সিলেটের পিচে পেসাররা বাড়তি সুবিধা পাবে, এই ভাবনায় একাদশে দেখা মিলল থ্রি-পেস-অ্যাটাকের। তবে অমন উইকেটে নেমে দুর্দান্ত এক জবাবই দিল লঙ্কান মিডল অর্ডার। 'গ্রিনিশ উইকেটে' ইনিংসের শুরুতে অবশ্য তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন শরিফুল ইসলাম। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই উইকেট পাওয়া শরিফুল শেষ পর্যন্ত ৪ ওভারে রান খরচ করেন ৪৭। তাসকিন ১ উইকেট নিয়ে রান দিয়েছেন ৪০। কুশল মেন্ডিস আর সাদিরা সামারাবিক্রমার ফিফটিতে শ্রীলঙ্কা পেল ২০৬ রানের বড় সংগ্রহ। শেষদিকে ৬ ছক্কায় চারিথ আসালাঙ্কা খেলেন ৪৪ রানের ক্যামিও ইনিংস।
৪-০-৪৭-১, ৪-০-৪০-১, ৪-০-৪২-১; শরিফুল-তাসকিন-মুস্তাফিজের এই বোলিং ফিগারগুলোই বলে দেয় আজকের ম্যাচে টাইগার পেসাররা কতটা অসহায় ছিল। সবুজে ঘেরা উইকেটেও লঙ্কান ব্যাটাররা দেখালেন তান্ডব। মুস্তাফিজুর রহমান ইনিংসের শেষ ওভারে এসে রান দিয়েছেন মোট ২৪। লঙ্কান অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা আর সাদিরা সামারাবিক্রমা মিলে ফিজের ওপর রীতিমতো শেষ ঝড় বইয়ে দেন। এই দুইয়ে মিলে শেষ ৩৩ বলে স্কোরবোর্ডে জমা করেন ৭৩ রান। ২১ বল খেলা আসালাঙ্কা ৬ ছক্কা হাঁকিয়ে রান করেন ৪৪। ৪৩ বলে পঞ্চাশ রান পূর্ণ করা সাদিরা মাঠ ছাড়েন নামের পাশে ৬১ রান নিয়ে। উইকেট সবুজ ঘাসে ভরা। পেস, সুইংয়ে ভোগাতে আগে বোলিং নিয়েছিল বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। টাইগাররা সাফল্য পেয়েছে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই। বিপিএলে দুর্দান্ত ঢাকার জার্সিতে প্রথম ওভারে উইকেট পাওয়া অভ্যাসে পরিণত হওয়া শরিফুলের দাপট এবার জাতীয় দলেও। ইনিংসের প্রথম ডেলিভারি অবশ্য লঙ্কান ওপেনার আভিষ্কা ফার্নান্দর ব্যাট ছুঁয়ে হয়ে যায় বাউন্ডারি। শরিফুল জবাব দিলেন পরের বলেই, এবারও ছুঁয়েছে আভিষ্কার ব্যাট। কিন্তু সহজেই বল গ্লাভসে লুফে নেন লিটন দাস। পেসার শরিফুল খানিক দৌড়ে গিয়ে মাতেন টাইমড আউট উদযাপনে।তিনে নামা কামিন্দু মেন্ডিস এদিন ফিরতে পারতেন গোল্ডেন ডাক হয়ে। ফ্লিক করতে গিয়ে এজ হয় বল, বোলার শরিফুল ইসলাম ফিরতি ক্যাচ হাতে জমাতে ব্যর্থ হন। যা অবশ্য বেশ কঠিনই ছিল। শরিফুল নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসেও বিপাকে ফেলেন কামিন্দুকে। লেগ বিফোরের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ চ্যালেঞ্জ নিয়েও উইকেট নিশ্চিত করতে পারেননি শরিফুল। তবে কামিন্দু ফিরলেন ব্যক্তিগত ১৯ রানে। শরিফুল তার উইকেট না পেলেও তাসকিন আহমেদ দখলে নিয়েছেন প্রথম উইকেট। ৩৭ রানে দুই উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কা পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষ করে স্কোরবোর্ডে ৪৫ রান জমা করে।সবুজ গালিচায় নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাট চালাতে থাকেন কুশল মেন্ডিস। দাপুটে ব্যাটিংয়ে ২৮ বলে পূর্ণ করেন ফিফটি। সাদিরা সামারাবিক্রমাকে নিয়ে দলের রানের চাকায় এনেছেন গতি। কোনোভাবেই উইকেটের দেখা পাচ্ছিল না স্বাগতিক বোলাররা। কোটার শেষ ওভার করতে এসে রিশাদ হোসেন দলকে এনে দেন গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু। ৫৯ রানে থাকা মেন্ডিসকে ক্যাচ বানালে ভাঙে ৯৬ রানের জুটি। মাত্র ৩১ বলে সাদিরা আর মেন্ডিস মিলে এই জুটি গড়েন। ৪৩ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে সাদিরা দলের সংগ্রহ বড় করতে থাকেন। শেষবেলায় তাকে এসে সঙ্গ দেন অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা চারিথ আসালাঙ্কা।