তাইজুলের স্পিন বিষ আর সাইফউদ্দিনের গতিতে কুমিল্লা শেষ অল্পতেই

97 Repoter: 97admin

Publish: messages.not_available Update: 33 minutes ago
তাইজুলের স্পিন বিষ আর সাইফউদ্দিনের গতিতে কুমিল্লা শেষ অল্পতেই

তাইজুলের স্পিন বিষ আর সাইফউদ্দিনের গতিতে কুমিল্লা শেষ অল্পতেই

তাইজুলের স্পিন বিষ আর সাইফউদ্দিনের গতিতে কুমিল্লা শেষ অল্পতেই

শুক্রবারে বিপিএল ম্যাচ মানেই একটু বাড়তি উন্মাদনা। দুপুর দুইটা নাগাদ খেলা শুরু হলে গ্যালারি থেকে দর্শকদের স্লোগানে মুখোরিত হয়ে উঠে, হোম অব ক্রিকেট যেন পেল অন্যরকম আমেজ। তবে ব্যাট হাতে ঝড় তুলতে ব্যর্থ কুমিল্লার ব্যাটাররা, এই সুযোগে ফরচুন বরিশালের বোলিং ইউনিট মাতিয়ে রেখেছে ফুল প্যাকড স্টেডিয়াম। তাইজুল ইসলাম একাই স্পিন বিষে নীল করেছেন লিটন-রাসেলদের। কেবল ২ উইকেট পেলেও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বোলিং ফিগার ছিল চোখ ধাঁধানো, ৪-০-১৬-২! শেষ পর্যন্ত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ইনিংস থামে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪০ রানে।  

আগেই সুপার ফোরের শীর্ষ দুই স্থান নিশ্চিত হয়ে যাওয়াতে আজ ছিল কুমিল্লার নিয়মরক্ষার ম্যাচ। ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে কুমিল্লার স্বস্তি কেবল জাকের আলি অনিকের ইনিংস। আজও ফিনিশিংয়ে জাকের ছিলেন অনবদ্য। ১৬ বলে ৩৮ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে দলকে এনে দিলেন ১৪০ রানের সংগ্রহ। ওবেদ ম্যাককয়ের ইনিংসের শেষ ওভারে একাই ১৬ রান নেন জাকের। ২৩৭.৫০ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসে জাকের ছক্কা হাঁকান ৪ টি, বাউন্ডারির সংখ্যা ২। তার দাপুটে ব্যাটিংয়ে শেষ ৫ ওভারে কুমিল্লার স্কোরবোর্ডে আসে ৫৪ রান।  বিপিএলের লিগ পর্বের শেষ হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে টসে হারল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়ক লিটন দাস। তামিম ইকবালের আমন্ত্রণে নামে আগে ব্যাটিংয়ে। লিটন দাস ও সুনীল না রাইন বেশ দেখে-শুনেই ইনিংসের সূচনা করেন। তবে ওবেদ ম্যাককয়কে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে অ্যাকশনে এনেই বাজিমাত তামিম ইকবালের। ম্যাককয়ের ওভারের প্রথম ৫ বলে ১০ রান করা সুনীল নারাইন শেষ ডেলিভারিতেও ব্যাট চালিয়েছেন, তবে মিস টাইমিংয়ে শর্ট থার্ড অঞ্চলে সৌম্যর হাতে হয়েছেন সহজ ক্যাচ।  নারাইনের বিদায়ে ভাঙে ২৪ রানের উদ্বোধনী জুটি। এরপর লিটন দাস পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষ করেন তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে। উইকেটের ধাক্কা সামলেও নিলেও এই দুই ব্যাটারের কল্যাণে কুমিল্লার রানের চাকায় গতি আসেনি। বরং পাওয়ার প্লের ৩৬ বলে তাদের স্কোরবোর্ডে আসে ৩৭ রান। পরের ওভারে তাইজুল ইসলাম বল হাতে নিয়েই দেখালেন ক্যারিশমা। আর্ম ডেলিভারিতে ভাঙেন কুমিল্লার অধিনায়কের স্টাম্প। ধুঁকতে থাকা লিটন দাস প্যাভিলিয়নে ফেরত যান ১২ বলে ১২ রান নিয়ে। প্রথম ওভারে কেবল ১ রান খরচায় লিটনের উইকেট পাওয়া তাইজুল নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে কুমিল্লার বিপদ আরও বাড়িয়ে দেন। এবার তার শিকার মাহিদুল ইসলাম অংকন। ৬ বল খেলা অংকন এদিন ১ রানের বেশি করতে পারেননি। দলীয় ৪০ রানে তিন উইকেট খুইয়ে ফেলা কুমিল্লাকে এরপর টেনে নিয়ে যান তাওহীদ হৃদয় আর মইন আলি। ৩০ বলের বিনিময়ে এই জুটিতে রান আসে ৩৬। তবে ওবেদ ম্যাককয় দ্বিতীয় স্পেলে এসেই তুলে নেন তাওহীদ হৃদয়ের উইকেট। ২৫ রানে থাকা হৃদয় লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট ছুঁয়ে হয়েছেন আকিফ জাভেদের হাতে সহজ ক্যাচ।  পরের ওভারে মইন আলিকেও হারিয়ে বসে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। আকিফ জাভেদের বলে পাওয়ার শট খেলার চেষ্টা করা মইন ক্যাচ হন মিড অফে। সাজঘরে ফেরার আগে মইনের ব্যাট থেকে ২২ বলে আসে ২৩ রান। তাইজুল ইসলাম পরপর তিন ওভারে পেয়েছেন উইকেটের দেখা। আন্দ্রে রাসেল ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগেই হয়েছেন তাইজুলের তিন নম্বর শিকার। কুমিল্লার আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক রাসেল আজ ১১ বলে করেছেন ১৪।  প্রথম দুই ওভারে তিন রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন তৃতীয় ওভারে এসে উইকেট দখলে নিতে আর ভুল করেননি। ম্যাথু ফোর্ডকে দিয়েছেন গোল্ডেন ডাকের স্বাদ। ৩-০-৫-১, বোলিং ফিগারে সাইফউদ্দিন যেন উড়ছেন, উড়ছে তার দল ফরচুন বরিশালও। তবে কোটার শেষ ওভার করতে এসে সাইফউদ্দিন খরচ করে যান ১১ রান।