অধিনায়ক লিটন দাসের ফর্মে ফেরার দিনে উড়ছে তার দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সও। আগে ব্যাট করে কুমিল্লা স্কোরবোর্ডে পায় ১৪৯ রান। লিটন ৪ রানের জন্য ফিফটি মিস করলেও দেড়শ স্ট্রাইক রাইটে সাজিয়েছেন ইনিংস। এরপর বল হাতেও দাপট দেখায় ভিক্টোরিয়ান্সের বোলাররা। আমির জামাল একাই পেস আগুনে পুড়ে ছাই করেছেন খুলনার ব্যাটিং লাইন। ২০২৪ বিপিএলে প্রথম ফাই-ফার আমির জামালের। ১১৫ রানে গুড়িয়ে যায় খুলনা, ৩৪ রানের জয়ে টেবিলের তিন নম্বর অবস্থান দখলে নিল লিটন দাসের দল।
৪-০-২৩-৫, খুলনার বিপক্ষে আমির জামালের এই বোলিং ফিগারেই ম্যাচ জয়ের পথ সহজ হয়ে যায় কুমিল্লার। ইনিংসের শুরু থেকেই ধুঁকতে-ধুঁকতে খুলনা টাইগার্স শেষপর্যন্ত গুটিয়ে যায় ১১৫ রানে, খেলতে পারে কেবল ১৮.৫ ওভার। আমির জামালের ফাইফারের দিনে উইল জ্যাকসও বল হাতে ছিলেন অনবদ্য। ৪ ওভারে কেবল ১৪ রান খরচায় শিকার করেন ১ উইকেট। ১৫০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই কাপুনি ওঠে খুলনার ব্যাটিং লাইনে। দুই প্রান্ত দিয়েই স্পিন আক্রমণ করিয়ে সফল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে আলিস আল ইসলাম বোল্ড করেন এনামুল হক বিজয়কে। এর আগের পাঁচ বলে দুই বাউন্ডারি হাঁকান বিজয়। ওভারের শেষ ডেলিভারিতে বিজয়ের উইকেট শিকার করে আলিসের মধুর প্রতিশোধ।পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগে দুই উইকেট হারায় খুলনা টাইগার্স। উইল জ্যাকস ব্যাট হাতে ২২ রান করে বোলিংয়ে এসেও পেয়ে যান উইকেটের দেখা। কোটার প্রথম ওভার করতে এসে কেবল ১ রান খরচ করে যান জ্যাকস। তবে দ্বিতীয় ওভার করতে এসেই আফিফ হোসেন ধ্রুবর উইকেট। তিনে নামা আফিফ ৯ বল খেলে করেন ৫। পরের ওভারে মুস্তাফিজুর রহমান অ্যাকশনে আসতেই বিদায় ঘটে আকবর আলির। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেও আকবর আলি পাননি ৫ রানের বেশি।৩২ রানে ৩ উইকেট খুইয়ে প্রথম পাওয়ার প্লে শেষ করে খুলনা টাইগার্স। দেড়শত রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে যেভাবে ইনিংস শুরু করার দরকার ছিল খুলনার, হয়েছে এর পুরো উল্টো। দ্রুত টপ অর্ডার হারিয়ে খুলনার ব্যাটিং লাইন যেন দিশেহারা। এর প্রভাব পরের ওভারেও, এবার উইকেটরক্ষক রিজওয়ানের গ্লাভসে ক্যাচ হন পারভেজ হোসেন ইমন। ডাকের স্বাদ নিয়ে সাজঘরে ফিরে যেতে হয় খুলনার এই তরুণ ব্যাটারকে।৩৩/৪ স্কোরবোর্ডই বলে দেয় খুলনার ব্যাটিংয়ের নাজেহাল চিত্র। উইকেটের এক প্রান্তে আসা-যাওয়া মিছিল, অপরদিকে একা দাঁড়িয়ে এভিন লুইস ইনিংস মেরামতে মনোযোগ বাড়ান। দলের বিপর্যয়ের সময় দেখে-শুনে ব্যাট চালালেও যখন হাত খুলে খেলতে গেলেন হারিয়েছেন উইকেট। ইনিংসের ৯ম ওভারে আমির জামালের বল তুলে দিয়েই ক্যাপ্টেন লিটনের বাজিমাত।নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে আমির জামাল শিকার করেন খুলনার হয়ে খেলা স্বদেশী মোহাম্মদ নওয়াজকে। ১৩ বলের ইনিংসে নওয়াজ পেয়েছেন কেবল ৭ রান। ১৬ তম ওভারে নিজের কোটার তৃতীয় ওভার করতে এসে আমির জামাল দখলে নেন জোড়া শিকার। ১৩ রানে থাকা ফাহিম আশরাফকে ফিরিয়ে দখলে নেন আরেক সেট ব্যাটার নাহিদুল ইসলামের উইকেটও। ২৪ বল খেলা নাহিদুল পেয়েছেন ২১ রান। ৮৮ রানে ৮ উইকেট হারানো খুলনার পরাজয় তখন ছিল কেবলই সময়ের ব্যাপার। নিজের কোটার শেষ ওভার করতে এসে প্রথম ডেলিভারিতেই আমির জামাল পূর্ণ করেন ফাইফার। নাসুম আহমেদকে গোল্ডেন ডাকের স্বাদ দিয়ে আমির দখলে নেন পঞ্চম উইকেট। শেষ ব্যাটার হিসাবে আউট হওয়ার আগে মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র ক্যামিও ইনিংসে কমিয়ে গেছেন খুলনার হারের ব্যবধান। শেষ বেলায় ৩ ছয় ও ১ চারে ১২ বলে করেন ২৩ রান।