চার দিনেই ম্যাচ জিতে নিলো দক্ষিণ আফ্রিকা
চার দিনেই ম্যাচ জিতে নিলো দক্ষিণ আফ্রিকা
চার দিনেই ম্যাচ জিতে নিলো দক্ষিণ আফ্রিকা
চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-১ সমতায় 'বাসিল ডি’অলিভেরিয়া ট্রফি'। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জিতে ১-০ তে এগিয়ে থাকা স্বাগতিক ইংল্যান্ড দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেছিলো নটিংহ্যামে। তবে কে জানতো ঘরের মাঠে এমন ভরাডুবি হবে ইংলিশদের!
এই ম্যাচে ইংলিশদের জিততে হলে রেকর্ড গড়েই জিততে হতো। এর আগে এত বড় টার্গেট তাড়া করতে নেমে কখনোই জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। ১৯২৮ সালে সর্বোচ্চ ৩৩২ রান তাড়া করে ম্যাচ জিতেছিলো ইংল্যান্ড। রেকর্ড তো দূরে থাক, ৪৭৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৩৩ রানেই অল-আউট স্বাগতিকরা!
সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ট্রেন্টব্রিজে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ইনিংসে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং দৃঢ়তায় সব উইকেট হারিয়ে ৩৩৫ রান তুলতে সক্ষম হয়।
প্রথম ইনিংসে দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন হাসিম আমলা। তাঁর ব্যাটে আসে ২১৩ বলে ৭৮ রান। কুইন্টন ডি কক করেন ৬৮ আর ভেরন ফিলেন্ডার করেন ৫৪ রান। প্রথম ইনিংসে ইংলিশদের হয়ে ৫ উইকেট নেন পেসার জেমস এন্ডারসন।
৩৩৫ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রোটিয়া বোলারদের সামনে দাড়াতেই পারেনি ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। জো রুটের সর্বোচ্চ ৭৮ রান ছাড়া আর কোন ব্যাটসম্যানই পাননি অর্ধ্বশতক কিংবা শতক। প্রোটিয়াদের হয়ে ক্রিস মরিস আর কেশব মহারাজ নেন ৩ টি করে উইকেট।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে এলগার-আমলাদের ব্যাটিং দৃঢ়তায় পাহাড়সম টার্গেট ছুড়ে দেয় ইংলিশদের সামনে। এই ইনিংসে এলগার ৮০, আমলা ৮৭, ডু প্লেসিসের ব্যাট থেকে আসে ৬৩ রান। শেষ পর্যন্ত ১০৪ ওভার ব্যাটিং করে ৯ উইকেট হারিয়ে ৪৭৪ রানের টার্গেট দাঁড় করায় দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় ইনিংসে ইংলিশদের হয়ে মইন আলী নেন ৪ উইকেট।
জয়ের জন্য ব্যাট করতে নেমে ৪৭৪ রানের বিশাল রানের নিচে চাপা পড়ে যায় ইংলিশ ব্যাটাররা। ওপেনার ব্যাটসম্যান এলিস্টার কুকের ৪২ রান ছাড়া আর কেউই থিতু হতে পারেনি উইকেটে এসে। মাত্র ৪৪.২ বল খেলে ১৩৩ রানেই অল-আউট হয়ে যায় স্বাগতিক ইংল্যান্ড। প্রোটিয়াদের হয়ে এই ইনিংসে ভেরন ফিলেন্ডার ও কেশব ময়ারাজ নেন ৩টি করে উইকেট। দক্ষিণ আফ্রিকা জয় পায় ৩৪০ রানের।
ম্যাচ সেরার পুরস্কার হাতে উঠে ভেরন ফিলেন্ডারের হাতে।
চার ম্যাচ সিরিজে ১-১ এ ড্র হওয়ায় আগামী ২৭ জুলাই ওভালে তৃতীয় ম্যাচে ঘুরে দাড়াতে চাইবে স্বাগতিকরা। সিরিজ হাতছাড়া করতেও নিশ্চয় চাইবেনা সফরকারী দক্ষিন আফ্রিকা। সব মিলে দুই দেশের সমর্থকরা এক রোমাঞ্চকর ক্রিকেটীয় যুদ্ধের অপেক্ষায়।
