মুশফিককে ধ্বংসস্তূপ বানিয়ে নিশামের ৯৭

97 Repoter: 97admin

Publish: messages.not_available Update: 1 hour ago
মুশফিককে ধ্বংসস্তূপ বানিয়ে নিশামের ৯৭

মুশফিককে ধ্বংসস্তূপ বানিয়ে নিশামের ৯৭

মুশফিককে ধ্বংসস্তূপ বানিয়ে নিশামের ৯৭

হ্যাট্টিক শিরোপা জয়ের লক্ষে প্রথম সুযোগেই ফাইনালের টিকিট হাতে পেতে মরিয়া কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ২০২৪ বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে তারা রংপুর রাইডার্সকে আটকে দেয় ১৮৫ রানে। জিমি নিশামের ব্যাটে আরও একবার রংপুর রাইডার্সের রক্ষা। ৩১ বলে ফিফটি হাঁকিয়ে নিশাম রূপ নেন আরও বিধ্বংসী। শেষ বেলায় নিশামকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান করেন দ্রুত ৩০ রান। এদিন লজ্জার এক রেকর্ড গড়েন কুমিল্লার পেসার মুশফিক হাসান, ৪ ওভারে খরচ করেন ৭২। যা বিপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রান খরুচে স্পেল। নিশাম ৯৭ রানের হার-না-মানা ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন। ৪৯ বলের এই ইনিংসে ছক্কার সংখ্যা ৭, বাউন্ডারি হাঁকান ৮টি। 

আগের ম্যাচে ৪২ বলে অপরাজিত থাকেন ৬৯ রানের ইনিংসে। আজ কোয়ালিফায়ারের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও জিমি নিশামের জ্বলে ওঠা। একা হাতে শাসন করেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের শক্তিশালী বোলিং লাইন-আপকে। নিশাম শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৯৭ রানে। তবে বল হাতে এদিন কুমিল্লার জার্সিতে সবচেয়ে দুর্দান্ত ছিলেন সুনীল নারাইন, ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান খরচায় নেন এক উইকেট। অন্যদিকে, পেসার মুশফিক হাসান ৪ ওভারে খরচ করেছেন মোট ৭২ রান। ইনিংসের শেষ ওভার করতে এসে নিশামের সামনে ২৮ রান খরচ করেন মুশফিক হাসান।  অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ জয়ী দলের সদস্য ও বিশ্বকাপ মাতিয়ে আসা পেসার রোহানাত দৌল্লা বর্ষণের আজ বিপিএল অভিষেক কুমিল্লার জার্সিতে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অধিনায়ক লিটন দাস প্রথম ওভার করতে বল তোলে দেন বর্ষণের হাতে। শুরুর বলেই ফুলটস দিয়ে হজম করেন বাউন্ডারি, পরের ডেলিভারি দুর্দান্ত হলেও রংপুরের ওপেনার রনি তালুকদারের ব্যাটের কাণায় লেগে আরও এক বাউন্ডারি বর্ষণের খরচে।  এদিন রংপুরের হয়ে ওপেন করতে নামা শামীম হোসেন পাটোয়ারি অবশ্য ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই হারান উইকেট। তানভীর ইসলামকে শট খেলার চেষ্টা করেন, উড়ে আসা বল তানভীরের হাত ছুঁয়ে গেলেও তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন। কিন্তু মিড অফে দাঁড়িয়ে থাকা আন্দ্রে রাসেল লাফিয়ে পড়ে লুফে নেন দারুণ এক ক্যাচ। থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারলেন না রনি তালুকদার। প্রথম ওভারে ১০ রান খরচ করা রোহানাত দৌল্লা বর্ষণ নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসেই পেয়ে যান বিপিএলে মেডেন উইকেটের দেখা। বর্ষণকে অভিষেক উইকেটের স্বাদ দিতে গ্লাভস হাতে ক্যাচ নেন লিটন দাস। ১১ বল খেলা রনি ১৩ রানের বেশি করতে পারেননি।  চোখের সমস্যায় টুর্নামেন্টের শুরুতে নিজেকে মেলে ধরতে না পারলেও, সময় গড়ানোর সাথে সাথে পুরনো সাকিবকে দেখা গেছে। তবে আজ সাকিবের ব্যাট থেকে আলো ছড়ায়নি মিরপুরে। বাউন্ডারিবিহীন ৯ বলের ইনিংসে সাকিব করেছেন কেবল পাঁচ রান। আন্দ্রে রাসেলের বলে ক্যাচ হয়েছেন বর্ষণের হাতে। সাকিবের দ্রুত বিদায়ে ২৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বসে রংপুর রাইডার্স। মাত্র ৩৫ রান স্কোরবোর্ডে জমা করে পাওয়ার প্লে শেষ করে রংপুর রাইডার্স।  এরপর অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পায় রংপুর; জিমি নিশাম শুরু থেকেই ছিলেন আগ্রাসী মেজাজে। মাঝে তাকে সঙ্গ দিয়ে শেখ মেহেদী হাসান ১৭ বলে করেন ২২ রান। যেই বল হাতে সুনীল নারাইন অ্যাকশনে, টপ এজে উইকেট হারান মেহেদী। আর তাতেই ভাঙে নিশামের সঙ্গে ২৬ বলে শেখ মেহেদীর গড়া ৩৯ রানের জুটি। ইনিংসের ১৩তম ওভার করতে এসে প্রথম পাঁচ বলে মুশফিক হাসান খরচ করেন ১৯ রান। নিশামের পর তার উপর ঝড় বইয়ে দেন নিকোলাস পুরান। কিন্তু শেষ ডেলিভারিতে স্লোয়ার করে সাফল্য পেয়ে উল্লাসে মাতেন মুশফিক। পেয়েছেন ৯ বলে ১৪ রান করে ফেলা ভয়ংকর পুরানের উইকেট।  ৩১ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন জিমি নিশাম। আগের ম্যাচেও কুমিল্লার বিপক্ষে খেলেছেন অপরাজিত ৬৯ রানের ইনিংস। সবমিলিয়ে এবারের বিপিএলে নিজের তিন নম্বর ফিফটির দেখা পান রংপুরের এই কিউই তারকা।