দুর্দান্ত ক্যাম্ফারে বরিশাল গেল উড়ে

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ: messages.not_available আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
দুর্দান্ত ক্যাম্ফারে বরিশাল গেল উড়ে

দুর্দান্ত ক্যাম্ফারে বরিশাল গেল উড়ে

দুর্দান্ত ক্যাম্ফারে বরিশাল গেল উড়ে

কুর্টিস ক্যাম্ফারের ক্যামিও ইনিংসের জন্য শেষদিকে স্ট্রাইক না পেয়ে সেঞ্চুরি মিস করেন আভিষ্কা ফার্নান্দো। ক্যাম্ফার ৩২২ এর বেশি স্ট্রাইকরেটে ২৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন বলে আভিষ্কার আক্ষেপ না হওয়ারই কথা। দুর্দান্ত ক্যাম্ফার এরপর বল হাতেও করলেন বাজিমাত। ১০ ওভারের পর বল করতে এসে জোড়া উইকেট করে দখলে নিয়ে দুই ওভারেই তার শিকার ৪ উইকেট। তাতেই যেন ধ্বংসস্তূপ হয়ে যায় ফরচুন বরিশালের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন। শেষ পর্যন্ত বরিশালের ম্যাচ হার নিশ্চিত হয় ১০ রানে। ঢাকায় টানা দুই ম্যাচ হেরে আসা তামিম ইকবালরা সিলেটে এসে পূর্ণ করল হারের হ্যাটট্রিক। 

লঙ্কান তারকা ব্যাটার আভিষ্কা ফার্নান্দো আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে চট্টগ্রামকে এনে দেন এবারের বিপিএলের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। তবে সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ আছে আভিষ্কার, শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১০ রানের। কিন্তু খেলতে পারেন কেবল ১ বল। ক্যাম্ফারের ব্যাটিং ঝড়ে স্ট্রাইক বঞ্চিত হন আভিষ্কা, ফলে ৯১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। আর তাতেই বরিশালের সামনে ১৯৪ রানের পাহাড় সম টার্গেট। আভিষ্কার অতিমানবীয় ইনিংসটি সাজানো ছিল ৫ চার ও ৭ ছক্কায়। কুর্টিস ক্যাম্ফার ৯ বলে খেলেন ২৯ রানের ক্যামিও ইনিংস। বড় লক্ষ্য তাড়ায় নেমে তারকায় ঠাসা ফরচুন বরিশাল ইনিংসের শুরুটা পেয়েছিল উড়ন্ত। আহমেদ শেহজাদ বরিশালের জার্সিতে বিপিএলে ফিরলেন সেই পুরানো রূপে। বিপিএলের প্রথম আসরে বরিশাল বার্নার্সের হয়ে খেলতে এসে সেমিফাইনালে ঝড়ো সেঞ্চুরি করেছিলেন শেহজাদ। সেই শেহজাদ এবার ফিরে আসলেন পুরানো ঠিকানায়। ২০২৪ বিপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেও ব্যাট হাতে চালান ঝড়।  তামিম ইকবালের সাথে ওপেনিং জুটি যখন পঞ্চাশ পেরিয়ে ৫৫'তে, তখনই চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন বিলাল খান। দাপট দেখিয়ে দারুণ সব স্ট্রোক্স খেলতে থাকা শেহজাদ শর্ট পিচ বলে বল আকাশে ভাসিয়ে নিয়েছেন বিদায়। ফেরার আগে ৩৯ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে যান মাত্র ১৭ বলে। যা সাজানো ছিল ৫ চার ও ২ ছক্কায়। তিনে নামা সৌম্য সরকার এরপর তামিমের সাথে জুটি গড়ে দলকে টানতে থাকেন। ১০ ওভার শেষে বরিশালের স্কোরবোর্ড ৯০/১। জিততে হলে বাকি ১০ ওভারে তাদের দরকার ছিল ১০৪ রান।   তবে পরের ওভারে কুর্টিস ক্যাম্ফার অ্যাকশনে আসতেই ভাঙে তামিম ইকবালের প্রতিরোধ। ৩৩ রানে থাকা বরিশালের অধিনায়ক বাউন্ডারি লাইনে আভিষ্কা ফার্নান্দোর হাতে হয়েছেন সহজ ক্যাচ। এই ওভারে আরেক সেট ব্যাটার সৌম্য সরকারের উইকেটও দখলে নেন ক্যাম্ফার। স্লোয়ায় শর্ট বলে ব্যাট ছুঁয়ে সৌম্য ধরে পড়েন উইকেটকিপারের গ্লাভসে। চার বলের ব্যবধানে জোড়া উইকেট নিয়ে ক্যাম্ফার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন চট্টগ্রামের হাতে। সৌম্য প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ১৬ বলে করেন ১৭ রান।  ৩ রান খরচায় জোড়া উইকেট শিকার করা কুর্টিস ক্যাম্ফার নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে ফের জোড়া উইকেট দখলে নেন। এবার তার শিকার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ইয়ানিক ক্যারিয়াহ। রিয়াদ ৩ ও ক্যারিয়াহ ৪ রানের বেশি পাননি। ক্যাম্ফারের বোলিং ফিগার তখন চোখ ধাঁধানো, ২-০-১১-৪। এরপর আর বল হাতে উইকেট না পেলেও অন্য বোলারদের উইকেট পেতে ক্যাম্ফার রাখেন বড় অবদান। দ্রুত ৩৫ রান করে চোখ রাঙানি দেওয়া মিরাজকে বিদায় করতে নিয়েছেন দুর্দান্ত এক ক্যাচ। এরপর অভিজ্ঞ মুশফিককে ফেরাতেও ক্যাচ লুফে নেন এই ক্যাম্ফারই।  আল-আমিন হোসেনের বলে ক্যাচ তুলে ফেরার আগে মেহেদী হাসান মিরাজ ১৬ বলে খেলেন ৩৫ রানের ক্যামিও। মুশফিকুর রহিমের ২৩ রানের ইনিংস ছিল অবশ্য ধীরগতির। বরিশালের সামনে শেষ দুই ওভারে ৩৩ রানের সমীকরণ ছিল, তবে মুশফিকের দ্রুত বিদায় যা ক্রমশ কঠিন হয়ে যায়। যা নেমে আসে ৬ বলে ২২ রানে। দুনিথ ওয়েল্লালাগে ও আব্বাস আফ্রিদি শেষদিকে কেবল হারের ব্যবধান কমিয়েছেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮৩ রানে থামে বরিশালের ইনিংস। চট্টগ্রামের ১০ রানের রোমাঞ্চকর জয়।