শ্রীলঙ্কাকে আজ হারাতে পারলেই ঘরের মাঠে দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পাবে টাইগাররা। এমন সমীকরণের ম্যাচে ফের লিটনের ডাক। এরপর অবশ্য একের পর এক স্ট্রোক্সে লঙ্কান বোলারদের ওপর পালটা আক্রমণ চালান সৌম্য-শান্ত, তাদের ব্যাটেই ইনিংসের সর্বোচ্চ ৭৫ রানের জুটি। দ্রুততম দুই হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়ার দিনে সৌম্য পেয়েছেন স্বস্তির ফিফটি। তবে আগ্রাসী সৌম্যকে নামের পাশে ৬৮ রান নিয়ে আফসোস সঙ্গী করেই ফিরতে হয় প্যাভিলিয়নে। এরপর হাল ধরেন তাওহী হৃদয়, ফিফটি হাঁকিয়ে শেষবেলায় একা হাতেই টেনে নিতে থাকেন দলকে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহে জমা হয় ২৮৬ রান।
সৌম্য সরকারের পর তাওহীদ হৃদয় আজ ফিরলেন রানে। জোড়া ফিফটিতে তারা এগিয়েছেন দলের সংগ্রহ। শুরুতে সৌম্য দেখান দাপট, ইনিংসের শেষ বেলায় তাওহীদ হৃদয়ের দায়িত্বশীল ব্যাটিং। তবে লঙ্কান বোলারদের মধ্যে টাইগার ব্যাটারদের বিপাকে ফেলতে পারেন কেবল ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। বাংলাদেশের হারানো ৭ উইকেটের মধ্যে তার ঝুলিতেই যায় ৪ উইকেট। হৃদয়ের সঙ্গে শেষদিকে তাণ্ডব চালান তাসকিন আহমেদ। এই দুইয়ের ক্যামিওতে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ২৮৬। তাওহীদ হৃদয় ৯৬ ও তাসকিন ১৮ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।সিরিজ বাঁচাতে হলে লঙ্কানদের করতে হবে ২৮৭ রান। টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে টাইগাররা। রানের খাতা খোলার আগেই ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন লিটন কুমার দাস। লিটন দাস সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে পেয়েছিলেন গোল্ডেন ডাকের স্বাদ। আজ অবশ্য ৩ বল খেলে বিদায় নিয়েছেন শূন্য হাতে। ব্যাক টু ব্যাক ডাকে ওয়ানডেতে লিটনের এখন ডাকের সংখ্যা ১৪। ২০১৫ সালে অভিষেকের পর থেকে এই পর্যন্ত লিটনের ৯১ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ার। যেখানে ১২ বার পঞ্চাশ ও পাঁচটি সেঞ্চুরি পেলেও লিটন দাস ডাক হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মোট ১৪ ম্যাচে। যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৪ বার লিটনের শূন্য শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নেমে। ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই পর্যন্ত মোট ৭ ম্যাচ খেলা লিটনের রান সংখ্যা ৬৩, গড় কেবল ৯।লিটনের ব্যাক টু ব্যাক ডাক হওয়ার লজ্জার রেকর্ড অবশ্য চট্টগ্রামের দর্শকদের ভুলিয়ে দিলেন আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার। আগের ম্যাচে ৯ বল খেলে ৩ রান পাওয়া সৌম্য আজ শুরু থেকেই ছিলেন চেনা ছন্দে। স্ট্রোক্সের ফোয়ারা ছুটিয়ে পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সংগ্রহে ৬৪। ব্যক্তিগত ৪০ রানে শান্তর বিদায়ে ভাঙে সৌম্যর সাথে গড়া ৭৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। এরপর তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে ইনিংস টানতে থাকেন সৌম্য, দাপট দেখিয়ে পেয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১২তম ফিফটির দেখা। হাসারাঙ্গাকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সৌম্য পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ৫২ বলে।দুর্দান্ত সৌম্য সরকার শেষ পর্যন্ত উইকেট হারান দলীয় ১৩০ রানে, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার বলে দিলশান মাদুশঙ্কার হাতে হন অনবদ্য এক ক্যাচের শিকার। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ওপেনার সৌম্য ৬৬ বলে করেছেন ৬৮ রান, যা তিনি সাজান ১১ চার ও ১ ছক্কায়। এই ইনিংস খেলার পথে ছুঁয়েছেন বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম দুই হাজার রানের মাইলফলক। ৬৪ ইনিংস খেলা সৌম্যর রান এখন ২০১২। এতদিন শীর্ষে থাকা শাহরিয়ার নাফিস, লিটন দাস ওয়ানডেতে দুই হাজার রান করেছিলেন যথাক্রমে ৬৫ ইনিংস খেলে।ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ইনিংসের ২২ তম ওভারে শুধু সৌম্যকে ফিরিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে পারেননি, এক বল পর দখলে নেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উইকেটও। এগিয়ে খেলতে গিয়ে বলের লাইন মিস করা রিয়াদ হয়েছেন স্টাম্পড। ডাকের স্বাদ নিয়ে এই অভিজ্ঞ ব্যাটারকে এদিন ফিরতে হয়েছে প্যাভিলিয়নে। এরপর তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গী হন প্রথম ওয়ানডে জয়ের অন্যতম নায়ক মুশফিকুর রহিম। দ্রুত দুই উইকেট হারানোর ধাক্কা তারা সামলে নেন দারুণভাবে, শুরুটা ধীরগতির করলেও থিতু হয়ে তারা রানের চাকায় এনেছেন গতি। তবে মুশফিকুর রহিম দুর্ভাগ্যজনকভাবে পড়েছেন লেগ বিফোরের ফাঁদে। অনফিল্ড আম্পায়ার প্রথমে আঙুল না তুললেও রিভিউ চ্যালেঞ্জ নিয়ে মুশফিকের উইকেট নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা।২৮ বল খেলা মুশফিক ব্যক্তিগত ২৫ রানে সাজঘরের পথ ধরেন। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ এসে হয়েছেন চরম ব্যর্থ, ডাউন দ্য উইকেটে এসে হয়েছেন বোল্ড। হাসারাঙ্গাকে প্রথমে মারার প্ল্যান করে মিরাজ মুহূর্তেই ডিফেন্সিভ হয়ে যান, বলের লাইন মিস করে হারিয়েছেন স্টাম্প। তার ১৮ বলের ইনিংসে ১ চারে আসে কেবল ১২ রান। উইকেটের আসা-যাওয়ার মাঝে দাঁড়িয়ে নিজের ইনিংস টানতে থাকেন হৃদয়, তার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলও পায় স্বস্তি। ৭৪ বলে পঞ্চাশ রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। ক্যারিয়ারের সপ্তম ফিফটির পর যেন আরও ভয়ংকর রূপ নেন হৃদয়। লাহিরু কুমারার নিচু লেন্থে আসা বল ফ্লিকে পেলেন ছয়, যা আজকের ইনিংসে তার প্রথম।হৃদয়কে সঙ্গ দিয়ে তানজিম সাকিব খেলেছেন ৩৩ বল, রান পেয়েছেন ১৮। নতুন ব্যাটার তাসকিন আহমেদ এসেই বাউন্ডারিতে খোলেন রানের খাতা। ফাইফারের আশায় কোটার শেষ ওভার করতে এসে প্রথম ডেলিভারিতেই হৃদয়ের কাছে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা হজম করেন হাসারাঙ্গা। এক বল ডট দিয়ে একই স্টাইলে হৃদয়ের আরও এক ছয়! ওভারের পর তিন বলেও ছয় হাঁকানোর চেষ্টা চালান হৃদয়, কিন্তু অফ সাইডের বলগুলো ব্যাটই ছোঁয়াতে পারেননি। ইনিংসের ৪৯ তম ওভার করতে এসে প্রমোদ মাদুশান প্রথম দুই বলে তাসকিনের কাছে খরচ করেন ৬ ও ৪।