জ্যাকসের সেঞ্চুরির পর রিশাদের ৪, মইনের হ্যাটট্রিক

97 Repoter: 97admin

Publish: messages.not_available Update: 1 second ago
জ্যাকসের সেঞ্চুরির পর রিশাদের ৪, মইনের হ্যাটট্রিক

জ্যাকসের সেঞ্চুরির পর রিশাদের ৪, মইনের হ্যাটট্রিক

জ্যাকসের সেঞ্চুরির পর রিশাদের ৪, মইনের হ্যাটট্রিক

ঢাকা-সিলেট-ঢাকা ঘুরে বিপিএল ফিরল চট্টগ্রামে। প্রথম ম্যাচেই রান বন্যা দেখাল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ২০৩ স্ট্রাইক রেটে ৫ বাউন্ডারি ও ১০ ছক্কায় ১০৮ রানের অতিমানবীয় ইনিংস খেলেন কুমিল্লার ইংলিশ ওপেনার উইল জ্যাকস। টার্গেট টপকাতে নেমে অবশ্য দারুণ শুরু পেয়েছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। কিন্তু তানজিদ তামিমের বিদায়ের পর টানা উইকেট হারিয়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ইনিংস থামে ১৬৬ রানে। গেল ৮ ম্যাচে কুমিল্লার বেঞ্চে বসে সময় কাটানো রিশাদ হোসেন আজ ২০২৪ বিপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই দেখালেন চমক। একাই দখলে নিয়েছেন ৪ উইকেট। দ্বিতীয় বোলার হিসাবে এবারের বিপিএলে হ্যাটট্রিক করলেন মইন আলি, তাও আবার প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই। আর তাতেই ৭৩ রানের বড় জয়ে চট্টগ্রাম পর্ব শুরু করল কুমিল্লা চট্টগ্রামকেই ডুবিয়ে। 

ব্যাটারদের তাণ্ডবে আগে ব্যাট করতে নেমে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স সংগ্রহ করে ২৩৯ রানের বড় সংগ্রহ। যা এবারের বিপিএলে সর্বোচ্চ সংগ্রহ, পুরো বিপিএলের হিসাবে যৌথভাবে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। লিটন-জ্যাকসের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৮৬ রান। ফিনিশিংয়ে দাপট দেখান মইন আলি ও উইল জ্যাকস, ৫৩ বলে তারা করেন ১২৮। এবারের বিপিএলে দ্বিতীয় সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়তে উইল জ্যাকসের লাগে কেবল ৫০ বল। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটি জ্যাকসের তিন নম্বর শতক।  লো স্কোরিং ম্যাচের জন্য মিরপুরের উইকেটের বদনাম রয়েছে। এবারের বিপিএলে সিলেটও পেল সে তকমা। তবে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে প্রায় সব ম্যাচই হাইস্কোরিং হবে, তারই একটা ধারণা পাওয়া গেল কুমিল্লার ব্যাটিং ইনিংস দেখে। ৩১ বলে বিপিএলে নিজের প্রথম ফিফটি পাওয়া উইল জ্যাকস ইনিংস টেনে নিয়ে গেছেন শতকে। ৫০ বলে এবারের বিপিএলে দ্বিতীয় সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন উইল জ্যাকস। ২৪০ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় নেমে অবশ্য দুই ওপেনারের ব্যাটে দারুণ শুরু পেয়েছিল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স করেছিল ৬২ রান, জবাবে চট্টগ্রাম তুলল ৬১। জশ ব্রাউন আর তানজিদ তামিম রীতিমতো ঝড় বইয়ে দেন। শুরু থেকেই তারা রানের চাকায় গতি রাখেন ঠিকঠাক। ৮৬ রানে কুমিল্লার ওপেনিং জুটি ভাঙে ৬০ রানে থাকা লিটন দাসের বিদায়ে। চট্টগ্রামের ওপেনিং জুটির পতন তানজিদ তামিমের বিদায়ে। ফেরার আগে তানজিদ তামিম ২৪ বলে করেন ৪১ রান। যা তিনি সাজান ৫ চার ও ২ ছক্কায়। মুস্তাফিজুর রহমান নিজের প্রথম ওভারে এসে ১৪ রান খরচ করলেও তানজিদ তামিমের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করে দেন দলকে। শর্ট বলে শট খেলতে গিয়ে তানজিদ তামিম ক্যাচ হন থার্ড ম্যান অঞ্চলে। তার বিদায়ের পর আরেক বিস্ফোরক ওপেনার জশ ব্রাউনও টিকে থাকতে পারেননি বেশিক্ষণ। গেল ৮ ম্যাচে কুমিল্লার বেঞ্চে বসে সময় কাটানো রিশাদ হোসেন আজ ২০২৪ বিপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই দেখালেন চমক। তার দ্বিতীয় ডেলিভারিতেই উইকেট হারান জশ ব্রাউন। ২৩ বল খেলা ব্রাউনের ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান। নিজের প্রথম ওভারে কেবল ১ রান খরচায় ব্রাউনের উইকেট পাওয়া রিশাদ দ্বিতীয় ওভার করতে এসে জোড়া শিকার করেন। ওভারের প্রথম বলেই তুলে নেন টম ব্রুসের উইকেট। এক বল পর সাজঘরের পথ দেখান শাহাদাত হোসেন দিপুকে। যথাক্রমে ১১ ও ১২ রান আসে চট্টগ্রামের এই দুই ব্যাটারের ব্যাট থেকে। দলকে এদিন সার্ভিস দিতে পারেননি চট্টগ্রামের আইরিশ অলরাউন্ডার কুর্টিস ক্যাম্ফারও। মুস্তাফিজ নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে শর্ট, স্লোয়ারে বিপাকে ফেলেন ক্যাম্ফারকে। উলটো দৌড়ে দারুণভাবে ক্যাচ লুফে নেন উইল জ্যাকস। তানজিদ তামিম, টম ব্রুসের পর ক্যাম্ফারের এই ক্যাচ নিয়ে উইল জ্যাকসের ক্যাচের হ্যাটট্রিক।   মইন আলি এদিন বিপিএলে নেমেই ব্যাট হাতে দাপুটে ইনিংস খেলেন। ২৪ বলে ৫৩ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলার পর দলকে জেতাতে বল হাতেও ভূমিকা রাখেন মইন আলি। প্রথম স্পেলের দুই ওভারে ১৩ রান খরচ করেও উইকেটের দেখা না পাওয়া মইন তৃতীয় ওভার করতে এসে উইকেট নিতে আর ভুল করেননি। একের পর এক ছক্কা হাঁকিয়ে সৈকত আলির রান যখন ১০ বলে ৩৬, তখনই তার বিদায় ঘটিয়ে দেন মইন। দলীয় ১৬১ রানে ৬ষ্ঠ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের পথে হাটতে থাকে ঘরের দলটি। রিশাদ হোসেন ফোর-ফার পূর্ণ করেন চট্টগ্রামের অধিনায়ক শুভাগত হোমকে ফিরিয়ে। ৪-০-২২-৪, রিশাদের এই বোলিং ফিগার রীতিমতো চোখ ধাঁধানো।  মইন আলি কোটার শেষ ওভার করতে এসে পেয়ে যান হ্যাটট্রিকের দেখা। এক ওভারেই গুটিয়ে দেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে। ১৭ তম ওভারের প্রথম ৩ বলে একে একে মইনের শিকার হন শহিদুল ইসলাম, আল আমিন হোসেন ও বিলাল খান। আর তাতেই ২০২৪ বিপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে হ্যাটট্রিকের স্বাদ পেয়ে যান কুমিল্লার এই ইংলিশ অলরাউন্ডার। ফলে ১৬.৩ ওভারে ১৬৬ রানে থামে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।