আভিষ্কার তাণ্ড'বে চট্টগ্রাম পেল সর্বোচ্চ সংগ্রহ

97 Repoter: 97admin

Publish: messages.not_available Update: 1 second ago
আভিষ্কার তাণ্ড'বে চট্টগ্রাম পেল সর্বোচ্চ সংগ্রহ

আভিষ্কার তাণ্ড'বে চট্টগ্রাম পেল সর্বোচ্চ সংগ্রহ

আভিষ্কার তাণ্ড'বে চট্টগ্রাম পেল সর্বোচ্চ সংগ্রহ

আভিষ্কা ফার্নান্দোর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে চট্টগ্রামকে এনে দেন এবারের বিপিএলের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। তবে সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ আছে আভিষ্কার, শেষ ওভারে খেলতে পারেন কেবল ১ বল। ক্যাম্ফারের তান্ডবে স্ট্রাইক বঞ্চিত হন আভিষ্কা, ফলে ৯১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। আর তাতেই বরিশালের সামনে ১৯৪ রানের পাহাড় সম টার্গেট। আভিষ্কার অতিমানবীয় ইনিংসটি সাজানো ছিল ৫ চার ও ৭ ছক্কায়। কুর্টিস ক্যাম্ফার ৯ বলে খেলেন ২৯ রানের ক্যামিও ইনিংস। 

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে টসে জিতে আগে ফিল্ডিং নেওয়া ফরচুন বরিশালের দলনেতা তামিম ইকবাল প্রথম ওভারেই বল তুলে দেন তাইজুল ইসলামের হাতে। এবারের বিপিএলে আজই প্রথম ম্যাচ খেলতে নামলেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। হ্যাটট্রিক বাউন্ডারিতে ভয়ংকর হয়ে ওঠা চট্টগ্রামের ওপেনার তানজিদ তামিমকে পরের বলে ক্যাচ বানিয়ে অধিনায়কের আস্থার পূর্ণ প্রতিদান দেন তাইজুল। ইনিংসের প্রথম বল ডট খেলে পরের তিন বলে তিন জায়গা দিয়ে বাউন্ডারি পেয়ে যান তামিম। ওভারের পঞ্চম বলে হাঁকাতে চেয়েছিলেন ছক্কা, কিন্তু ডিপ স্কয়ার লেগে ওয়েল্লালাগের হাতে ক্যাচ হয়ে অবাক তাকিয়ে রইলেন তামিম। নিজের চোখকেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, 'এমন শটেও ক্যাচ আউট'। দারুণ শুরুর পর তামিমের বিদায় একপ্রকার ধাক্কায় খায় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। তাদের বিপদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে যান তাইজুল নিজের পরের ওভার করতে এসে। আর্মার ডেলিভারিতে উপড়ে ফেলেন ইমরানুজ্জামানের স্টাম্প। এই ওভারে মাত্র দুই রান খরচায় নিজের দ্বিতীয় উইকেট পেয়ে যান তাইজুল। স্পিন ঘূর্ণিতে রীতিমতো বাজিমাত করা তাইজুল পাওয়ার প্লের পঞ্চম ওভারেও অ্যাকশনে আসেন। কিন্তু আগের দুই ওভারের মতো এবার আর উইকেটের দেখা পাননি বরিশালের এই অভিজ্ঞ স্পিনার। তিনে নামা ইমরানুজ্জামান ৪ ম্যাচে পেয়েছেন কেবল ১৬ রান। ২ উইকেটে ৫০ রানে পাওয়ার প্লে শেষ করা চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের রানের গতি এরপর আরও বেড়ে যায়। ওপেনার আভিষ্কা ফার্নান্দো আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দলকে টেনে নিয়ে যান বড় সংগ্রহের পথে। এদিন এই লঙ্কান ব্যাটারকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন শাহাদাত হোসেন দিপু। আগের দুই ম্যাচে ব্যর্থ হওয়া আভিষ্কা আজ রীতিমতো চাড়-ছয়ের বন্যা বইয়ে দেন। দিপুকে নিয়ে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৭০ রান, কেবল ৫৫ বলে। তবে ৩১ রানে থাকা দিপুকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙতে অবদান রাখেন প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা ক্যারিবীয় স্পিনার ইয়ানিক ক্যারিয়াহ।  ইনিংসের ১৫তম ওভারের শেষ বলে কামরুল ইসলাম রাব্বিকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন আভিষ্কা। এরপর যেন আভিষ্কা হয়ে ওঠেন আরও ভয়ংকর। দেশের সতীর্থ দুনিথ ওয়েল্লালাগের পরের ওভারে মোট ২০ রান নিয়ে ৪৪ বলে আভিষ্কা পৌঁছে যান ৬৯ রানে। বরিশালের জার্সিতে এদিন সবচেয়ে খরুচে ছিলেন লঙ্কান দুনিথ ওয়েল্লালাগেই, ৪ ওভারে দেন ৪৭ রান। দিপু ফেরার পর আভিষ্কাকে সঙ্গ দিতে আসেন নাজিবউল্লাহ জাদরান। এই জুটিতে দ্রুত রান আসে চট্টগ্রামের স্কোরবোর্ডে। ৩৮ বলে খেলা ৬৮ রানের জুটিতে নাজিবউল্লাহর সংগ্রহ ছিল কেবল ১৮, বাকিটা তান্ডব চালিয়ে নেন আভিষ্কা ফার্নান্দো।  কামরুল ইসলাম রাব্বি নিজের তৃতীয় ওভার করতে এসে তুলে নেন নাজিবউল্লাহ জাদরানের উইকেট। বিপরীতে সেঞ্চুরির পথে ছুটতে থাকেন আভিষ্কা ফার্নান্দো। নাজিবউল্লাহ রাব্বির ওভারের প্রথম বলে আউত হলে পরের তিন বলে কুর্টিস ক্যাম্ফার এসে হাঁকান বাউন্ডারির হ্যাটট্রিক। ৯০ রানে থাকা আভিষ্কার সেঞ্চুরির জন্য শেষ ওভারে দরকার ছিল ১০ রান। আব্বাস আফ্রিদির করতে আসা ওভারের প্রথম বলেই ছয় হাঁকান ক্যাম্ফার, পরের বলে নেন এক। তৃতীয় বলে স্ট্রাইক পেয়ে আভিষ্কা ১ রানের বেশি পাননি। বাকি তিন বলে তিনি আর ফিরতেই পারনেননি স্ট্রাইকে। ক্যাম্ফার একাই তুলে নেন ৯ রান। ফলে ২০ ওভারে চট্টগ্রামের স্কোর গিয়ে থামে ১৯৩ রানে। ৯১ রানের হার-না-মানা ইনিংসে প্যাভিলিয়নে ফিরে যেতে হয় আভিষ্কা ফার্নান্দোকে। ৩২২ এর বেশি স্ট্রাইকরেটে ২৯ রানের দুর্দান্ত ক্যামিও কুর্টিস ক্যাম্ফারের।