হেমন্থের মিষ্টি দিনে জয় ছিনিয়ে নিলেন বাবর আজম

97 Repoter: 97admin

Publish: messages.not_available Update: 2 hours ago
হেমন্থের মিষ্টি দিনে জয় ছিনিয়ে নিলেন বাবর আজম

হেমন্থের মিষ্টি দিনে জয় ছিনিয়ে নিলেন বাবর আজম

হেমন্থের মিষ্টি দিনে জয় ছিনিয়ে নিলেন বাবর আজম

শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে ধীর পায়ে প্রকৃতিতে আসে হেমন্তকাল। আর আজ মিরপুরে অন্য এক হেমন্থকে দেখা গেছে সিলেটের ত্রানকর্তায় ভূমিকায়। শ্রীলঙ্কার জার্সিতে মাত্র ৫ ম্যাচ খেলা দুশান হেমন্থ বিপিএল অভিষেকেই করলেন বাজিমাত। নিজের প্রথম ওভারের শেষ চার বলে শিকার করেছেন ৩ উইকেট। এরপর আর উইকেটের দেখা না পেলেও হেমন্থের বোলিং ফিগার রীতিমতো চোখ ধাঁধানো। ৪-০-২০-৩! অনেকটা যেন ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতো। তবুও জয়ে রাঙাতে পারল না তার দল সিলেট স্ট্রাইকার্স। যা একপ্রকার ছিনিয়ে নিলেন বাবর আজম। প্রথম দিনেই রংপুরের জয়ের নায়ক বাবর। 

হেমন্থের মিষ্টি দিন যেন নিজের করে নিলেন বাবর আজম। তার ব্যাটিং দৃঢ়তায় হারতে যাওয়া ম্যাচ জয়ে রাঙালো রংপুর রাইডার্স। বাবরের কল্যাণেই রংপুর ফিরল জয়ের ধারায়। ৪৫ বলে ফিফটি হাঁকিয়ে বাবর শেষপর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৫৬ রানে। তাকে দারুণ ভাবে সঙ্গ দিয়ে আজমতউল্লাহ ওমরজাই করেন ৩৫ বলে ৪৭ রান। ৩৯ রানে ৬ উইকেট খুইয়ে ফেলার পরও বাবর-ওমরজাইয়ের ৮৬ রানের হার-না-মানা জুটির কল্যাণে ১০ বল বাকি থাকতেই রংপুর রাইডার্সের ৪ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয়।  সিলেটের লঙ্কান স্পিনার দুশান হেমন্থের ঘূর্ণিতে দিশেহারা হওয়ার আগেই পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে টপ অর্ডারের তিন উইকেট হারায় রংপুর রাইডার্স। ১২১ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়ায় বাবর আজমের সাথে ওপেন করতে আসেন রনি তালুকদার। বাবরকে পেয়ে জুটি গড়ার বদলে রনি উইকেট হারিয়েছেন দ্রুত, ৭ বল খেলে করেন ৬। তিনে নামা ব্রেন্ডন কিং হয়েছেন ডাক। নিজের প্রথম ওভার করতে এসেই কিংকে বোল্ড করে নাগিন উদযাপনে মাতেন নাজমুল অপু। ভালো শুরু করেও ইনিংস টানতে পারেননি অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। দুর্দান্ত ফ্লিকে স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিলেও এক বল পরই সোহান ক্যাচ তোলেন। ডিপ স্কয়ার লেগে দাঁড়িয়ে সহজেই সোহানের হাওয়ায় ভাসানো বল লুফে নেন বেন কাটিং। ৩৩ রানে তিন উইকেট হারানো রংপুরের বিপদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে যান শামীম হোসেন পাটোয়ারী। দুশান হেমন্থ এবারই প্রথম বিপিএলে। সিলেটের জার্সি গায়ে নেমেই করলেন বাজিমাত। তার স্পিন বিষে একে একে নীল হন শামীম পাটোয়ারী, শেখ মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ নবী। চার বলের ব্যবধানে তিনজনকেই হেমন্থ ফেলেন লেগ বিফোরের ফাঁদে। দুইবার রিভিউ নিয়ে সফল হন সিলেটের দলনেতা মাশরাফি বিন মর্তুজা। আর মোহাম্মদ নবীও রিভিউ নিয়েও তার উইকেট বাঁচাতে পারেননি।  স্কোরবোর্ডে ৩৯ রান তুলতেই নেই ৬ উইকেট। কিন্তু একা দাঁড়িয়ে নিজের লড়াই চালিয়ে যান বাবর আজম। আগের রাতে আসেন বাংলাদেশে। আজ নামলেন ম্যাচ খেলতে। টপ অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে রংপুরের পুরো দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন বাবর। ব্যাটিং দৃঢতায় মিরপুরের সব আলো নিজের করে নেন। সিলেটের বোলারদের জেঁকে বসতে না দিয়ে পাল্টা আক্রমণ করেন। দুশান হেমন্থও এরপর আর উইকেটের দেখা পাননি। প্রথম ওভারে পাওয়া তিন উইকেট নিয়েই তাকে শেষ করতে হয় বোলিং কোটা। ৪ ওভারে হেমন্থ দিলেন মাত্র ২০ রান, উইকেট নিলেন ৩টি। বাবর আজমকে অবশ্য এরপর একা লড়াই করতে হয়নি। তাকে এসে দারুণভাবে সঙ্গ দেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। তারা আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি। ১০ বল বাকি থাকতেই রংপুরকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরে। ৬৮ বলে গড়া তাদের ৮৬ রানের অপরাজিত জুটির সৌজন্যেই কঠিন ম্যাচ সহজ করে জিতল রংপুর। বাবর আজম ৫৬ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন। ৪৭ রানের ইনিংসে রংপুরের জয় নিশ্চিত করেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই।