বিপিএলে তামিম ইকবাল আর মুশফিকুর রহিমের মধ্যে মধুর লড়াই চলছে। এ যেন ফরচুন বরিশালের দুই সতীর্থের লড়াই! দু'জনের মধ্যে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার প্রতিযোগিতা। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান এবারের বিপিএলে নিজেদের মেলে ধরেছেন পুরোপুরি ভিন্ন রূপে। ২২ জানুয়ারি খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথম ব্যাটার হিসেবে বিপিএলে তিন হাজার রান স্পর্শ করেন তামিম ইকবাল। পরের ম্যাচে মুশফিকুর রহিমও নিজের নাম লেখান তিন হাজার রানের এলিট ক্লাবে। মাইলফলক ছুঁয়ে অবশ্য মুশফিক ছাড়িয়ে যান তামিমকে। তবে এক ম্যাচ মিস করেই সেরা পাঁচ থেকে নেমে গেলেন সাকিব আল হাসান।
বিপিএলে তামিম, মুশফিকের রানের লড়াইটা অবশ্য নতুন কিছু নয়। সবার আগে হাজার রানের ঘরে ঢুকেছিলেন মুশফিক, ২০১৬ সালে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এরপর একই মাইলফলক স্পর্শ করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। হাজার রানের ক্লাবে নাম লেখানো অবশ্য তৃতীয় ক্রিকেটার ছিলেন তামিম। তবে ২০১৯ সালের বিপিএল আসরে মুশফিককে পেছনে ফেলে দুই হাজার রানে প্রথম হন তামিম। এবারের বিপিএল শুরু হতে না হতেই সবার আগে তিন হাজারি ক্লাবেও নিজের নাম লিখেন তামিম ইকবাল। খুলনা টাইগার্সের বিরুদ্ধে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ওপেনিংয়ে নেমে ৪০ রানের ইনিংস খেলেন তামিম। এই ইনিংসের পথেই তিন হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এই ম্যাচে ৬৮ রানে অপরাজিত থাকায় তিন হাজারের ক্লাবে যেতে মুশফিকের প্রয়োজন ছিল ২৪ রান। পরের ম্যাচেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ঢাকা পর্বের শেষ ম্যাচে মুশফিক পেয়েছেন ৬৩ রান। এই ইনিংস খেলার পথেই মুশফিক ছুঁয়ে যান মাইলফলক। তামিমের পর দ্বিতীয় ক্রিকেট হিসাবে তিন হাজার রানের এলিট ক্লাবে জায়গা করে নেন মুশফিকুর রহিম। শুধুই তিন হাজারের ক্লাবে ঢুকেই ক্ষান্ত থাকেননি মুশফিক। টপকে গেছেন তামিমের মোট রান, বিপিএলে মুশফিকের সংগ্রহে এখন মোট ৩০৩৯ রান।দেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টটিতে তামিমের নামের পাশে এখন ৩ হাজার ২৪ রান। বিপিএলের সবগুলো আসর মিলিয়ে ৯১ ইনিংস খেলে তার ব্যাটিং গড় ৩৭.৮০ ও স্ট্রাইক রেট ১২২.৭৭। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ২৫টি ফিফটি হাঁকিয়েছেন দেশ সেরা এই ওপেনার। দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে একাধিক সেঞ্চুরি করা একমাত্র ব্যাটসম্যানও তিনি। তবে বিপিএলে মোট ৫ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ক্রিস গেইল সবার উপরে। তালিকার তিনে আছেন ফরচুন বরিশালের আরেক ব্যাটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ১০৭ ম্যাচে তার মোট রান ২ হাজার ৩৩৩। ১০৮ ম্যাচে ২ হাজার ৩০৬ রান নিয়ে চারে আছেন ইমরুল কায়েস। সাকিবকে টপকে অবশ্য সেরা পাঁচে জায়গা করে নিয়েছেন এনামুল হক বিজয়। বিপিএল ইতিহাসে মুশফিকের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০৯ ম্যাচ খেলা বিজয়ের রান সংখ্যা ২১৬০। ছয়ে নেমে যাওয়া সাকিব আল হাসান ১০১ ম্যাচ খেলে করেছেন ২ হাজার ১৪৪ রান। তবে ১৩৪ উইকেট নিয়ে বোলারদের মধ্যে অবশ্য সাকিবই শীর্ষে।