আগের ম্যাচে জয় পাওয়া সিলেট স্ট্রাইকার্স আজ ফিরল সেই পুরানো রূপেই। রংপুর রাইডার্সের কাছে রীতিমতো উড়ে গেল ঘরের দলটি। ব্যাট হাতে ব্যর্থ হওয়া সাকিব বল হাতে দেখালেন জাদু। ৪-১-১৮-২, সাকিব আল হাসানের এই বোলিং ফিগারই বলে দেয় সিলেটের ব্যাটাররা কতটা বিধ্বস্ত হয়েছে।
পাঁচ ম্যাচে পরাজয়ের পর আগের ম্যাচে জয়ের মুখ দেখা সিলেট স্ট্রাইকার্স আবারও ডুবল হতাশার সমুদ্রে। ঘরের মাঠে সিলেট দলের শেষ ম্যাচ, আনন্দ-উৎসবে মাতার বদলে সিলেটি দর্শকরা স্টেডিয়াম ছাড়ল ম্যাচ শেষ হওয়ার ১০ ওভার আগে থেকেই।
১৬৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের করা প্রথম ওভারেই বোল্ড হন সিলেটের ওপেনার হ্যারি টেক্টর। পরের ওভারে শেখ মেহেদী হাসান এসে প্রথম ডেলিভারিতেই তুলে নেন আরেক ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট। ৩ বল খেলা শান্ত ১ রানের বেশি করতে পারেননি।
মেহেদী নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে দেখা পেয়ে যান দ্বিতীয় শিকারের। ৪ রানে থাকা জাকির হাসানকে স্টাম্পড করে ফেরান নুরুল হাসান সোহান। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বল হাতে সাকিব আল হাসানের আগমন। সাকিবের প্রথম পাঁচ বলে একটি রানও করতে পারেননি সিলেটের অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। ধুঁকতে থাকা মিঠুন মিড অনে ক্যাচ হন ব্রেন্ডন কিংয়ের হাতে। ৮ বল খেলা মিঠুনের সংগ্রহে কেবল ১।
উইকেট মেডেনে সাকিব অবশেষে রাঙান সিলেট। সিলেট স্ট্রাইকার্স পাওয়ার প্লে শেষ করে ৪ উইকেট খুইয়ে ২৩ রানে। যা এবারের বিপিএলে এখন পর্যন্ত পাওয়ার প্লেতে সর্বনিম্ন। সাকিব নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসেও দেখালেন জাদু। এবার অবশ্য ১ রান খরচ করে দখলে নেন ১ উইকেট। থিতু হয়ে যাওয়া সামিত প্যাটেলকে (১১) ক্যাচ বানান পয়েন্ট অঞ্চলে ফজলে মাহমুদের হাতে। ২-১-১-২, সাকিবের এই বোলিং ফিগার রীতিমতো চোখ ধাঁধানো।
আগের ম্যাচে ওপেনিংয়ে ব্যর্থ হওয়া শামসুর রহমান আজ ব্যাট করতে নামলেন ৬ নম্বরে। তবে এবার অবশ্য ডাকের লজ্জা থেকে বাঁচলেও রান পেয়েছেন ৬ বলে ৩। হাসান মাহমুদ পান তার প্রথম শিকারের দেখা। স্কোরবোর্ডে ৩০ রানে উঠতেই সিলেট স্ট্রাইকার্স হারিয়ে বসে ৬ উইকেট। ১০ ওভারে তাদের সংগ্রহ ৩৭। ফলে জয়ের জন্য বাকি ১০ ওভারে সিলেটকে করতে হত ১২৬ রান।
আরিফুল হকও এদিন বাকি সবার মতোই লিখলেন ব্যর্থতার গল্প। মোহাম্মদ নবীর বলে কিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৭ বলে তিনি করেন ৫। তবে এদিন সিলেট স্ট্রাইকার্সের জার্সিতে ব্যতিক্রম কেবল রায়ান বার্ল। উইকেটের আসা-যাওয়া মিছিলে তিনি যোগ না দিয়ে রংপুরের বোলারদের খেলেছেন বেশ দেখে-শুনে।
এর মাঝেই নাইম হাসান সাজঘরের পথে হাটেন মেহেদীর তৃতীয় শিকারে পরিণত হয়ে।