সাকিবের পর তাসকিন-শরিফুলেরও তিনে তিন

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ: messages.not_available আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
সাকিবের পর তাসকিন-শরিফুলেরও তিনে তিন

সাকিবের পর তাসকিন-শরিফুলেরও তিনে তিন

সাকিবের পর তাসকিন-শরিফুলেরও তিনে তিন

বন্দরনগরীর বাতাস ও সবুজাভ উইকেট পেসার তানজিম হাসান সাকিবের দুহাত ভরিয়ে দিয়েছে। মুস্তাফিজের জায়গায় তানজিম সাকিবকে খেলিয়েই বাংলাদেশের বাজিমাত। শ্রীলঙ্কার হারানো প্রথম তিন উইকেটের সবক'টিই একা দখলে নেন সাকিব। স্পিন ঘূর্ণিতে এদিন মেহেদী হাসান মিরাজ প্রতিপক্ষকে চেপে ধরলেও তাইজুল ইসলাম ছিলেন বেশ খরুচে। অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস ব্যক্তিগত ৫৯ রানে ফেরার পর ভরসার প্রতীক হয়ে ছিলেন জানিথ লিয়াঙ্গে, খেলেছেন সর্বোচ্চ ৬৭ রানের ইনিংস। শেষ দিকে তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলামও গতির ঝড় তুলে দখলে নেন ৩টি করে উইকেট। 

দারুণ শুরু করেও নির্ধারিত ৫০ ওভারের আগেই শ্রীলঙ্কার ইনিংস থামে ২৫৫ রানে।  চট্টগ্রামের সবুজ পিচে পেসাররা বাড়তি সুবিধা পাবে, এই ভাবনায় একাদশে দেখা মিলল থ্রি-পেস-অ্যাটাকের। তবে অমন উইকেটে নেমে দুর্দান্ত এক জবাবই দিল লঙ্কান ওপেনাররা। টসে হেরে বোলিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। চট্টগ্রামের সবুজ উইকেটে জমে গিয়েছিল লঙ্কান দুই ওপেনারের জুটি। খুব করে ব্রেকথ্রু দরকার ছিল বাংলাদেশের, তবে তা আসে ইনিংসের ১০ম ওভারে। তানজিম হাসান সাকিব নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে ভাঙেন লঙ্কানদের ৭১ রানের উদ্বোধনী জুটি। ব্যক্তিগত ৩৩ রানে থাকা ওপেনার আভিষ্কা ফার্নান্দোকে ক্যাচ বানান মুশফিকুর রহিমের হাতে। সাকিব পরের ওভারে এসে ফিরিয়ে দেন আরেক ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কাকেও। অধিনায়ক শান্তর চাওয়ায় গালি অঞ্চলে ফিল্ডিংয়ে দাঁড়ান সৌম্য, এখানেই ক্যাচ হন নিসাঙ্কা। আগের ওভারের পঞ্চম বলে আভিষ্কাকে বিদায় করে পরের ওভারের প্রথম ডেলিভারিতেই উইকেট সংখ্যা ডাবল করেন তানজিম সাকিব। তবে এই তরুণ পেসার এখানেই থেমে যাননি, আবার অ্যাকশনে এসে শিকার করেন চারে নেমে ৩ রানে থাকা সাদিরা সামারাবিক্রমার উইকেট। সাকিব একাই এদিন ভেঙে চুরমার করে দেন শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডার। এক তানজিম সাকিবের কল্যাণেই ৭১/০ থেকে শ্রীলঙ্কার স্কোরবোর্ডের অবস্থা গিয়ে দাঁড়ায় ৮৪/৩ তে। ধাক্কা সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আর সহ-অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা। এই দুইয়ে মিলে জুটি গড়ে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন আরও ৪৪ রান। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আসালাঙ্কা। মেহেদী হাসান মিরাজের কুইকার ডেলিভারি টার্ন নিয়ে ভাঙে আসালাঙ্কার স্টাম্প। ১৮ রান নিয়ে সাজঘরের পথে হাটা আসালাঙ্কা ৩৭ বলে ২ বাউন্ডারির সাহায্যে সাজান এই ইনিংস। এরমাঝেই থিতু হয়ে যাওয়া অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস ৬৭ বলে ছুঁয়েছেন পঞ্চাশ। যা ওয়ানডে ক্রিকেটে তার ২৯তম ফিফটি। এরপর অবশ্য দ্রুতই বিদায় নিতে হয়েছে মেন্ডিসকে। ৫৯ রানে থাকা কুশল মেন্ডিসকে মিড অফে শান্তর হাতে সহজ ক্যাচ বানিয়ে ম্যাচে প্রথম উইকেটের দেখা পান তাসকিন। ভাঙে জানিথ লিয়াঙ্গের সাথে মেন্ডিসের গড়া ৬৯ রানের জুটি, যা আসে ৬৮ বল থেকে। এরপর তাসকিন আহমেদ পরপর দুই ওভারে তুলে নেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও মাহেশ থিকশানার উইকেট। হাসারাঙ্গার ব্যাট থেকে ১৩ রান আসলেও থিকশানা ১ রানের বেশি করতে পারেননি।  এরমাঝেই জানিথ লিয়াঙ্গে তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটিটি পেয়েছেন ৫০ বলে, যা তার টানা তৃতীয় ফিফটি। নিজের ৯ম ওভার করতে এসে অবশেষে উইকেটের দেখা পেলেন শরিফুল ইসলাম। মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৬৯ বলে করেন ৬৭ রান।