রংপুরকে উড়িয়ে খুলনার জয়ের হ্যাটট্রিক

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ: messages.not_available আপডেট: 1 ঘন্টা আগে
রংপুরকে উড়িয়ে খুলনার জয়ের হ্যাটট্রিক

রংপুরকে উড়িয়ে খুলনার জয়ের হ্যাটট্রিক

রংপুরকে উড়িয়ে খুলনার জয়ের হ্যাটট্রিক

এবারের বিপিএলে প্রথম দল হিসাবে জয়ের হ্যাটট্রিক খুলনা টাইগার্সের। এনামুল হক বিজয়ের নেতৃত্বে যেন রীতিমতো উড়ছে রূপসা পাড়ের দলটি। ১৬১ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহের পর বল হাতে দাসুন শানাকা, ওয়সিম জুনিয়রের দাপটে হ্যাটট্রিক জয়ের স্বাদ পেল খুলনা। ৩ ওভারে মাত্র ১৬ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করে খুলনার জয়ের নায়ক প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা দাসুন শানাকা। মোহাম্মদ নবী ঝড়ো ফিফটি হাঁকিয়ে হয়ে গেছেন ম্লান, ৫ ব্যাটার আউট হয়েছেন এক সংখ্যার ঘরে থেকেই। অলরাউন্ড পারফর্ম্যান্সে ম্যাচ সেরার পুরষ্কার পেলেন দাসুন শানাকা। 

ব্যাট হাতে অনবদ্য ৪০ রানের ইনিংস খেলা খুলনার লঙ্কান তারকা বল হাতে একাই দখলে নেন ৪ উইকেট। আর তাতেই যেন ২৮ রানের রোমাঞ্চকর জয় নিশ্চিত হয়ে যায় খুলনার। টানা তিন জয়ে খুলনাই থাকল টেবিলের শীর্ষস্থানে।  টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে চরম বিপাকে পড়ে খুলনা টাইগার্স। দশ ওভারের আগেই ৬৪ রানে তারা হারায় টপ অর্ডারের চার ব্যাটারকে। এরপর পাল্টা আক্রমণে লড়াই জমিয়ে দেন খুলনার দুই ফরেন রিক্রুট মোহাম্মদ নওয়াজ ও দাসুন শানাকা।  আর তাতেই খুলনার স্কোরবোর্ডে ১৬১ রান। সাকিব আল হাসান প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে বল হাতে আলো ছড়াতে ব্যর্থ। ১৬২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই বাবর আজমকে হারাতে হয় রংপুর রাইডার্সকে। খুলনার জার্সিতে খেলা তারই স্বদেশী মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র ফেলেন লেগ বিফোরের ফাঁদে। রিভিউ নিয়েও উইকেট বাঁচাতে পারেননি বাবর। ৮ বলে কেবল ২ রান নিয়ে তাকে ফিরতে হয় প্যাভিলিয়নে। তিনে নামা ব্রেন্ডন কিং শিকার হন আরেক পাকিস্তানি মোহাম্মদ নওয়াজের। ৫ বলে ১ রানে থাকা কিং স্টাম্প হারিয়ে ফিরে যান সাজঘরে। স্কোরবোর্ডে ১১ রান উঠতেই দুই উইকেট নেই রংপুরের। এরপর রনি তালুকদার আর শামীম পাটোয়ারীর ব্যাটে কিছুটা স্বস্তি পায় রংপুর রাইডার্স ফ্র‍্যাঞ্চাইজি। তবে এই জুটির সংগ্রহ যখন ২২ বলে ৩৮, তখনই খুলনাকে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন দাসুন শানাকা। ধীরগতির ইনিংসে রনি দলকে সাহায্য করার বদলে আরও চাপে ফেলে দিয়ে যান। লং অফে দাঁড়িয়ে মুকিদুল মুগ্ধ লুফে নেন ২৫ বলে ১৫ রান করা রনির উইকেট। দশম ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে রংপুর রাইডার্সের রান তখন ৫২। ফলে শেষ দশ ওভারে সমীকরণ, জিততে হলে করতে হবে আরও ১১০ রান। নওয়াজ নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে তুলে নেন আরও এক উইকেট। এবার তার শিকার থিতু হয়ে যাওয়া শামীম হোসেন পাটোয়ারী। ডিপ স্কয়ার লেগে সহজ ক্যাচে উইকেট হারিয়ে ফেরা শামীমের ৩০ রানের ইনিংস সাজানো ছিল ৪ চারে। আগের তিন ওভারে উইকেট শূন্য থাকা নাসুম আহমেদ কোটার শেষ ওভার করতে এসে পান উইকেটের দেখা। এরপর দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউটের শিকার হন অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। ১ রানের বেশি করতে পারেননি রংপুরের ক্যাপ্টেন। সাকিব আল হাসান বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতেও লিখলেন ব্যর্থতার গল্প। শানাকার শর্ট, স্লোয়ার বল ছুঁয়ে যায় সাকিবের ব্যাট, গ্লাভসে বল জমিয়ে লম্বা আবেদন এনামুল হক বিজয়ের। আম্পায়ার আবেদনে সাড়া না দিলেও রিভিউ চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উইকেট নিশ্চিত করেন খুলনার অধিনায়ক বিজয়। জয়ের জন্য রংপুরের সামনে শেষ ৪ ওভারে দরকার ছিল ৬২ রান। ১৭ তম ওভারে এসে ওয়াসিম জুনিয়র খরচ করেন ১৬ রান। মোহাম্মদ নবীর সঙ্গে শেখ মেহেদী হাসানও ব্যাট হাতে দেখাতে থাকেন দাপট। তবে মেহেদীর ব্যাটিং শো স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। শানাকা নিজের তৃতীয় ওভার করতে এসে শুধু মেহেদীকে ফিরিয়েই ক্ষান্ত হননি, শিকার করেন জোড়া উইকেট। ৩ ওভার করতেই ৪ উইকেট ঝুলিতে নেন দাসুন শানাকা। শেষ ১২ বলে দরকার হয় ৩৭ রানের। আর খুলনার দরকার কেবল ১ উইকেট। ওয়াসিম জুনিয়রের করতে আসা ১৯তম ওভারের প্রথম বলেই নবী ডিপ মিড উইকেট দিয়ে হাঁকান ছক্কা। পরের বলে ডাবল নিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন। তৃতীয় বলে নবীকে আফিফের হাতে ক্যাচ বানিয়ে খুলনার ২৮ রানের রোমাঞ্চকর জয় নিশ্চিত করে দেন ওয়াসিম জুনিয়র। হ্যাটট্রিক জয়ের উদযাপনে মাতে বিজয়ের দল।