শুরুতেই নেই উইকেট, এরপর নাইম শেখ আর সাইফ হাসান মিলে দারুণভাবে সামলান ধাক্কা। চার-ছয়ের বন্যা বইয়ে দেওয়া এই জুটিতে ৫৭ বলে আসে ৭৮ রান। এরপর সেই পুরানো ব্যাটিং ব্যর্থতা। প্রথম ১০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৮২ রান করা দুর্দান্ত ঢাকা শেষ ১০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ৪২ রান। বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েও ঢাকার ইনিংস শেষ পর্যন্ত থামে ১২৪ রানে।
দুর্দান্ত ঢাকাকে অল্পতেই আটকে দিতে বড় অবদান রাখেন সিলেট স্ট্রাইকার্সের সামিত প্যাটেল ও রেজাউর রহমান রাজা। মাত্র ২০ রান খরচায় রাজা দখলে নেন ৩ উইকেট, সামিত প্যাটেল ১৯ রানের বিনিময়ে শিকার করেন ২ উইকেট। ফলে এই ম্যাচ জিততে হলে ১২০ বলে সিলেট স্ট্রাইকার্সকে করতে হবে ১২৫। টসে জিতে বল করতে নামা সিলেট স্ট্রাইকার্স শুরুর ওভারেই পায় সাফল্য। অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের আস্থার পূর্ণ প্রতিদান দেন তরুণ স্পিনার নাইম হাসান। আগের বলে বাউন্ডারি হজম করে পরের ডেলিভারিতেই নাইম পেয়ে যান উইকেটের দেখা। ৪ রানের বেশি করতে পারেননি ঢাকার ওপেনার সাব্বির হোসেন। শুরুর ধাক্কা সামলে নিয়ে ইনিংস মেরামতে মনোযোগ বাড়ান ওপেনার মোহাম্মদ নাইম শেখ ও তিনে নামা সাইফ হাসান। ধাক্কা সামলে রানের চাকায়ও গতি নিয়ে আসেন তারা। নাইম হাসান প্রথম ওভারে কেবল ৪ রান খরচায় উইকেট পেলেও দ্বিতীয় ওভারে এসে খরচা করে যান ১৯ রান। ওভারের শেষ চার বলে ৪, ৪, ৬, ৪ হাঁকিয়ে মোট ১৮ রান একাই নেন সাইফ। এরপর নাইম শেখের ব্যাটিং তাণ্ডবে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ঢাকার স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৫২ রান। এরপরেও নাইম-সাইফের ব্যাটে ঝড় থামেনি। দশ ওভারে দুর্দান্ত ঢাকা পেয়ে যায় ৮২ রান। ১১তম ওভারে বেনি হাওয়েলের হাতে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু পায় সিলেট স্ট্রাইকার্স। নিজের দ্বিতীয় স্পেলে এসেই হাওয়েল শিকার করেন ৪১ রানে থাকা সাইফ হাসানের উইকেট। ওভারে কেবল ১ রান খরচায় বেনি হাওয়েল শিকার করেন সাইফের উইকেট। ৩২ বল খেলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় এই ইনিংস সাজিয়ে যান সাইফ। আর তাতেই ভাঙে নাইম শেখের সঙ্গে গড়া ৭৮ রানের জুটি। মুহুর্তেই দুর্দান্ত ঢাকার ছন্দপতন। পরের ওভারেই তারা হারায় সেট ওপেনার মোহাম্মদ নাইমকে। বিগ শটের চাহিদায় সামিত প্যাটেলের বলে ব্যাট চালাতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ হন নাইম। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে এই ওপেনারের ব্যাট থেকে ২৯ বলে আসে ৩৬ রান। সামিত প্যাটেল কোটার শেষ ওভার করতে এসে পেয়ে যান আরও এক উইকেটের দেখা। লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়া অ্যালেক্স রস পাঁচ রানের বেশি করতে পারেননি। টানা দুই ম্যাচে এক অংকের ঘরে থেকেই বিদায় নিতে হয় রসকে। ওপেনার সাইম আইয়ুব আজ পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমেও দেখিয়ে গেলেন হতশ্রী ব্যাটিং। রংপুরের বিপক্ষে গতকাল ২ রান পাওয়া সাইম আইয়ুব আজ পজিশন বদল করে পেয়েছেন ১০ রান। ইরফান শুক্কুরও এদিন ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ। দুর্দান্ত ঢাকার এই উইকেটকিপার ব্যাটার ৮ বলে করেছেন ১০ রান। অধিনায়ক তাসকিন আহমেদ ব্যক্তিগত ৬ রানে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউটের শিকার হয়ে সাজঘরের পথে হাটেন।