তামিম, মুশফিকদের তা'ন্ডবের রাতে বরিশালের ১৮৭

97 Repoter: 97admin

Publish: messages.not_available Update: 5 minutes ago
তামিম, মুশফিকদের তা'ন্ডবের রাতে বরিশালের ১৮৭

তামিম, মুশফিকদের তা'ন্ডবের রাতে বরিশালের ১৮৭

তামিম, মুশফিকদের তা'ন্ডবের রাতে বরিশালের ১৮৭

তামিম ইকবাল আজও দর্শকদের হাসালেন, আনন্দে মাতালেন। তার ব্যাটিং ঝড়ে শুরুতেই কাপুনি ওঠে খুলনার বোলিং লাইনে, আর শেষে মুশফিকের ব্যাটিং ঝড়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে বিজয়ের দল। তবে দারুণ খেলেও ফিফটির দেখা পাননি তামিম। মুশফিককে অবশ্য থামাতে পারেনি খুলনার বোলাররা। ফিফটি হাঁকিয়ে মুশফিক শেষপর্যন্ত ৬৮ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। মাঝে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও খেলে গেছেন ক্যামিও ইনিংস। আর তাতেই ২০ ওভারে ফরচুন বরিশালের সংগ্রহ ১৮৭। যা এবারের বিপিএলের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। 

ফরচুন বরিশালে খেলা বাংলাদেশ জাতীয় দলের সব ব্যাটারই আজ ছিলেন মারকুটে মেজাজে। তামিম-সৌম্যর পর মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ তুলোধুনো করলেন খুলনা টাইগার্সের বোলারদের। মুশফিক যখন দলীয় ইনিংস শেষ করে মাঠ ছাড়েন, তখন তার নামের পাশে ৬৮ রান, ৩৯ বলে। ৫ চার ও ৪ ছক্কায় এমন অতিমানবীয় ইনিংসটা মিরপুরের দর্শকদের উপহার দেন অভিজ্ঞ মুশফিক।  টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে নাহিদুল ইসলামের স্পিন ঘূর্ণি সামলাতে বেশ কষ্টই পেতে হয় তামিম ইকবাল, ইব্রাহিম জাদরানকে। ইনিংসের প্রথম ওভারে কেবল ১ রান খরচ করেন আগের ম্যাচের ম্যাচসেরা নাহিদুল। ওশানে থমাস দ্বিতীয় ওভারে এসে দেন ৫ রান। নাহিদুল নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে ৭ রান দিলেও সাফল্য ধরতে পারছেন না। তবে খুলনা টাইগার্স ব্রেকথ্রু পায় ওশানে থমাসের হাতে। লাফিয়ে ওঠা বাউন্সারে ব্যাট ছুঁয়ে যায় উইকেটকিপারের গ্লাভসে। ব্যক্তিগত ১১ রানে ইব্রাহিম ফিরলে ভাঙে ১৪ রানের উদ্বোধনী জুটি। তিনে নামা সৌম্য সরকার এদিন দেখালেন তাণ্ডব, কনকনে শীতের রাতে যেন মিরপুরে চার, ছক্কার ঝড়। নিজের চেনা ছন্দে থাকা সৌম্য যেন অতি সুন্দর। নিজের মোকাবিলা করা দ্বিতীয় বলেই আপার কাটে পেলেন ছয়। আগের দুই ওভারে মাত্র ৮ রান দেওয়া নাহিদুল তৃতীয় ওভারে এসে খরচা করেন ১৩ রান। তামিম মারেন জোড়া বাউন্ডারি, সৌম্যর ব্যাট থেকে এই ওভারে আসে ১ চার। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ফাহিম আশরাফকে ১১ রান নিয়ে বরিশালের স্কোরবোর্ডে মোট ৪৪ রান। তবে মিরপুরে এই শীতের রাতে সৌম্য ঝড় থাকেনি বেশিক্ষণ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সৌম্য হয়েছেন রান আউট। থামে তার ১০ বলে খেলা ২২ রানের ইনিংস। সৌম্যকে ফেরাতে ডিরেক্ট থ্রোতে বাজিমাত করেন খুলনার ফিল্ডার হাবিবুর রহমান সোহান। দলীয় ৬০ রানে সৌম্য ফেরার পর ফরচুন বরিশালের ইনিংস হয়ে যায় কিছুটা ধীরগতির। নিজের প্রথম ওভারের মতো শেষ ওভারেও নাহিদুল করলেও চোখ ধাঁধানো বোলিং। প্রথম ৪ ডেলিভারি ডট বানিয়ে শেষ দুই বলে দেন দুই সিঙ্গেল। ৪ ওভারে মোট ২৩ রান খরচ করেও এদিন তাকে থাকতে হয় উইকেটশূন্য। নাসুম আহমেদ অ্যাকশনে এসেই খরচ করেন ১৫ রান, ওভারে দেন জোড়া ওয়াইড। দারুণ সব স্ট্রোক্সে তামিমের রান যখন ৪০, আগের ম্যাচের মতোই করলেন ভুল। স্লগসুইপ করতে গিয়ে হয়েছেন টপ এজে ক্যাচ। ৩৩ বলে ৫ চারে এই ইনিংস সাজিয়ে যান বরিশালের ক্যাপ্টেন। ভাঙে মুশফিকের সাথে গড়া ৫৭ রানের জুটি। এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে সাথে নিয়ে দলের সংগ্রহ বড় করতে থাকেন মুশফিক। এই জুটিতে বরিশালের স্কোরবোর্ডে যোগ হয় আরও ৫৪ রান, যা আসে কেবল ৩২ বলে। মুশফিক ৩২ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে ইনিংসের শেষপর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৬৮ রানে। এর আগে ১৯ বলে ২৭ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। শেষবেলায় মুশফিককে সঙ্গ দেওয়া শোয়েব মালিক করেন ৬ রান।  আর তাতেই নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ফরচুন বরিশালের সংগ্রহ ১৮৭ রান। যা এবারের বিপিএলের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।