সমতায় শেষ, যেন ২০১৩ সালের উল্টো মঞ্চায়ন

97 Repoter: 97author

Publish: messages.not_available Update: 1 second ago
সমতায় শেষ, যেন ২০১৩ সালের উল্টো মঞ্চায়ন

সমতায় শেষ, যেন ২০১৩ সালের উল্টো মঞ্চায়ন

সমতায় শেষ, যেন ২০১৩ সালের উল্টো মঞ্চায়ন

[caption id="attachment_410" align="aligncenter" width="545"] সাকিবের ফিরে যাওয়া, লঙ্কানদের সিরিজে ফেরার উল্লাস। যেন ম্যাচটারই প্রতিচ্ছবি।[/caption] ২০১৩ সালের লঙ্কা সফর কেন যেন মিলে যাচ্ছে এক বিন্দুতে! সেবার টাইগাররা প্রথম ম্যাচে পিছিয়ে পড়েছিল, দ্বিতীয় ম্যাচে আঘাত হেনেছিল বৃষ্টি। তৃতীয় ওয়ানডেতে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে জয় নিয়ে বাংলাদেশ সিরিজ শেষ করে ১-১ সমতায়। কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস গ্রাউন্ডে একই নাটকের পুনঃমঞ্চে শুধু দলটাই আলাদা। প্রথম ম্যাচে ৯০ রানে পরাজয়, দ্বিতীয় ম্যাচ ভেসে যায় বৃষ্টিতে। ফলে সিরিজ বাঁচানোর জন্য স্বাগতিকদের সামনে জয় ছাড়া আর কোন রাস্তাই খোলা ছিল না। সেই জয়ের রাস্তায় হেঁটেই টাইগারদের পরাজিত করে 'জয় বাংলা ট্রফি' বাংলাদেশের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে সমর্থ হয়েছে উপল থারাঙ্গার দল। এসএসসিজিতে এদিন ৭০ রানে ম্যাচ জিতে নেয় লঙ্কান লায়ন্সরা। টসে জিতে থারাঙ্গাদের ব্যাটিংয়ে পাঠানো মাশরাফিরা বল হাতে তেমন প্রভাব খাটাতে পারেননি। গত ম্যাচে শতক হাঁকানো কুশল মেন্ডিসের ৫৪, থিসারা পেরেরার ৪০ বলে ঝড়ো ৫২ আর অন্যান্য ব্যাটসম্যানদের ছোট কিন্তু কার্যকরী ইনিংসে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে বাংলাদেশের জন্য লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ২৮১ রান। অধিনায়ক মাশরাফি তিনটি আর মুস্তাফিজ শিকার করে দুটি উইকেট। [caption id="attachment_408" align="alignright" width="420"] ম্যাচ সেরা উশল মেন্ডিসের স্কোয়ার কাট![/caption] ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ দলের শুরুটা ছিল বীভৎস। দলীয় ১১ রানের মাথায়ই ফিরে যান প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান তামিম ইকবাল, সেই ম্যাচে অর্ধশত রানের ইনিংস খেলা সাব্বির রহমান আর একটু ব্যাডপ্যাচের মধ্যে দিয়ে যাওয়া মুশফিকুর রহিম। ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দিতে বাংলাদেশের পক্ষে লড়ে যাওয়া শুরু করেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এবং উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার।   [caption id="attachment_407" align="alignleft" width="451"] সাকিবের সঙ্গে জুটিটা আর জমেনি। সৌম্য ফিরে গেছেন ৩৮ রানে।[/caption]       কলম্বোর মৃদু বাতাসের তালে তালে সাকিব সৌম্যও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন টাইগার স্কোরবোর্ড। শটস, এক, দুই করে দারুণভাবে এগোতে থাকা জুটিটার হঠাৎ ছন্দপতন ঘটে সৌম্যের আউটে। সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ৭৭ রানের জুটি গড়া সৌম্যের ব্যক্তিগত সংগ্রহটা ছিল ৩৮ রান। ইনিংসকে বড় না করতে পারার সমস্যাটা সৌম্যের যাচ্ছেইনা। সম্ভাবনা জাগানো মোসাদ্দেক হোসেন এ ম্যাচে ফেরেন ব্যর্থ হাতেই। ৯ রান করে প্রসন্নর বলে স্ট্যাম্প হারিয়ে ফিরে যান কুটিরে। [caption id="attachment_411" align="alignright" width="459"] তাসকিনদের এই উল্লাস ম্যাচ শেষে মিইয়ে গেছে।[/caption]     ১১১ রানে নেই ৫ উইকেট, সাধারণত এসব পরিস্থিতিতে দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানের ভূমিকা পালন করা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের আগমন দর্শকদের আরেকবার নড়ে চড়ে বসার খোরাক জোগায়। সাথে সাকিব আল হাসান দারুণ ছন্দ থাকায় আশার প্রদীপটা জ্বলছিল বেশ। এর মাঝে নিজের ৩৪তম অর্ধশতক তুলে নিয়ে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ অর্ধশতকের রেকর্ডে তামিম ভাগীদার হয়ে যান সাকিব আল হাসান। ৭ রান! মোসাদ্দেকের বিদায়ের ৭ রান পরই সবাইকে হতাশ করে প্যাভিলিওনের পানে হাঁটা শুরু করেন দলের সর্বোচ্চ ৫৪ রান করা সাকিব আল হাসান। এরপরের গল্পটা বাংলাদেশের না হলেও, নিশ্চিতভাবেই মেহেদী হাসান মিরাজের। [caption id="attachment_412" align="alignleft" width="456"] একাই লড়ে গিয়েছিলেন মেহেদী হাসান।[/caption]   ব্যাটিংটা করার সুযোগই পাননা তেমন। তাই ব্যাটের ধারটা ঠিক দেখাতে পারেন না। হায়দ্রাবাদে একবার দেখিয়েছিলেন। এরপর আর সুযোগই মিলছিলোনা। শনিবারের কলম্বো তে তাই একটু দেখিয়েই দিলেন কেন তিনি অনুর্ধ্ব-১৯ দলের সেরা বোলার এবং ব্যাটসম্যান দুটোই ছিলেন। মাশরাফি আর তাসকিনকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশকে দুশো রানের মাইলফল পার করিয়ে নিজেও তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে অর্ধশতক। মিরাজ বিদায় নেন দলীয় ২০৯ রানে, তার নিজের রান ৫১। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে তাসকিন আহমেদ শিবিরে ফিরলে বাংলাদেশ অলআউট হয় ২১০ রানে। ফলাফল ৭০ রানের পরাজয়, সাথে সিরিজও ভাগাভাগি। কলম্বোর এসএসসিজি মাঠটা আবারও মুখ ফেরালো বাংলাদেশের দিক থেকে। এ মাঠে খেলা ১১ ম্যাচের সবগুলোতেই পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। সেই ২০০৪ সালে দুর্বল হংকংকে পরাজিত করেছিলো টাইগাররা। সেই শেষ, এরপর আর এ মাঠে জয়ের মুখ দেখেনি বাংলাদেশ। লঙ্কান বোলারদের মধ্যে নুয়ান কুলাসেকারা একাই শিকার করেন চার বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানকে। এছাড়া দুটি করে উইকেট নেন লাকমাল, পেরার আর প্রসন্ন। শ্রীলঙ্কান স্কোরকার্ডে অবদান রাখা ৫৪ রানের মূল্যবান এক ইনিংসে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন কুশল মেন্ডিস। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ডঃ শ্রীলঙ্কাঃ ২৮০/৯ (৫০ওভার) কুশল মেন্ডিস ৫৪, থিসারা পেরেরা ৫২। মাশরাফি বিন মর্তুজা ৩/৬৫, মুস্তাফিজুর রহমান ২/৫৫ বাংলাদেশঃ ২১০/১০ (৪৪.৩ ওভার) সাকিব আল হাসান ৫৪, মেহেদী হাসান ৫১। কুলাসেকারা ৪/৩৭, প্রসন্ন ২/৩৩