ইমরান তাহির উইকেট উদযাপনে যেভাবে দৌড়ান, বিপিএলের পয়েন্ট টেবিলেও রংপুরের একই হাল। একের পর এক জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরও শক্ত করল রংপুর রাইডার্স। সাকিব আল হাসান, শেখ মেহেদীর ব্যাটিং তাণ্ডবে ২১৯ রান পায় রংপুর। এরপর বল হাতে রংপুরের ৭৮ রানের সহজ জয় নিশ্চিত করেন ইমরান তাহির। একাই দখলে নেন পাঁচ উইকেট। ৪-০-২৬-৫, তার এই বোলিং ফিগার রীতিমতো চোখ ধাঁধানো।
এবারের বিপিএলে টানা চার জয়ে শুরু করা এনামুল হক বিজয়ের দল আজ পেল টানা চার হারের স্বাদ। সেমিতে যাওয়ার পথ বেশ কঠিনই হয়ে গেল তাদের। ২২০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে সাকিব, তাহিরদের স্পিন বিষে নীল হয়ে খুলনা গুটিয়ে যায় ১৪১ রান করতেই। সাকিব আল হাসানের ৬৯ রানের ইনিংস আসে কেবল ৩১ বলে। সমান ৬টি চার ও ছক্কায় এই অতিমানবীয় সাজান সাকিব। তার সাথে জুটি গড়ে শেখ মেহেদী হাসানও এদিন খুলনার বোলারদের শাসন করেন। ৩৬ বল খেলা মেহেদী প্যাভিলিয়নে যান নামের পাশে ৬০ রান নিয়ে। সাকিব-মেহেদীর ৫৪ বলে পাওয়া ১০৯ রানের জুটিতেই দুইশো রানের পথে এগিয়ে যায় রংপুর। শেষদিকে ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসকে নিয়ে অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ইনিংস ফিনিশ করে আসেন। ৫ উইকেট হারিয়ে রংপুর রাইডার্স পায় ২১৯ রানের বড় সংগ্রহ।লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ১৪১ রানের বেশি করতে পারেনি খুলনা টাইগার্স। ব্যাট হাতে রানের ফোয়ারা ছুটানো সাকিব বোলিংয়ে প্রথম ওভারেই পেয়ে যান উইকেট। সাকিবকে আগের বলে ছয় হাঁকিয়ে পরের বলে এলবিডব্লিউ হন এভিন লুইস। ১১ বলে করে যান ১১ রান। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ইমরান তাহিরের হাতে বল তুলে দিয়েও উইকেট পায় রংপুর। এবার ক্যাচ তুলে প্যাভিলিয়নে যান ৫ রানে থাকা অধিনায়ক এনামুল হক বিজয়।দুই ওপেনারকে হারানো খুলনা টাইগার্স তবুও পাওয়ার প্লেতে পায় ৪৬ রান। যার পুরোটাই অ্যালেক্স হেলসের কল্যাণে। এই ইংলিশ বিস্ফোরক ব্যাটার শুরু থেকেই ছিলেন আগ্রাসী। এরমাঝেই ইমরান তাহির এসে ফিরিয়ে দেন ১১ রানে থাকা আফিফ হোসেনকে। উইকেটের একপ্রান্তে ব্যাটারদের নিয়মিত আসা-যাওয়া থাকলেও রানের চাকায় গতি রেখেছেন এক হেলস।বিপর্যস্ত খুলনাকে টেনে তুলতে না পারলেও অ্যালেক্স হেলস নিজের ইনিংস খেলেছেন স্বাচ্ছন্দ্যে। মাত্র ২৪ বলেই পেয়ে যান এবারের বিপিএলে নিজের প্রথম ফিফটি। প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই অ্যালেক্স হেলস ছিলেন তার চিরচেনা রূপে। হেলস তখন সঙ্গী হিসেবে পাশে পান হাবিবুর রহমান সোহানকে।কিন্তু ইমরান তাহির নিজের দ্বিতীয় স্পেলে এসে সব চুরমার করে দেন। মাত্র ৩ রান খরচায় শিকার করেন জোড়া উইকেট। পরের ওভারে এসে পূর্ণ করেন ফাইফার। ৩৩ বল খেলা হেলস ব্যক্তিগত ৬০ রানে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। একাদশে ফেরা আকবর আলি আস্থার প্রতিদান দেওয়ার বদলে এদিন হয়েছেন ডাক। জিমি নিশাম পরের ওভারে এসে গোল্ডেন ডাক বানিয়ে ফেরান নাহিদুলকে। কোটার শেষ ওভারে এসে ইমরান তাহির ফাইফার পূর্ণ করেন হাবিবুর রহমান সোহানকে ফিরিয়ে।