গত দুই আসরে বিপিএল চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এবার তাদের সামনে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি। তবে মেগা ফাইনালে ফরচুন বরিশালের বিরুদ্ধে আগে ব্যাট করতে নেমে হোঁচট খায় কুমিল্লার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন। শুরুর ১০ ওভারে ৪ উইকেটে ৬৭ রান, তবে পরের ৬০ বলে তারা পেয়েছে ৮৭ রান। আন্দ্রে রাসেলের শেষ বেলার তান্ডবে বরিশালের সামনে দাঁড়ায় ১৫৫ রানের টার্গেট। এর আগে মাহিদুল অংকন ৩৫ বলে করেন ৩৮ রান।
আন্দ্রে রাসেল ব্যাট হাতে নামার পর ১৯তম ওভারে জেমস ফুলারকে খরচ করান ২১ রান। একাই হাঁকান ৩ ছক্কা। তবে শেষ ওভারে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন বল হাতে দেখান ক্যারিশমা। ওভারে ৩ ওয়াইড, ১ নো দিলেও কোনো বাউন্ডারি হজম করেননি সাইফউদ্দিন। রান খরচ করেন কেবল ৭। আর তাতেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ইনিংস থামে ৬ উইকেটে ১৫৪ রানে। আন্দ্রে রাসেলের ২৭ রানের ক্যামিও ইনিংসে ৬ ছিল ৪টা।যথারীতি, টানা পঞ্চম বারের মতো টসে জিতলেন ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। টসে জিতে স্বাভাবিকভাবেই বেছে নিলেন বোলিং। শুরুর ওভারেই বল তুলে দেন কাইল মায়ের্সের হাতে। তৃতীয় ডেলিভারিতেই মায়ের্স পেতে পারতেন সুনীল নারাইনের ক্যাচ। থার্ড ম্যান অঞ্চলে ক্যাচ মিস করা ওবেদ ম্যাককয়কে জায়গা পরিবর্তন করে শর্ট ফাইন লেগে এনে সাফল্য পায় বরিশাল। ম্যাককয়ের হাতে জীবন পেয়ে অবশ্য এক বলের বেশি খেলতে পারেননি নারাইন।প্যাভিলিয়নে ফেরা সুনীল নারাইন ৪ বলে করেছেন ৫। পরের ওভারেই অবশ্য পাল্টা আক্রমণ চালায় কুমিল্লা। তিনে নামা তাওহীদ হৃদয় আর ওপেনার লিটন দাস সাইফউদ্দিনের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভার থেকে তুলে নেন মোট ১৪ রান। শুরু থেকেই তাণ্ডব চালানো হৃদয়কে এদিন থিতু হতে দেননি জেমস ফুলার। ১০ বলে ১৫ রান করা হৃদয়কে ফেরাতে থার্ড ম্যান এরিয়াতে সহজভাবে ক্যাচ লুফে নেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।পাওয়ার প্লের মধ্যে অধিনায়ক লিটন দাসও হারিয়ে বসেন উইকেট। দলকে স্বস্তি দেওয়ার বদলে লিটন বিদায় নিয়েছেন ১৬ রান করতেই। লিটন দাসের উইকেট যেন তাওহীদ হৃদয়ের কার্বনকপি। বোলার জেমস ফুলার, ক্যাচ নিয়েছেন সেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তাও এবার একই থার্ড ম্যান এরিয়াতে। ৩ উইকেট, স্কোরবোর্ডে ৪৯ রান নিয়ে পাওয়ার প্লে শেষ করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।৯ ওভারে স্ট্র্যাটেজিক টাইম আউটে যায় অনফিল্ড আম্পায়াররা, কিন্তু বিরতির পরের বলেই নেই জনসন চার্লস। ১৭ বলে ১৫ রান করা চার্লস ম্যাককয়ের বলে সহজ ক্যাচ হয়েছেন তামিম ইকবালের হাতে। একদিকে উইকেটের মিছিল, অন্যদিকে ধীরগতির ব্যাট করে যান মাহিদুল ইসলাম অংকন।অংকনকে সঙ্গ দিতে আসা মইন আলিও বেশ দেখে-শুনে বরিশালের বোলারদের সামলাতে থাকেন। তবে অংকনের সাথে ভুল বোঝাবুঝিতেই দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরে যেতে হয় মইন আলিকে। দুঃখজনক বিদায়ের আগে ৬ বল খেলা মইন ৩ রানের বেশি করতে পারেননি। মাহিদুল ইসলাম অংকন উইকেট হারান ইনিংসের ১৭তম ওভারে গিয়ে। ৩৫ বলের ইনিংসে রান পান ৩৮।এরপর আন্দ্রে রাসেল এসে ছক্কার ঝড় বইয়ে দেন। অপর পাশে থাকা জাকের আলি অনিকও ছিলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে।