সাকিবের শেষ ওভারের রোমাঞ্চে রংপুরের জয়

97 Repoter: 97admin

Publish: messages.not_available Update: 1 hour ago
সাকিবের শেষ ওভারের রোমাঞ্চে রংপুরের জয়

সাকিবের শেষ ওভারের রোমাঞ্চে রংপুরের জয়

সাকিবের শেষ ওভারের রোমাঞ্চে রংপুরের জয়

১৬৬ রানের লক্ষ্যে যেভাবে শুরু করার দরকার ছিল, হয়েছে তার পুরো উল্টো। দলের চাহিদা মেটাতে পারেননি অধিনায়ক লিটন দাস। কিন্তু রিজওয়ান-অংকনের জুটিতে স্বস্তি ফেরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে। রিজওয়ান ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হলে ফিফটি হাঁকাতে মিস করেননি মাহিদুল ইসলাম অংকন। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে অংকন দিলেন টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার প্রতিদান। তার ৬৩ রানের অনবদ্য ইনিংসের পরও ম্যাচ হারতে হল কুমিল্লাকে। শেষদিকে দাপুটে বোলিংয়ে ম্যাচে ফিরে এসে রংপুর তুলে নিল ৮ রানের রোমাঞ্চকর জয়। 

জয়ের জন্য শেষ ওভারে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সামনে সমীকরণ দাঁড়ায়, ২৯ রানের। সাকিব আল হাসান ওভারে খরচ করেন ২০ রান। কুমিল্লা এই ওভারে হারায় দুই উইকেট। নাটকীয়তাই ভরপুর এক ওভার শেষে রংপুর রাইডার্স পেল ৮ রানের রোমাঞ্চকর জয়। এর ফলে ৫ ম্যাচ খেলা রংপুর তিন জয় নিয়ে ওঠে আসল পয়েন্ট টেবিলের তিনে।  এবারের বিপিএল জুড়ে ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া লিটন আজ হয়েছেন গোল্ডেন ডাক। লিটনকে ফেরাতে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে ক্যাচ লুফে নেন বাবর আজম। অধিনায়কত্বের চাপে দিশেহারা লিটনের এবারের বিপিএলে ১৩, ১৪, ৮, ০। যা তার নামের পাশে বড্ডই বেমানান। ক্লাসিকাল লিটন যেন কিছুতেই বের হতে পারছেন না ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে যেখানে রংপুর পেয়েছিল ৪৭ রান, সেখানে কুমিল্লা স্কোরবোর্ডে জমা করে ৩৬ রান। দুই দলই হারিয়েছে তখন ১টি করে উইকেট। মোহাম্মদ রিজওয়ান দলকে টানতে থাকেন আস্তে-ধীরে। তবে তাকে সঙ্গ দেওয়া মাহিদুল ইসলাম অংকন ছিলেন দুর্দান্ত। ১৭ রানে থাকা রিজওয়ান অবশ্য রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ক্যাচ হন সাকিবের হাতে।  দলীয় ৬০ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানো কুমিল্লাকে এরপর সহজ জয়ের পথে নিয়ে যেতে সাহায্য করেন মাহিদুল অংকন। বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে গোল্ডেন ডাক হয়ে সাজঘরে ফেরা মাহিদুল পরের দুই ম্যাচে সেরা একাদশের বাইরে ছিলেন। আজ প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে নেমেই ব্যাট হাতে করলেন বাজিমাত। ৪৩ বলে পেয়েছেন পঞ্চাশের দেখা। অংকন অবশ্য ফিফটি হাঁকিয়ে হয়ে ওঠেন আরও বিধ্বংসী। এরপর খেলতে থাকেন হাত খুলে, স্ট্রোক্সের ফোয়ারা ছুটিয়েছেন সিলেটের অনিন্দ্য সুন্দর মাঠে। তবে বল হাতে এদিন ছন্দে থাকা হাসান মাহমুদ নিজের তৃতীয় ওভার করতে এসে ভাঙেন মাহিদুল অংকনের প্রতিরোধ। ব্যক্তিগত ৬৩ রানে অংকনকে বিদায় করতে লং অনে দৌড়ে এসে দারুণভাবে ক্যাচ লুফে নেন বাবর আজম। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে মাহিদুলের ৬৩ রান আসে ৫৫ বল থেকে, যা তিনি সাজান চার বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায়। এরপর খুশদিল শাহ আর তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাট চড়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স পৌঁছে যেতে চেয়েছিল জয়ের বন্দরে। এখানেও বাঁধা হয়ে দাঁড়ালেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ৮ বলে ১৩ করে ফেলা খুশদিলকে ফেরান ক্যাচ বানিয়ে।  জয়ের জন্য শেষ ওভারে কুমিল্লার দরকার ছিল ২৯ রান। সাকিব আল হাসানের বিপরীতে যা প্রায় কঠিন, এবং হয়েছেও তাই। স্ট্রাইকে থাকা তাওহীদ হৃদয় ও রেমন রেইফার ম্যাচ বের করে আনতে পারেননি। ওভারের দ্বিতীয় বলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউটের ফাঁদে পড়েন তাওহীদ হৃদয়। ফেরার আগে ২৮ বলে করেন ৩৯ রান। পরের বলে সাকিবকে ওভার বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে লং অফে বাবর আজমের হাতে সহজ ক্যাচ হন রেইফার।  জাকের আলি অনিক ব্যাট হাতে নেমেই দুই বলে হাঁকান দুই ওভার বাউন্ডারি। শেষ দুই বলে ২ ও চার মিলিয়ে জাকের মোট ৬ নিলে ৮ রানের পরাজয় নিশ্চিত হয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। ৪ বলে ১৮ রানের ক্যামিও ইনিংসে দলকে জয়ে রাঙাতে পারলেন না জাকের আলি অনিক।