বিধ্বস্ত সিলেটের ফাই-ফার

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ: messages.not_available আপডেট: 6 মিনিট আগে
বিধ্বস্ত সিলেটের ফাই-ফার

বিধ্বস্ত সিলেটের ফাই-ফার

বিধ্বস্ত সিলেটের ফাই-ফার

অধিনায়ক মাশরাফির মতোই যেন তার দল সিলেট স্ট্রাইকার্সের অবস্থা। মাশরাফি বল করেননি একটিও, তবে ব্যাট হাতে পেয়েছেন ২। এবারের বিপিএলে সিলেট স্ট্রাইকার্স পূর্ণ করল হারের ফাই-ফার। ফরচুন বরিশালের ১৮৬ রান টপকাতে নেমে ১৩৭ রানের বেশি করতে পারেনি ঘরের দলটি। নিজেদের কয়েক হাজার দর্শকদের সাথে নিয়ে আরও একবার হতাশার সমুদ্রে ডুবল স্ট্রাইকার্স বাহিনী। মাশরাফির দল যেন পার করছে অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়ার বিভীষিকাময় সময়!

ঢাকা পর্বে টানা দুই ম্যাচ হেরে আসা সিলেট স্ট্রাইকার্স ঘরের মাঠে এসে পেল হ্যাটট্রিক হারের স্বাদ। তাতেই যেন প্রথম দল হিসাবে তাদের ছোঁয়া হয়ে গেল ফাই-ফারের এক অন্যরকম এক রেকর্ড। বিপিএলের নবম আসরের ফাইনালিস্ট দল সিলেট চলতি বিপিএলে একটি জয়ও তুলে নিতে পারেনি। ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া দলটির হোম গ্রাউন্ডে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচেও হারল বাজে ভাবে। সিলেটকে লজ্জার রেকর্ডের সাক্ষী বানিয়ে জয়ের ধারায় ফিরল বরিশাল। তিন ম্যাচ পর অবশেষে তারা পেল ৪৯ রানের রোমাঞ্চকর জয়।  টুর্নামেন্টে হারের ফাই-ফার থেকে রক্ষা পেতে আজ ১৮৬ রানের লক্ষ্য পেয়েছিল তারা। সিলেটের জন্য যা ছিল বেশ কঠিনই। এবং হয়েছেও তাই, বিপর্যস্ত দলটি আরও একবার করল অসহায় আত্মসমর্পণ। বড় লক্ষ্য তাড়ায় নেমে যেভাবে ব্যাট করার দরকার ছিল, সিলেটের দুই ওপেনার দেখাতে পারেনি এর ছিটে-ফোটাও। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই দুই ওপেনারের বিদায়। ৭ বলে ৯ করে বিদায় নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। মোহাম্মদ মিঠুনের জায়গায় সেরা একাদশে জায়গা পাওয়া শামসুর রহমান শুভ অবশ্য করে গেছেন ২৫ রান।  চমক হিসাবেই এদিন চারে নামেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। বল হাতে একটি ডেলিভারিও না করা মাশরাফি চেয়েছিলেন ব্যাটিংয়ে দলের চাহিদা মেটাবেন। কিন্তু ক্লান্ত মাশরাফি ৩ বলের বেশি খেলতে পারেনি। ঘরের মাঠ সিলেটে এবারের বিপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা খালেদ প্রথম ওভারেই পেলেন উইকেটের দেখা। তার হাতেই বিদায় ঘটে সিলেটের অধিনায়কের।  এরপর অবশ্য সিলেটের দর্শকদের আনন্দে মাতিয়ে রাখেন জাকির হাসান ও বেনি হাওয়েল। ৪টি করে চার ও ছক্কায় তাদের জুটিতে আসে ইনিংসের সর্বোচ্চ ৫৮। এই জুটির তাণ্ডবে জয়ের আশাও দেখতে শুরু করেছিল সিলেট স্ট্রাইকার্স। কিন্তু ফের ছন্দপতন। জাকির হাসানের রান যখন ২৭ বলে ৩৭, খালেদের বলে ডিপ মিড উইকেটে তুলেন ক্যাচ। মেহেদী হাসান মিরাজ দৌড়ে এসে বল তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন। নতুন জীবন পাওয়া জাকির অবশ্য পরের ওভারেই হারিয়েছেন উইকেট। এবার লং অফে দাঁড়ানো মিরাজ আর আগের ভুল করেননি। ৪ রানের জন্য ফিফটি মিস করেন জাকির। তার ফেরার পর যেন মুহূর্তেই ভাঙচুর হয়ে যায় মিডল অর্ডার। পরপর দুই ওভারে মিরাজ, খালেদ শিকার করেন আরও দুই উইকেট। ২৪ রানে থাকা হাওয়েল মিরাজের বলেই ক্যাচ দিয়ে ধরেন সাজঘরের পথ। খালেদ আহমেদ আরিফুলকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে দখলে নেন নিজের দ্বিতীয় শিকার।  ১ রানের বেশি পাননি রায়ান বার্লও। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউটে কাটা পড়েন ১ রান করা নাইম হাসান। পরপর দুই বলে সিলেটের শেষ দুই উইকেট নেন মোহাম্মদ ইমরান। ১৭.৩ ওভারেই ১৩৭ রানে গুটিয়ে গেল সিলেট স্ট্রাইকার্স। ৪৯ রানের রোমাঞ্চকর জয়ে সিলেট রাঙাল বরিশাল। ফিরল জয়ের ধারায়।