রেকর্ড গড়েই জয় লঙ্কানদের
রেকর্ড গড়েই জয় লঙ্কানদের
রেকর্ড গড়েই জয় লঙ্কানদের
হাঁফ ছেড়ে বাঁচা যাকে বলে। জয়টা কষ্টের ছিলো বলাই যায় শ্রীলঙ্কার। যদিও নিজেদের মাঠে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা।
সিরিজে একটি টেস্ট ম্যাচ ছিলো দু’দলের। এর আগে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩-২ ব্যবধানে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে সিরিজ হারায় সফরকারী জিম্বাবুয়ে। টেস্টেও যে সফরকারীরা চমক দেখাবে সেটি নিশ্চয় ভাবেনি শ্রীলঙ্কা। বলা যায় জিম্বাবুয়ে জিততে জিততে হেরে গেছে।
এই ম্যাচে শুরু থেকেই স্বাগতিকদের উপর চেপে বসে সফরকারী জিম্বাবুয়ে দল। কলোম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক। প্রথম ইনিংসের শুরুটা মোটেও ভালো করেনি জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা আর রেজিস চাকাবা। ১২ ওভারেই হারায় ৩ উইকেট। এরপর শুরুর ধাক্কাটা সামলান ক্রেইগ আরভিন আর সিন উইলিয়ামস। আরভিনের ১৬০ রান আর শেষদিকের ব্যাটসম্যানদের কার্যকরী কিছু ইনিংসের উপর ভর করে ১০ উইকেটে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৫৬ রানের। এই ইনিংসে লঙ্কানদের হয়ে রঙ্গনা হেরাথ নেন ৫ উইকেট।
৩৫৬ রান টপকাতে গিয়ে খারাপ করেনি স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা। লঙ্কানদের হয়ে প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করেন ওপেনার ব্যাটসম্যান উপুল থারাঙ্গা। তাঁর ব্যাটে আসে ৭১ রান। এরপর দিনেশ চান্দিমাল করেন ৫৫ রান। ১০ উইকেট হারিয়ে প্রথম ইনিং শেষে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা সফরকারীদের কাছে পিছিয়ে থাকে ১০ রানে। গ্রায়েম ক্রেমার নেন পাঁচ উইকেট।
দ্বিতীয় ইনিংসে লিড দিতে নেমে জিম্বাবুয়ে শুরুর দিকে মাত্র ৬০ রানেই হারায় ৫ উইকেট। এরপরই দলের হাল ধরেন সিকান্দার রাজা। তাঁর ব্যাটে আসে অনবদ্য শতক। আউট হন ১২৭ রান করে। এরপর ম্যালকম ওয়ালার আর গ্রায়েম ক্রিমারের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ৩৮৮ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায় সফরকারীরা।
৩৮৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্বাগতিকরা কিছুটা চাপে থাকলেও পরীক্ষা দিয়েছেন ধৈর্য্যের। শুরু থেকেই স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা দেখেশুনেই মোকাবেলা করেছেন সফরকারী বোলারদের।
কুশল মেন্ডিসের ব্যাটে আসে ৬৬ রান। শেষদিকে নিরোশান ডিকওয়েলার ব্যাটে ৮১ আর অপরাজিত থাকা গুনারত্নের ৮০ রানের উপর ভর করে রেকর্ড রান তাড়া করে জয়ের লক্ষ্যে পৌছে যায় শ্রীলঙ্কা। এই ইনিংসে জিম্বাবুয়ের হয়ে ৪ উইকেট নেন গ্রায়েম ক্রিমার।
সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ-
জিম্বাবুয়ে- ৩৫৬ ও ৩৭৭
শ্রীলঙ্কা- ৩৪৬ ও ৩৯১/৬ (১১৪.৫ ওভার) ডিকভেলা ৮১, গুনারত্নে ৮০*, মেন্ডিস ৬৬, করুনারত্নে ৪৯, পেরেরা ২৯*। ক্রেমার ৪/১৫০, উইলিয়ামস ২/১৪৬
ফলাফলঃ শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেটে জয়ী।
ম্যান সেরা: আসেলা গুনারত্নে (শ্রীলংকা)।
সিরিজ সেরা: রঙ্গনা হেরাথ (শ্রীলঙ্কা)।
সিরিজঃ শ্রীলঙ্কা ১-০ ব্যবধানে জয়ী।
