মায়ের্সের আক্ষেপ থাকলেও মুশফিক পেয়েছেন ঝড়ো ফিফটি

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ: messages.not_available আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
মায়ের্সের আক্ষেপ থাকলেও মুশফিক পেয়েছেন ঝড়ো ফিফটি

মায়ের্সের আক্ষেপ থাকলেও মুশফিক পেয়েছেন ঝড়ো ফিফটি

মায়ের্সের আক্ষেপ থাকলেও মুশফিক পেয়েছেন ঝড়ো ফিফটি

বিপিএলে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা কাইল মায়ের্স দুই রানের আক্ষেপে পুড়েন। কিন্তু মুশফিকুর রহিম এই ভুল করেননি, ৩০ বলে পেয়েছেন এবারের আসরে তার তিন নম্বর পঞ্চাশের দেখা। টপ অর্ডারের কেউ বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও মায়ের্স-মুশফিক জুটিতে ৮৪ রান করে বরিশালের ইনিংস টেনে নিয়ে যান। আর তাতেই ফরচুন বরিশাল সিলেটের সামনে টার্গেট ছুড়ে দেয় ১৮৪ রানের। ৪ ওভারে ৪৮ রান খরচ করলেও সিলেটের পেসার তানজিম সাকিব শিকার করেছেন ৩ উইকেট। 

ফিনিশিংয়ে আজ ব্যর্থ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তবুও সিলেটকে ১৮৪ রানের বড় টার্গেট দিল বরিশাল। শেষ ৪ ওভারে বরিশাল করতে পারে কেবল ৩৪ রান। ২ ছক্কায় মিরাজ ৭ বলে ১৫ করলেও রিয়াদ অপরাজিত থাকেন ১২ বলে ১২ রানে। 
আরও একবার টস ভাগ্য তামিম ইকবালের পক্ষে আসে। যথারীতি আগে ব্যাট করতে নামে ফরচুন বরিশাল। ইনিংসের প্রথম ডেলিভারিতেই দারুণ এক ড্রাইভে বাউন্ডারি পেয়ে যান তামিম। এরপর তিন বল ডট দিয়ে পরের বলে সিঙ্গেল নেন বরিশালের অধিনায়ক। এই ওভারে আরিফুল হক খরচ করেন ৬ রান। বরিশালের আরেক ওপেনার আহমেদ শেহজাদও তার ইনিংসের শুরুটা করেছিলেন দারুণভাবে। তবে সিলেটের তরুণ পেসার তানজিম সাকিব শেহজাদকে বেশিক্ষণ দাপট দেখাতে দেননি। আগের দুই বলে দুই বাউন্ডারি হাঁকানো শেহজাদ পরের বলেও একই চেষ্টা করেন। তবে এবার আর সফল হতে পারেননি, সহজ ক্যাচ বানান রায়ান বার্লের হাতে। ১৭ রান করা শেহজাদকে ফিরিয়ে সাকিবের মধুর প্রতিশোধ। ২৩ রানে ভাঙে বরিশালের উদ্বোধনী জুটি। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগে বিদায় ঘটে তামিম ইকবালেরও। ইনিংসের প্রথম বলে বাউন্ডারি হাঁকানো তামিম এরপর রীতিমতো ধুঁকতে থাকেন। নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে আসা তানজিম সাকিব দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন তামিমকে। লফটেড খেলতে এগিয়ে এসে বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন তামিম। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে ১৯ রান আসে ১৮ বলে। সৌম্য সরকার এদিন প্যাভিলিয়নে ফেরত যান দ্রুতই। হ্যারি টেক্টরের বলে ক্যাচ তোলার আগে ৮ বল খেলা সৌম্য ৮ রানের বেশি করতে পারেননি। দলীয় ৬৫ রানে ৩য় উইকেট হারায় ফরচুন বরিশাল। টপ অর্ডারকে দ্রুত হারানোর ধাক্কা সামলে নেন কাইল মায়ের্স ও মুশফিকুর রহিম। মায়ের্স শুরুতে দেখে-শুনে ব্যাট চালালেও থিতু হয়ে খেলেছেন দারুণ সব স্ট্রোক্স। এবারই প্রথম বিপিএল খেলতে আসা মায়ের্স সঙ্গী হিসাবে পান অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে। ব্যক্তিগত ৩৩ রানে অবশ্য বেনি হাওয়েলের বলে মায়ের্সের ক্যাচ মিস হয়। এরপর দলের রানের চাকায় বাড়ান গতি। তানজিম সাকিব নিজের তৃতীয় ওভার করতে এসে খরচ করেন ১৫ রান। মুশফিক-মায়ের্সের ব্যাটিং তাণ্ডবে ১৬ ওভারে বরিশালের স্কোরবোর্ডে চলে আসে ১৪৯ রান। বিরতির পরের বলেই মায়ের্সের বিদায়। বিপিএল অভিষেকে কেবল দুই রানের জন্য মিস করেন ফিফটি। ফেরার আগে কাইল মায়ের্স ৪৮ রান করেন ৩১ বলে। এই ইনিংস খেলতে ৩ টি করে ছয় ও চার হাঁকান বরিশালের এই ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার। সিলেটের একাদশে সুযোগ পাওয়া শফিকুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন দলকে। ভাঙে ৪৮ বলে মুশফিক-মায়ের্সের গড়া ৮৪ রানের জুটি। মায়ের্স খুব কাছে গিয়ে ফিফটি মিস করলেও মুশফিকুর রহিম ঠিকই ছুঁয়েছেন পঞ্চাশ। মাত্র ৩০ বলে মুশফিক ফিফটি উদযাপনে মাতেন। এটি এবারের বিপিএলে মুশফিকের তৃতীয় ফিফটি রানের ইনিংস। পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর অবশ্য রান আউটের শিকার হন। ৩২ বলে ১৬২ স্ট্রাইক রেটে এদিন মুশির সংগ্রহে ৫২ রান। দ্রুতই দুই সেট ব্যাটারকে হারিয়ে বসে ফরচুন বরিশাল। এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন মিলে ইনিংস শেষ করে আসেন। ইনিংসের শেষ ওভারে তানজিম সাকিবের তৃতীয় শিকারে পরিণত মেহেদী হাসান মিরাজ। ৭ বলে ১৫ করে মিরাজ হন বোল্ড। ১২ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ফরচুন বরিশাল পায় ১৮৩ রান।