চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে কুমিলার দুই স্পিনারের বোলিং ফিগার ছিল রীতিমতো চোখ ধাঁধানো। তানভীর ইসলাম ৪-১-১৩-৪, আলিস আল ইসলাম ৪-১-১৪-২! অনেকটা যেন ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতো। তানভীর-আলিসের এমন দুর্দান্ত দিনে উড়ছে তার দলও। এই দুই স্পিন উইজার্ডের বিষে নীল হয়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ইনিংস থামল ৭২ রানে।
চট্টগ্রামের কেবল দুই ব্যাটার পৌঁছাতে পারেন দুই অংকের ঘরে। টম ব্রুস খেলেন সর্বোচ্চ ২৭ রানের ইনিংস। আরেক ফরেন রিক্রুট নাজিবউল্লাহ জাদরানের ব্যাট থেকে আসে ১১ রান। এরমাঝে ডাক হয়ে ফিরেছেন ৫ ব্যাটার। শেষপর্যন্ত ৭২ রানে থামে তারা, খেলতে পারেনি ১৬.৩ ওভারের বেশি। যা এবারের বিপিএলে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ।সিলেট পর্বে দুই দলের জন্যই এটি শেষ ম্যাচ। তাই শেষটা জয়ে রাঙিয়ে সিলেট ছাড়তে চায় তারা। টসে জিতে আগে ফিল্ডিংয়ে নামে লিটন দাসের দল। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারেই ৪ উইকেট হারিয়ে চরম বিপাকে পড়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। এরপর নিয়মিত বিরতিতে তারা হারায় বাকি উইকেটগুলো। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট তুলে নেন রেমন রেইফার। দুই বল খেলা তামিম প্যাভিলিয়নে যান শূন্য হাতে। এরপর আভিষ্কা ফার্নান্দো জুটি গড়ার চেষ্টা করেন তিনে নামা কিউই ব্যাটার টম ব্রুসকে নিয়ে। তবে তানভীর ইসলাম নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে প্রথম স্লিপে ক্যাচ বানান ৭ রানে থাকা আভিষ্কাকে। তানভীর ইসলাম পরের ওভারে এসে তুলে নেন জোড়া উইকেট, রান দেননি একটিও। শাহাদাত হোসেন দিপুর ব্যাট থেকে ৯ রান আসলেও ডাক হয়ে ফেরেন সৈকত আলি। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ডাবল উইকেট মেডেন পাওয়া তানভীরই চট্টগ্রামকে বানিয়ে দেন ধ্বংসস্তূপ। টানা ওভার করে যাওয়া তানভীর ৮ ওভারেই শেষ করে ফেলেন কোটার ৪ ওভার। শেষ ওভারে তুলে নেন সর্বোচ্চ ২৭ রানের ইনিংস খেলা টম ব্রুসকেও। ৪-১-১৩-৪ বোলিং ফিগারে তানভীর যেভাবে উড়তে থাকেন, উড়তে থাকে তার দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সও। প্রথম দুই ওভারে উইকেটের দেখা না পাওয়া আলি আল ইসলাম তৃতীয় ওভার করতে এসে নেন ডাবল উইকেট মেডেন। ধুঁকতে থাকা চট্টগ্রাম যেন এবার ডুবে গেল ব্যর্থতার সমুদ্রে। ওভারের প্রথম বলে তুলে নেন নাজিবউল্লাহ জাদরানের উইকেট, তৃতীয় বলে ডাক বানিয়ে সাজঘরে ফেরান জিয়াউর রহমানকে। তানভীর আর উইকেট না পেলেও চট্টগ্রামের ইনিংস অল্পতেই গুড়িয়ে দিতে একে একে উইকেট শিকার করেন আমির জামাল, মুস্তাফিজুর রহমান ও বিলাল খান। শেষপর্যন্ত ১৬.৩ ওভারেই চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স থামে মাত্র ৭২ রান স্কোরবোর্ডে জমা।