অধিনায়ক শান্ত মুগ্ধ করেছে মুশফিককে
অধিনায়ক শান্ত মুগ্ধ করেছে মুশফিককে
অধিনায়ক শান্ত মুগ্ধ করেছে মুশফিককে
পূর্ণ মেয়াদে অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া নাজমুল হোসেন শান্ত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতেই পেলেন মনের মতো এক জয়। নিজে খেলেছেন ক্যারিয়ার সেরা ১২২ রানের ইনিংস, বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করে ছেড়েছেন মাঠ। কিন্তু এই দুর্দান্ত শান্তই যে বিপিএলে ছিলেন বিবর্ণ। তবে জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরলেই শান্ত রান করবে, এমন বিশ্বাস ছিল অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের। শান্ত করেছেনও তাই, সেঞ্চুরিতে রাঙালেন দলের জয়। ক্যাপ্টেনসি শান্ত খুব এনজয় করছেন, রীতিমতো শান্তকে প্রশংসা বন্যায় ভাসিয়ে গেলেন মুশফিক। আজকের ইনিংস নিয়ে মুশফিক বললেন, শান্ত এর চেয়েও ভালো খেলতে পারে।
২০২৪ বিপিএলে সেরা ৫০ রান সংগ্রাহকের মধ্যে কেবল শান্তর নামের পাশেই ছয় শূন্য। শান্তই গেল বিপিএলে ছিলেন বিবর্ণ, ১২ ম্যাচে রান পেয়েছেন কেবল ১৭৫। গড় ১৪.৫৮, স্ট্রাইক রেট ৯৩.৫৮। শান্ত বিপিএলে ২৫ টি চার মারতে পারলেও তার ব্যাটে দেখা যায়নি কোনো ৬।
অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে প্রথম জয়, অধিনায়ক হিসেবে পেলেন প্রথম সেঞ্চুরিও। শান্ত সিরিজ শুরুর আগেই বলেছিলেন, বাংলাদেশ দলের জন্য অধিনায়কত্ব করা তার কাছে মহা আনন্দের। এবার সতীর্থ মুশফিকের কণ্ঠেও ভাসল একই সুর। শান্তকে নিয়ে মুশফিক সংবাদ সম্মেলনে বের করলেন প্রশংসার ফুলঝুরি,
'দেখুন বিপিএল এক ফরম্যাট এটা আরেক ফরম্যাট। কিছু কিছু মানুষ যখন দায়িত্ব বেশি থাকে তখন সেরাটা খেলে। ও এরকম মানসিকতার একজন ছেলে, ওর কাছে যত বেশি দায়িত্ব থাকে এটাকে তত চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয় এবং ওভাবে পারফর্ম করে। ও জাতীয় দলে রান করা শুরু করবে এ ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। পরিবেশ এখানে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এখানে আউটকাম নিয়ে চিন্তা করি না। এখানে পরিবেশ এমন রাখি যাতে সবাই যার যার প্রক্রিয়া ঠিক রাখে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পর যদি ফল না-ও আসে, সেটা এক-দুদিন হতে পারে। প্রতি ম্যাচে ৭ ব্যাটারের প্রত্যেকে তো আর একশ করবে না। যেভাবে ও রুটিন ঠিক রেখেছে, সব দিকে কথা বলেছে, তখনই মনে হয়েছে রান করা শুধু সময়ের ব্যাপার। ক্যাপ্টেন্সি ওর জন্য এত উপভোগ্য একটা জিনিস। চ্যালেঞ্জটা নিতে সবসময় আগ্রহী থাকে।'
২৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে লিটন দাসের গোল্ডেন ডাক, আরেক ওপেনার সৌম্য সরকারের ব্যাটে কেবল ৩। দুই ওপেনারের দ্রুত বিদায়ের পর দলকে জেতাতে কারো বিশেষ কিছু করতেই হত, সেটাই করলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ওয়ানডেতে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সেঞ্চুরি! শুধু সেঞ্চুরি করেই শান্ত থেমে যাননি, দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন। মাঝে তাকে সঙ্গ দিয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ খেলেছেন ৩৭ রানের ইনিংস। মুশফিকুর রহিম ১৬তম ওভারে উইকেটে এসে শান্তকে দেন যোগ্য সঙ্গ, আর কোনো বিপদ না ঘটিয়েই দলকে এনে দেন ৬ উইকেটের বড় জয়। শান্ত ১২২ ও মুশফিক ৭৩ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। ৩৩ বল বাকি থাকতেই জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
শান্তর খেলার ধরন নিয়ে বলতে গিয়ে মুশফিক শোনালেন,
'শান্ত এর চেয়েও সাবলীল, আরও দাপট নিয়ে খেলে। এখনও অনেক কিছু বাকি। সে আরও ভালো ক্রিকেট খেলে। পরিবর্তন যেটা- আগে ভালো শুরু পেলে ৫০-৬০ রান করত এখন বড় ইনিংস খেলছে, দলকে জেতাচ্ছে। আজ দেখুন, একশ করার পরের বলে যেভাবে মিড অনে অনায়াসে একটা সিঙ্গেল বের করেছে এটাই প্রমাণ করে সে দলের জন্য কত চিন্তা করে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বারবার বলছিল, আমরা যেন ২০-৩০ রান করে হলেও অবদান রাখি, কাউকে যেন সুযোগ না দেই। কারণ ক্রিকেটে যেকোনো কিছু হতে পারে।'
