সিলেটকে পরাজয়ের 'হেক্সা' থেকে বাঁচাল দুর্দান্ত ঢাকা

97 Repoter: 97admin

Publish: messages.not_available Update: 1 second ago
সিলেটকে পরাজয়ের 'হেক্সা' থেকে বাঁচাল দুর্দান্ত ঢাকা

সিলেটকে পরাজয়ের 'হেক্সা' থেকে বাঁচাল দুর্দান্ত ঢাকা

সিলেটকে পরাজয়ের 'হেক্সা' থেকে বাঁচাল দুর্দান্ত ঢাকা

টানা পাঁচ হারের পর অবশেষে জয়ের স্বাদ পেল সিলেট স্ট্রাইকার্স। নেতৃত্ব বদল, জার্সি বদল; ঘুরেছে সিলেটের ভাগ্যের চাকাও। মোহাম্মদ মিঠুনের অধিনায়কত্বে আনন্দ, উৎসবে মাতল ঘরের দলটি। সিলেটের জয়ে ফেরার দিনে টানা চার হারের সাক্ষী হল দুর্দান্ত ঢাকা। মিঠুনের অধিনায়কোচিত ৫৯ রানের ইনিংসে সিলেট পায় ১৪২ রানের লড়াকু সংগ্রহ। এরপর দুর্দান্ত ঢাকার ব্যাটারদের পেস আগুনে পুড়ে ছাই করে দেন রিচার্ড এনগারাভা, একাই দখলে নেন ৪ উইকেট। হারতে-হারতে ক্লান্ত সিলেট স্ট্রাইকার্সের ঝুলিতে অবশেষে এল এবারের আসরের প্রথম জয়, ১৫ রানের রোমাঞ্চকর জয়। 

সিলেটের জিম্বাবুইয়ান পেসার রিচার্ড এনগারাভার বোলিং ফিগার রীতিমতো চোখ ধাঁধানো। ৪-০-৩০-৪! অনেকটা যেন ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতো। এনগারাভার এমন দুর্দান্ত দিনে উড়ছে তার দলও। তার পেস আগুনে বিধ্বস্ত হয়ে ১৪৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দুর্দান্ত ঢাকা থামে ১২৭ রানে।  আগের পাঁচ ম্যাচে একটিতেও জয় পায়নি সিলেট স্ট্রাইকার্স। ঘরের মাঠে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে তারা নামে নতুন অধিনায়কের নেতৃত্বে। জার্সি বদলে সিলেটের জয়ে ফেরার মিশন, কিন্তু দেখা গেল সেই পুরানো ব্যাটিং ব্যর্থতা। স্কোরবোর্ডে ১৩ রান ওঠতেই নেই তাদের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার। এরপর পালটা আক্রমণে দলকে টেনেছেন অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। ক্যাপ্টেনকে সঙ্গ দিয়ে সামিত প্যাটেল করেন ৩২ রান। ইনিংসের শেষ ওভারে ক্যাচ হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে মিঠুনের ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৫৯ রানের ইনিংস। আর তাতেই ঘরের দল সিলেটের সংগ্রহ গিয়ে থামে ১৪২’এ।  লক্ষ্য তাড়ায় নেমে আরিফুল হকের শুরুর ওভারেই দুর্দান্ত ঢাকার ওপেনার সাইম আইয়ুব স্কোরবোর্ডে এনে দেন ১৩ রান। তবে সাইম তার ব্যাটের ঝড় এদিন সিলেটে স্থায়ী করতে পারেননি বেশিক্ষণ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে রিচার্ড এনগারাভা অ্যাকশনে এসেই লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন ১৪ রানে থাকা সাইমকে। এনগারাভা এখানেই ক্ষান্ত হননি, নিজের পরের ওভার করতে এসে ভাঙেন আরেক ওপেনার মোহাম্মদ নাইম শেখের স্টাম্প। ৬ বল খেলা নাইম করতে পারেননি দুই রানের বেশি।  তিনে নামা সাইফ হাসান এরপর সঙ্গী হিসাবে পান অ্যালেক্স রসকে। শুরুতেই স্ট্রোক্সের ফোয়ারা ছুটিয়ে দলকে টানতে থাকেন রস। বিপরীতে সাইফ ছিলেন ধীরগতির। তবুও পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে দুর্দান্ত ঢাকার স্কোরবোর্ডে আসে ৩৯ রান। সাইফ-রস জুটির সংগ্রহে যখন ৩৯ রান, তখনই সিলেট স্ট্রাইকার্স পায় গুরুত্বপূর্ণ এক ব্রেকথ্রু। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউটের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় ১৭ রানে থাকা সাইফকে। পরের ওভারে অ্যালেক্স রসকে হারায় ঢাকা। বিপদ বাড়ে আরও। এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার আগে রসের ব্যাট থেকে ১৮ বলে আসে ২০ রান।  আরও একবার ব্যর্থতার গল্প লিখলেন দুর্দান্ত ঢাকার উইকেটকিপার ব্যাটার ইরফান শুক্কুর। টানা তিন ম্যাচে তিনি বিদায় নিয়েছেন ব্যক্তিগত রান এক অংকের ঘরে রেখেই। সিলেটে এসে তিন ম্যাচ খেলা ইরফান রংপুর ম্যাচে হন গোল্ডেন ডাক, খুলনার বিপক্ষে করেন ৩। আজ সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে অবশ্য পেয়েছেন ৪ রান। দলীয় ৬৬ রানে পাঁচ উইকেট হারানো ঢাকাকে এরপর লড়াইয়ে ফেরান গুলবেদিন নাইব ও অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিয়েও এই জুটিতে ১৫ রানের বেশি আসেনি।  ইনিংসের ১৫ তম ওভারে নিজের কোটা শেষ করতে এসে উইকেটের দেখা পান বেনি হাওয়েল। ব্যক্তিগত ১১ রানে থাকা ঢাকার অধিনায়ক মোসাদ্দেকের উইকেট তুলে নেন হাওয়েল। রানের গতি বাড়ানো ও বাউন্ডারির চাহিদায় বড় শট খেলার চেষ্টা করেন গুলবেদিন। কিন্তু রিচার্ড এনগারাভা নিজের তৃতীয় ওভার করতে এসে শিকার করেন তৃতীয় উইকেট। ১৮ বলে ১২ রান করা গুলবেদিন নাইবকে রায়ান বার্লের হাতে বানান ক্যাচ। কিন্তু তাতেই যেন জয়ের সুবাস পেতে শুরু করে সিলেট স্ট্রাইকার্স।  রিচার্ড এনগারাভা ওভারের প্রথম বলে গুলবেদিনকে ফিরিয়ে ৪র্থ বলে দখলে নেন আরাফাত সানির উইকেট। ৮৭ রানে ৮ উইকেট খুইয়ে ফেলা ঢাকার হার যেন তখন কেবলই সময়ের ব্যাপার। পরের ওভারে রেজাউর রহমান রাজা এসে স্টাম্প উপড়ে ফেলেন ৫ রানে থাকা শরিফুল ইসলামের। শেষ বেলায় তাসকিন আহমেদের ক্যামিও ইনিংস কমিয়েছে কেবল হারের ব্যবধান। জয়ের জন্য শেষ দুই ওভারে ঢাকার দরকার ছিল ৪৩ রান। উসমান কাদিরকে নিয়ে শেষ উইকেট জুটিতে তাসকিন ঝড় তুলেন। তবে দলকে জয় এনে দিতে পারেননি। তাসকিন শেষপর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ১১ বলে ২৭ রানে। ১৫ রানের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিল সিলেট স্ট্রাইকার্স।