ব্যাটারদের তাণ্ডবে মিরপুরে রীতিমতো উড়ছে রংপুর রাইডার্স। প্রথম রনি-হেনড্রিক্সের উদ্বোধনী জুটিতে শুরু, এরপর সাকিব আল হাসান এসে বাড়িয়ে দিয়ে যান রানের গতি। সকালে বাংলাদেশে এসে দুপুরে ম্যাচ খেলতে নেমেই রংপরের প্রোটিয়া ওপেনার রেজা হেনড্রিক্সের বাজিমাত, বিপিএলে অভিষেক ইনিংসেই হেনড্রিক্সের পঞ্চাশ। ফিনিশিংয়ে অনবদ্য শো দেখান জিমি নিশাম ও নুরুল হাসান সোহান। আর তাতেই এবারের আসরে প্রথম দল হিসাবে রংপুর পেরিয়ে যায় দুইশো রানের সংগ্রহ।
২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে রংপুর রাইডার্সের রান ২১১। ফিনিশিংয়ে ঝড় তুলেন জিমি নিশাম। ২৬ বলে ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংস। সোহানের সাথে গড়েছেন ৮১ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি, যা আসে কেবল ৪৬ বলে। ইনিংসের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে নিশাম পূর্ণ করেন ফিফটি। এছাড়া অধিনায়ক সোহানের ব্যাট থেকে আসে ৩১* রান। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও টস ভাগ্য কথা বলে নুরুল হাসান সোহানের পক্ষে। আগে ব্যাট করতে নেমে রংপুর রাইডার্স পায় উড়ন্ত সূচনা। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সকালে ঢাকায় এসে দুপুরে ওপেন করতে নেমে গেলেন রেজা হেনড্রিক্স। একাদশে ফেরা রনি তালুকদারকে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতেই হেনড্রিক্স দেখান নিজের চিরচেনা রূপ। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে রংপুরের সংগ্রহে জমা হয় ৫২ রান।তবে পরের ওভারেই ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। দলীয় ৬১ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান রনি তালুকদার। নিহাদুজ্জামানের বলে ডিপ মিড উইকেটে দিপুর হাতে ক্যাচ তুলে ফেরার আগে রনি ১৭ বলে করেন ২৪। এরপর সাকিব আল হাসানকে পেয়ে আরও জ্বলে ওঠেন হেনড্রিক্স। আগের ম্যাচে ছন্দে ফেরা সাকিব এদিন ছিলেন আরও বেশি ফুরফুরে মেজাজে।সাকিব-হেনড্রিক্স এদিন শুধু লম্বা জুটিই গড়েননি রংপুরের রানের চাকায় এনে দেন গতি। দু'জনেই খেলতে থাকেন হাত খুলে। সৈকত আলিকে ইনিংসের নবম ওভারে খরচ করান ১৬ রান। পরের ওভারে নিহাদুজ্জামানকেও ১৩ রান দিয়ে যেতে হয়। শুভাগত, শহিদুলেরও হয়েছে একই হাল। সাকিবদের সামনে কোনোপ্রকার পাত্তাই পায়নি চ্যালেঞ্জার্সরা। ১২ ওভার শেষে রংপুরের স্কোরবোর্ডের অবস্থা দাঁড়ায় ১ উইকেটে ১২১ রানে।একই ওভারে সাকিব-হেনড্রিক্সকে ফেরালেন সালাউদ্দিন শাকিল। ওভারের প্রথম বলেই ভয়ংকর হয়ে ওঠা সাকিবকে উইকেটকিপার ব্রুসের গ্লাভসে বানালেন ক্যাচ। এর আগেই সাকিব খেলেন ২৭ রানের ক্যামিও ইনিংস। মাত্র ১৬ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ইনিংসটি সাজান রংপুরের অন্যতম সেরা এই তারকা।সাকিবের বিদায়ের এক বল পর বিদায় নেন রেজা হেনড্রিক্সও। ৩৬ বলে পঞ্চাশ ছোঁয়া হেনড্রিক্স সাজঘরের পথে হাটেন নামের পাশে ৫৮ রান নিয়ে। বিপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই দক্ষিণ আফ্রিকার এই তারকা ওপেনার করলেন বাজিমাত। তার দাপুটে ব্যাটিংয়েই রংপুর পেয়ে যায় বড় সংগ্রহের ঠিকানা।এরপর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে টেনে নিয়ে যান অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। তাকে দারণভাবে সঙ্গ দেন কিউই তারকা জিমি নিশাম। এই দুইয়ের ব্যাটে আর কোনো বিপদ দেখেনি রংপুর। বরং তাদের অনবদ্য ফিনিশিংয়ে রংপুর রাইডার্স পেল এবারের আসরের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। রংপুরের জার্সি গায়ে জড়িয়ে জিমি নিশামও পেয়ে যান প্রথম ফিফটির দেখা। মাত্র ২৬ বল খেলে নিশাম করেন ৫১ রান, এই ইনিংসে ছিল ৫ চার ও ৩ ছয়। তাতেই যেন ২১১ রানের পাহাড় গড়ে ফেলল রংপুর রাইডার্স।