নাহিদুলের চোখ ধাঁধানো বোলিংয়ে অল্পতেই আটকে গেল চট্টগ্রাম
নাহিদুলের চোখ ধাঁধানো বোলিংয়ে অল্পতেই আটকে গেল চট্টগ্রাম
নাহিদুলের চোখ ধাঁধানো বোলিংয়ে অল্পতেই আটকে গেল চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের জন্য এটি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচ হলেও খুলনার কেবল শুরু। এনামুল হক বিজয় বিপিএলে অধিনায়কত্বের অভিষেকে টসে জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তার দলের বোলাররাও ছিলেন দারুণ ছন্দে। বিশেষ করে স্পিনার নাহিদুল ইসলাম দেখালেন চোখ ধাঁধানো বোলিং। ৪ ওভারে নাহিদুল দিলেন মাত্র ১২ রান, উইকেট নিলেন ৪টি। আগে ব্যাট করে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স করে কেবল ১২১ রান। তাও শেষবেলায় শহিদুল ইসলামের খেলা ৪০ রানের ক্যামিও ইনিংসে কল্যাণে।
পাওয়ার-প্লেতে নাহিদুল যেন আনপ্লেয়েবল। নতুন বলে বোলিং করার অভ্যাসটা তার পুরোনোই। অধিনায়ক বিজয়ও শুরু করালেন তাকে দিয়েই। প্রথম ওভারে দিলেন কেবল ১ রান, পাঁচ ডট। নিজের পরের ওভারেই পেলেন উইকেটের দেখা। এরপর আরও তিনটি উইকেট দখলে নেন নাহিদুল। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে নাহিদুলের বোলিং ফিগার রীতিমতো চোখ ধাঁধানো। ৪-০-১২-৪! অনেকটা যেন ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতো। নাহিদুলের এমন দুর্দান্ত দিনে উড়ছে তার দলও। তার এমন অনবদ্য স্পিন শো'তে নাজেহাল হয়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স আটকে গেল ১২১ রানে।
আগের ম্যাচের মতোই ওপেনিং জুটি চট্টগ্রামকে দিতে পারেনি স্বস্তি। পুরো টপ অর্ডারই হয়েছে ব্যর্থ। আগের ম্যাচে তানজিদ তামিম ব্যর্থ হলেও দাপট দেখিয়েছিলেন আভিষ্কা ফার্নান্দো। আজ অবশ্য আভিষ্কাই ফিরেছেন দ্রুত। নাহিদুল ইসলাম ইনিংসের শুরুর ওভারে খরচ করেন কেবল ১ রান। নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে পেয়েছেন জোড়া শিকার। ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি হাঁকানো আভিষ্কা পরের বলে হয়েছেন স্টাম্পড। তিনে নামা ইমরানউজ্জামান ফিরলেন গোল্ডেন ডাক হয়ে। নাহিদুল জাগিয়েছিলেন হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা। কিন্তু শাহাদাত হোসেন দিপু নাহিদুলকে এই কীর্তি গড়তে দেননি। পরের ওভারে ওশানে থমাস এসে তানজিদ তামিম ও দিপুর সামনে খরচ করে যান মোট ১৯ রান। নাহিদুল নিজের কোটার তৃতীয় ওভারে এসে দখলে নেন আরও এক উইকেট। এবার লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে বিদায় করেন ১৯ রানে থাকা তানজিদ হাসান তামিমকে। রিভিউ নিয়েও উইকেট বাঁচাতে পারেননি তামিম। এক নাহিদুল ইসলামের স্পিন বিষে নীল হয়ে ৩২ রানে ৩ উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। চরম বিপাকে পড়া দলটি আগের ম্যাচের অনুপ্রেরণা নিয়ে শাহাদাত দিপু ও নাজিবউল্লাহ জাদরানের ব্যাটে লড়াইয়ের চেষ্টায় ছিল। গেল দিন শতরানের জুটি গড়লেও এদিন বেশিদূর দলকে নিতে পারেননি তারা। দলীয় রান ৫০ পার হওয়ার পরই নাসুম আহমেদের বলে বোল্ড হয়ে ব্যক্তিগত ৬ রানে সাজঘরের পথে হাটেন দিপু। অধিনায়ক শুভাগত হোমও দলের জন্য বেশি কিছু করতে পারেননি। দিপুর বিদায় নেওয়ার পরের ওভারেই খুলনার পাকিস্তানি অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফকে খেলতে গিয়ে এলবিডাব্লিউ হয়ে ফেরেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক। ৪ বল খেলে করেন কেবল ২। নিজের শেষ ওভারে নাহিদুল পান বড় উইকেট। এবার ক্যাচ তুলে ফিরলেন ২৪ রান করা নাজিবউল্লাহ জাদরান। ৪ ওভার শেষে তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৪-০-১২-৪'তে। মিরপুরে নাহিদুলের ওমন 'অবিশ্বাস্য' বোলিংয়ের কৃতিত্ব আসলে নাহিদুলেরই। নাহিদুলের বুদ্ধিমত্তার, নাহিদুলের দক্ষতার।এরপর ক্যারিবীয় পেসার ওশানে থমাস পান উইকেটের দেখা। কুর্টিস ক্যাম্ফার ব্যক্তিগত ৭ রানে হয়েছেন বোল্ড। আর তাতেই শেষ হয়ে যায় চট্টগ্রামের বড় রানের আশা। নিজের শেষ ওভার করতে এসে ফাহিম আশরাফ পান জোড়া উইকেটের দেখা। ওভারের তৃতীয় বলে নিহাদুজ্জামানের উইকেট নিয়ে শেষ বলে স্টাম্প ভাঙেন বিলাল খানের। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে এদিন ব্যাট হাতে দাপট দেখাতে থাকেন শহিদুল ইসলাম।
শেষবেলায় শহিদুলের খেলা ৩১ বলে ৪০ রানের ইনিংসের কল্যাণেই চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স পায় ১২১ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ।
