আগের ম্যাচে কুমিল্লার বিপক্ষে মাত্র ৭২ রানে অলআউট হয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের জন্য আজকের ম্যাচ হয়ে যায় কঠিন চ্যালেঞ্জের। তবে এই চ্যালেঞ্জ সহজভাবে টপকাতে বড় অবদান রাখেন চট্টগ্রামের নতুন ওপেনার জশ ব্রাউন। বিস্ফোরক ইনিংসে দলকে টেনেছেন শুরুতে, এরপর দলের সংগ্রহ বড় করতে বাকি কাজটা একাই করেন টম ব্রুস। দুই বিদেশি তারকার ব্যাটেই রক্ষা হয় চট্টগ্রামের, আগে ব্যাট করে তারা পেল ১৪৫ রানের সংগ্রহ।
নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স পায় ১৪৫ রান। ইনিংসের শেষ ওভারে ৪০ বল খেলে ফিফটি ছুঁয়েছেন টম ব্রুস। তার দায়িত্বশীল ইনিংসে চড়েই চ্যালেঞ্জার্সরা পায় চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ। এর আগে অবশ্য ওপেনার জশ ব্রাউন খেলেছেন ৩৮ রানের ইনিংস। বিগ ব্যাশ মাতিয়ে আলোচনায় আসা অজি ব্যাটার জশ ব্রাউন বেশ কিছুদিন ধরে চট্টগ্রাম দলের সাথে থাকলেও আজ হয়েছে বিপিএল অভিষেক। তার সাথে ওপেন করতে নামা তানজিদ হাসান তামিম অবশ্য পাওয়ার প্লের আগেই ফিরে গেছেন প্যাভিলিয়নে। চোট কাটিয়ে দীর্ঘসময় পর ক্রিকেটে ফেরা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের হাতেই আসে বরিশালের ব্রেকথ্রু। সাইফউদ্দিন নিজের প্রথম ওভার করতে এসে খরচ করেন কেবল ১, দ্বিতীয় ওভার খরুচে হলেও পেয়েছেন উইকেটের দেখা। শর্ট বলে পরাস্ত করেন তামিমকে, ব্যাট ছুঁয়ে দিয়েছেন উইকেটরক্ষক মুশফিকের গ্লাভসে। শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকা তানজিদ তামিম যখন প্যাভিলিয়নে ফেরেন ১০ রান নিয়ে, এর আগেই খেলে ফেলেন ১৯ বল। অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড গড়া ব্রাউন বিপিএল অভিষেক ম্যাচেই মারেন ৪টি ছক্কা। ২৩ বলে খেলা তার ঝড়ো ৩৮ রানের ইনিংসে বাউন্ডারি ছিল কেবল ১টি। মিরপুরে ব্রাউনের তাণ্ডব শুরু করার আগেই বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়ে যান তাইজুল ইসলাম। সোজা বল মিস করে ব্রাউন হয়েছেন বোল্ড। দলীয় ৭১ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারানো চট্টগ্রাম এরপরও থাকে স্বস্তিতে, তিনে নামা টম ব্রুস তখন সঙ্গী হিসাবে পান শাহাদাত হোসেন দিপুকে। দিপু-ব্রুস জুটি যখন জমে যায়, তখনই বরিশালের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু নিয়ে হাজির হন মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র। এক ওভারেই নিয়েছেন জোড়া উইকেট। ওভারের প্রথম ডেলিভারিতেই ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ বানান ১৫ রানে থাকা শাহাদাত দিপুকে। নতুন ব্যাটার নাজিবউল্লাহ জাদরান রানের খাতা খুলেন বাউন্ডারি হাঁকিয়ে। কিন্তু পরের বলেই তিনি পড়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে। বোলার ইমরান ও বরিশালের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া দিয়ে উইকেট নিশ্চিত করেন। রিভিউ নিয়েও উইকেট বাঁচাতে পারেননি নাজিবউল্লাহ। একদিকে দাঁড়িয়ে টম ব্রুস খেলে যান দারুণভাবে, অন্যদিকে উইকেটের আসা-যাওয়া। এরমাঝেই শর্ট বলে সৈকত আলিকে নিজের হাতে ফিরতি ক্যাচ বানান আব্বাস আফ্রিদি।