বিপিএলের আরও এক হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ। জ্বলে ওঠলেন ফরচুন বরিশালের স্থানীয় ক্রিকেটাররা। আগের ম্যাচ মুশফিক যেখানে শেষ করেছেন, আজ যেন সেখান থেকেই শুরু করলেন। নতুন ম্যাচে দেখা গেল সেই পুরানো মুশফিককে। মাঝে তাণ্ডব চালিয়ে গেলেন সৌম্য সরকার। পুরো ইনিংস জুড়ে দাপট দেখিয়ে মুশফিক খেলে যান ৬৩ রানের অতি সুন্দর এক ইনিংস। যা খুলনার বিপক্ষে ম্যাচের কার্বন কপি বললেও ভুল হবে না। আর তাতেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সামনে ১৬২ রানের লক্ষ্য।
গতরাতে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ৬৮ রানের হার-না-মানা ইনিংস খেলা মুশফিক আজ করেছেন ৬৩। ৪৪ বলে যা সাজান ৬ চার ও দুই ছক্কায়। ফরচুন বরিশালের ইনিংস থামে ৯ উইকেটে ১৬১ রানে। তারকা ক্রিকেটারে ভরপুর দুই দল। টস জিতলেন লিটন দাস, সিদ্ধান্ত নিলেন আগে করবেন বোলিং। অধিনায়ক লিটনের আস্থার পূর্ণ প্রতিদান প্রথম ওভারেই দিলেন স্পিনার তানভীর ইসলাম। গ্লোডেন ডাক বানিয়ে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজকে।তিনে নামা প্রিতম কুমার ৮ রানের বেশি করতে পারেননি। তামিম ইকবালও ফিরে যান প্রথম পাওয়ার প্লের মধ্যেই। রোস্টন চেজ পরপর দুই ওভারে এই দুই উইকেট নিজের দখলে নেন। ৪৩ রানে ৩ উইকেট হারায় ফরচুন বরিশাল। এরপর সৌম্য সরকারকে নিয়ে মুশফিক গড়েন ৬৬ রানের অনবদ্য পার্টনারশিপ। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে রীতিমতো ঝড় তুললেন অভিজ্ঞ মুশফিক। সাথে সঙ্গী হিসাবে পেলেন সৌম্য সরকারকে। মুশফিকের দেখানো পথেই সৌম্য। গতকাল দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউটে কাটা পড়লেও আজ আর সে ভুল করেননি সৌম্য। ব্যাট হাতে চার-ছয়ের বন্যা বইয়ে দেন মিরপুর হোম অব ক্রিকেট। দারুণ ছন্দে থাকা সৌম্য হঠাৎই মনোযোগ হারান। ফিজের স্লোয়ার ইয়র্কারে স্টাম্প হারানোর আগে ৩১ বলে খেলে যান ৪২ রানের ইনিংস। যা সাজানো ছিল ৪ চার ও ২ ছক্কায়। শোয়েব মালিক এদিন ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ। তার উইকেটের পুরোটাই পাকিস্তানিদের দখলে। খুশদিল শাহর বলে লং অফে দাঁড়িয়ে ক্যাচ লুফে নেন আরেক পাকিস্তানি মোহাম্মদ রিজওয়ান। আগের দুই ম্যাচে ১৭* ও ৫* রানে অপরাজিত থাকলেও ৬ বল খেলে ৭ করেন মালিক। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। পরের ওভারেই রিয়াদ নেন বিদায়। ম্যাথু ফর্ডের স্লোয়ার শর্ট বলে টাইমিং ঠিকঠাক করতে না পারা রিয়াদ শর্ট ফাইনে মুস্তাফিজের হাতে হয়েছেন দুর্দান্ত এক ক্যাচের শিকার। উইকেট হারিয়ে নিজেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না রিয়াদ।মুস্তাফিজের পরের ওভারে বাউন্ডারির হ্যাটট্রিক করে ৩৫ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন মুশফিক। এরপর যেন মুশফিক হয়ে ওঠেন আরও ভয়ংকর। এরমাঝেই দুনিথ ওয়েল্লালাগে প্যাভিলিয়নের পথে হাটেন ব্যক্তিগত ৪ রানে। আব্বাস আফ্রিদিকে নিয়ে দলের সংগ্রহ বড় করার চেষ্টা চালান অভিজ্ঞ মুশফিক। শেষপর্যন্ত মুশফিক থামেন ৬৩ রানে। ফরচুন বরিশালের ইনিংস থামে রানে ১৬১ রানে। ইনিংসের শেষ ওভারে ৮ রান খরচায় মুশফিক ও আব্বাস আফ্রিদির উইকেট তুলে নেন মুস্তাফিজ। এর ফলে ৪ ওভারে ৩২ রানের বিনিময়ে মুস্তাফিজের ঝুলিতে মোট ৩ উইকেট।