‘ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস’! প্রবাদ বাক্যটা অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দল খুলনা টাইগার্সের ক্ষেত্রে। শূন্য রানে থাকা হ্যারি টেক্টরের সহজ ক্যাচ ছাড়েন রুবেল হোসেন। আর এতেই যে হয়ে গেল রাজ্যের সর্বনাশ! ১৫৩ রান করেও ম্যাচটা খোয়াতে হলো টাইগার্সের। দলকে সহজ জয়ের পথে পৌঁছে দিয়ে যান টেক্টর। ৬১ রানের ইনিংস খেলে টেক্টরের বিদায়ের পর রায়ান বার্ল রুবেলকে তুলোধুনো করেন। ফলে এক ওভার আগেই সিলেট স্ট্রাইকার্স ম্যাচ জিতে ৫ উইকেটে।
জয়ের জন্য শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য খুলনা টাইগার্সের দরকার ছিল ১৯ রান। ১৯ তম ওভারে নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে রুবেল হোসেন খরচ করেন ২৪ রান। রায়ান বার্ল রীতিমতো ঝড় বইয়ে দিয়ে এক ওভার আগে সিলেটের জয় নিশ্চিত করেন। রুবেলের দুই ওভার থেকেই সিলেট পেয়ে যায় মোট ৩৬ রান। এর আগে রুবেল ছাড়েন টেক্টরের সহজ ক্যাচ; এক রুবেলের বাজে পারফর্ম্যান্সই খুলনার ম্যাচ হারের কারণ।নাহিদুল ইসলাম খুলনার বোলিং ইনিংসের শুরুটা করেন মেডেনে। হ্যারি টেক্টর ৬ বলে একটি রানও বের করতে পারেননি, উলটো রিভিউ নিয়ে নিজের উইকেট বাঁচিয়েছেন। ওভারের ৪র্থ বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে লাইন মিস করে এলবিডব্লিউ হন, আম্পায়ার স্পিনার নাহিদুলের আবেদনে আউট জানালেও ডিআরএসে নতুন জীবন পান সিলেটের আইরিশ ওপেনার। পরের ওভারেও হ্যারি টেক্টর দ্বিতীয় বারের মতো বেঁচে যান। সুমন খানের বলে টেক্টর ক্যাচ তুলে দিলেও ফাইন লেগ অঞ্চলে দাঁড়িয়ে থাকা রুবেল হোসেন সহজভাবে তা ছেড়ে দেন। এবারের বিপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা পেসার সুমন প্রথম ওভারেই পেতে পারতেন উইকেট, যদি না রুবেলের হাত ফসকে বল বেরিয়ে না যেত।শূন্য রানে থেকেই দুইবার জীবন ফিরে পেয়ে হ্যারি টেক্টর ইনিংস টেনেছেন। উইকেট হারানোর ভয় ছিটকে ফেলে টেক্টর স্ট্রোক্স খেলতে থাকেন স্বাচ্ছন্দ্যে। প্রথম ওভারে মেডেন পাওয়া নাহিদুল নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে, এবার আর উইকেট নিতে ভুল করেননি। এভিন লুইসের হাতে লং অনে ক্যাচ বানান ওপেনার সামিত প্যাটেলকে। আগের ম্যাচে ডাক হওয়া সামিত আজ অবশ্য করেছেন ১৩ রান। তিনে নামা নাজমুল হোসেন আর হ্যারি টেক্টর মিলে ৪৬ রান তুলে পাওয়ার প্লে শেষ করেন।আগের ৬ ম্যাচে বেঞ্চে সময় কাটানো রুবেল হোসেন আজ জায়গা পেলেন খুলনার সেরা একাদশে। তবে অভিজ্ঞতা আর নামের সুবিচার করতে রুবেল ব্যর্থ হন প্রথম ওভার করতে এসে। ৪ ওয়াইডে ১০ বলের এক লম্বা ওভার করে রুবেল খরচ করেছেন ১২ রান। ক্যারিবীয় অফ স্পিনার মার্ক দেয়াল বিপিএলে নিজের প্রথম ওভারে দেন ১৩ রান। পরের ওভার করতে এসে ১ রানের বিনিময়ে শিকার করেন জোড়া উইকেট। এক দেয়ালের স্পিন বিষে নীল হয়ে ১৮ রানে থাকা শান্ত হতাশায় নিয়েছেন বিদায়, জাকির হাসান হয়েছেন ডাক।দলীয় ৬৫ রানে ৩ উইকেটে হারিয়ে ফেলা সিলেট স্ট্রাইকার্সকে এরপর পথ দেখান টিকে যাওয়া হ্যারি টেক্টর আর অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। তবে বাউন্ডারির চাহিদায় ব্যক্তিগত ২৪ রানে থাকা মিঠুন হারিয়েছেন উইকেট। মার্ক দেয়ালকে এগিয়ে খেলতে গিয়ে মিঠুন হয়েছেন স্টাম্পড। এরপর ৪৩ বলে টেক্টর ছুঁয়েছেন পঞ্চাশ। ৫২ বলে ৬১ করে নিয়েছেন বিদায়। সিলেটকে ৫ উইকেটের জয় এনে দিতে বাকি কাজটা একাই করেন রায়ান বার্ল। ১৬ বলে খেলেছেন ৩২ রানের ক্যামিও ইনিংস। ভয়ংকর হয়ে ওঠা বার্লের হাতে ১৯তম ওভারে এসে রুবেল দেন ৩ ছয় ও ১ চার। তাতেই যেন সিলেট মাতে জয় উদযাপনে। এর আগে অধিনায়কোচিত ইনিংসে বিজয় শুধু দলকেই টানেননি, নিজে পেয়েছেন এবারের আসরে তৃতীয় ফিফটির দেখা। শেষদিকে বিজয়কে সঙ্গ দিয়ে হাবিবুর রহমান সোহান চালান তাণ্ডব। সোহান অবশ্য ফিফটি না পেলেও ৩০ বলে খেলেছেন ৪৩ রানের অনবদ্য ইনিংস। আর তাতেই সিলেটের বিপক্ষে খুলনার রান ১৫৩।