বীরত্বগাঁথায় বিদায় মাশরাফির
বীরত্বগাঁথায় বিদায় মাশরাফির
বীরত্বগাঁথায় বিদায় মাশরাফির
যেন পণ করেই নেমেছিলেন সাকিব-মুস্তাফিজরা! আজ জিততেই হবে, আজ মাশরাফি'র জন্য জিততে চাই। এমন কিছুইতো বলেছিলেন কাল মোসাদ্দেক ! ব্যাটিংয়ে যেমন দাপুটে শুরু সৌম্য-ইমরুলে, বোলিংটাও ছিল দুর্দান্ত।
[caption id="attachment_609" align="aligncenter" width="437"]
দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে মাশরাফি ডেপুটির উল্লাস! [/caption]
সাকিব যেমন তার সব সামর্থ্য উজাড় করে দিয়ে বোলিং করেছেন প্রিয় ম্যাশের জন্য। তেমনটা মুস্তাফিজ। বোলিং করতে এসেই প্রথম ওভারেই তুলে নেয় টানা ২উইকেট। ফিল্ডিংয়ে মোসাদ্দেকদের জীবন বাজি।
সামর্থ্যের সবটুকুই ঢেলে দিয়েছেন এই ম্যাচে। সামর্থ্যের সবটুকু কেনই বা না দিবেন। যে মাশরাফি ছিলেন তাদের আদর্শ, বড় ভাই, বন্ধু কিংবা অভিবাবক। সেই মাশরাফি'র বিদায়ী ম্যাচ আজ।
[caption id="attachment_610" align="aligncenter" width="448"]
বড় ভাইয়ের বিদায়ের দিন গুনে গুনে নিয়েছেন চার উইকেট, মুস্তাফিজ কৃতজ্ঞ, মাশরাফির কাছে কৃতজ্ঞ পুরো দেশ![/caption]
যে মাশরাফি ৭বার নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন ছুরি-কাঁচির নিচে। তবুও উঠে দাড়িয়েছেন বার বার এই দেশ, এই দলটার জন্য। যে মাশরাফি অবসর ঘোষনার দিন বলে গিয়েছেন, একজন মাশরাফির চাইতে দেশ বড়। একটা ম্যাচ জিতলে জিতবে দেশ। এসব তিনি যতই বলুক না কেন তাতে কি। আজ গোটা দেশ চায় জয়টা মাশরাফির জন্য হোক। সেটাই হয়েছে।
শুরুটা সাকিবের কুশলকে ফেরানো দিয়েই। কুশল পেরেরার উদ্বোধন সঙ্গী মুনাভিরাকেও সাজঘরের রাস্তাটা সাকিবই দেখিয়েছেন। থারাঙ্গা আর কাপুগেদারার মাঝে দেয়াল হয়ে মাহমুদুল্লাহর পকেটে পুরেছেন লঙ্কান কাপ্তানকে। এরপর দ্য ফিজের জোড়া উইকেটে ম্যাচ শেষের অনেক আগেই শ্রীলঙ্কা ছিটকে যায় ম্যাচ থেকেই থিসারা পেরেরা আর কাপুগেদারার জমে ওঠা জুটিটা ভেঙ্গে দিয়ে মঞ্চে আবার আবির্ভুত হন সাকিব আল হাসান।
শেষ ম্যাচ, আর কখনও বল হাতে দৌড়াবেন না টি-টোয়েন্টির আঙ্গিনায়। মাশরাফি তো পারেন না সে ম্যাচে উইকেটশূন্য থাকতে। সেকুগে প্রসন্নার উইকেট তাই উড়েছে, উড়িয়েছেন মাশরাফি। শেষ বলটা করে আম্পায়ারের হাত থকে ক্যাপটা নিয়ে ফিরেছেন ফিল্ডিংয়ে। মুস্তাফিজ সাইফুদ্দিনরা এদিন আর জিতে উল্লাসে ফেটে পড়েননি।
যে অধিনায়ক এতদিন আগলে রেখেছেন নিজের বুকে সে বুকেই একে একে মিরাজ, মোসাদ্দেক, তাসকিন, শুভাশীষরা বুক মিলিয়ে হয়তো বলেছেনই 'ধন্যবাদ ক্যাপ্টেন, ধন্যবাদ'। আর নিজের পরবর্তী অধিনায়ক হিসেবে সাকিব আল হাসানকে কেন পছন্দ মাশরাফির, ৩৮ রান আর ৩ উইকেটের সাথে পুরো দল সামলিয়ে বড় ভাইয়ের আস্থার প্রতিদানও দিয়ে দিয়েছেন কোশিকের সেই ছোটভাই ফয়সাল।
জিতেছে বাংলাদেশ, জয় হয়েছে মাশরাফির। প্রিয় অধিনায়কের বিদায় বেলায় সাকিবরা-মিরাজরা দেখিয়েছে, চাইলেই পারি আমরা। এখানেই হয়তো স্বান্তনা খুঁজে পাবেন মাশরাফি। আমি না থাকলেও পারবে আমার অনুজরা!
সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ
বাংলাদেশঃ ১৭৬/৯ (২০ওভার) সাকিব আল হাসান ৩৮, ইমরুল কায়েস ৩৬। লাসিথ মালিঙ্গা ৩/৩৪
শ্রীলঙ্কাঃ ১৩১ (১৮ ওভার) কাপুগেদারা ৫০। মুস্তাফিজুর রহমান ৪/২১, সাকিব আল হাসান ৩/২৪
ম্যান অফ দ্যা ম্যাচঃ সাকিব আল হাসান
সিরিজঃ ১-১ ব্যবধানে সমতা।
