কর হতে যাওয়া এই জুটি ভাঙেন পেসার তাসকিন আহমেদ। দলীয় ৪২ রানে ১৩ বলে ১৬ রান করা কুশল মেন্ডিসকে সাজঘরে ফেরান তাসকিন। এরপর ক্রিজে আসা সাদিরা সামারাবিক্রমাকে আউট করে বাংলাদেশকে তৃতীয় সাফল্য এনে দেন শরিফুল। ৪ বলে ১ রান করে আউট হন এই লঙ্কান ব্যাটার। ৪৩ রানে ৩ উইকেট খুইয়ে ফেলা লঙ্কানদের এরপরে স্বস্তিতে ফেরান নিসাঙ্কা-আসালাঙ্কা জুটি। ১৮৩ বলে তাদের ১৮৫ রানের অনবদ্য এক ম্যাচ জয়ী জুটি।