সফল নাহিদুল, সফল তার দল খুলনা টাইগার্স। নাহিদুলের চোখ ধাঁধানো বোলিংয়ে অল্পতেই আটকে যায় চট্টগ্রাম। আগে ব্যাট করে ১২১ রানের বেশি করতে পারেনি চট্টগ্রাম। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতে বিপাকে পড়লেও খুলনা টাইগার্স শেষপর্যন্ত ৪ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। স্পিন ঘূর্ণিতে চার উইকেট শিকার করা নাহিদুল ইসলামের মিলে গেছে ম্যান অব দ্যা ম্যাচের পুরষ্কার।
অধিনায়ক এনামুল হক বিজয়ের সিদ্ধান্তে আগে বল হাতে নিয়ে স্পিনার নাহিদুল ইসলাম দেখালেন চোখ ধাঁধানো বোলিং। ৪ ওভারে নাহিদুল দিলেন মাত্র ১২ রান, উইকেট নিলেন ৪টি। শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকা চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স নির্ধারিত ওভার শেষের আগেই অলআউট হয় ১২১ রানে। তাও শেষবেলায় শহিদুল ইসলামের ৪০ রানের ক্যামিও ইনিংসে কল্যাণে। ১২২ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি খুলনা টাইগার্সের। তবে ঝড়ো শুরুর একটা আভাস দিয়েছিলেন এভিন লুইস। আল-আমিন হোসেনকে কাও কর্ণারের ওপর দিয়ে হাঁকান ছয়, পরের বলেও লফটেড শট খেলার চেষ্টায় উইকেটকিপারের গ্লাভসে হন ক্যাচ। ৬ বলে ১২ রান নিয়ে সাজঘরের পথে হাটেন খুলনার ক্যারিবীয় ওপেনার। অধিনায়ক এনামুল হক বিজয়ও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। থিতু হয়ে যাওয়া বিজয়কে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ বানান শহিদুল। ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৪০ রানের ইনিংস খেলা শহিদুল বোলিংয়ের শুরুর ওভারেই দলকে এনে দেন সাফল্য। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ওপেনার বিজয়ের সংগ্রহ ৮ বলে ৯। নিজের দ্বিতীয় ওভারে আল-আমিন হোসেন নেন শাই হোপের উইকেট। চট্টগ্রামের মতোই দলীয় ৩২ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় খুলনা। এরপর মাহমুদুল হাসান জয়কে নিয়ে দলের সংগ্রহ টানতে থাকেন আফিফ হোসেন।জয়-আফিফ জুটি জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে খুলনা। তবে তাদের ব্যাটিং ছিল ধীরগতির। ৪২ বল পর আফিফের ব্যাটে বাউন্ডারি দেখে খুলনা। ইনিংসের ৩য় ওভারের শেষ বলে বিজয়ের মারা বাউন্ডারির পর ১০.১ ওভারে গিয়ে আফিফের ব্যাট থেকে আসে ফোর। বাউন্ডারি মারার এই চাহিদায় রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড আউট আফিফ হোসেন ধ্রুব। নিহাদুজ্জামানের শিকার হয়ে ফেরার আগে আফিফের ব্যাট থেকে ২৮ বলে আসে ২৪ রান। সম্ভাবনা জাগিয়ে বিপিএলে আসা হাবিবুর রহমান সোহান খুলনা টাইগার্স ফ্যাঞ্চাইজিকে প্রতিদান দিতে পারেননি। ৩ রান করতেই সোহান ব্যাট ছুঁয়ে ক্যাচে পরিণত হন উইকেটকিপারের গ্লাভসে। বিলাল খান পান প্রথম উইকেটের দেখা। ম্যাচেও প্রায় আশা নিভে যায় খুলনার। তবে ফাহিম আশরাফ এসেই জমিয়ে দিলেন খেলা। ব্যাক টু ব্যাক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে নিয়ে নেন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ। দল যখন জয় থেকে কেবল ৮ রান দূরে তখন উইকেট হারান সর্বোচ্চ ৩৯ রানের ইনিংস খেলা মাহমুদুল হাসান জয়। তবে ফাহিম আশরাফ শেষপর্যন্ত ১৫ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। ওয়াইড, নো বলের কল্যাণে ১২০ থেকে ১২২ হয়ে খুলনার ৪ উইকেটের জয়।